২১৫ রানের লজ্জার এক হার

February 10, 2018, 1:35 AM, Hits: 540

২১৫ রানের লজ্জার এক হার

হ-বাংলা নিউজ : প্রতিপক্ষের জন্য পাতা ফাঁদে ঘরের মাঠের দলই কাতরাচ্ছে- ক্রিকেটে এমন দৃশ্য কমই আছে। বিরলও বলা যায়। সেই বিরল দৃশ্যের বিরহকাতর মঞ্চায়নই হলো মিরপুরে। যেখানে ভুক্তভোগী দলের নাম বাংলাদেশ। বল হাতে দাপুটে শুরু করা বাংলাদেশ মিরপুর টেস্টে শোষিত এক দলের নাম। লঙ্কান সাম্রাজ্যের দেয়ালের ধুলোর প্রলেপে নূন্যতম আঘাত হানার দৃষ্টান্তও দেখাতে পারলো না বাংলাদেশ। আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে মেনে নিতে হলো ২১৫ রানের লজ্জার এক হার।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যে চূড়ান্ত আত্মনিবেদন দরকার, সেটা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একেবারেই দেখা গেল না। সবাই উইকেটে গেলেন আর ফিরলেন। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হয়ে থাকল মুমিনুল হকের করা ৩৩ রান! ৩৩৯ রানের টপকানোর মিশনে ১২৩ রানেই প্যাকেট বাংলাদেশ। আড়াই দিনেই শেষ পাঁচদিনের টেস্ট! শ্রীলঙ্কা সিরিজ জিতে নিলো ১-০ ব্যবধানে। মুচকি হাসি হেসে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন তামিম-মুশফিকদের সাবেক গুরু চান্দিকা হাতুরুসিংহে।

১১০ রানে প্যাকেট হয়ে প্রথম ইনিংসেই ১১২ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ঠিক তখনই ম্যাচ জয়ের হাতিয়ার মিলে যায় শ্রীলঙ্কার। মিরপুরের এমন মৃত্যুকূপ উইকেটে ২২২ রান তুলতে যে লড়াইটা করতে হয় শ্রীলঙ্কাকে, সেখানে ১১২ রানের লিড মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতোই ছিল। লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ হলো ২২৬ রান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে ৩৩৯ রানের লক্ষ্য। যেটা আসলে লক্ষ্য ছিল না, বাংলাদেশের কাছে মরিচিকার মতেই মনে হয়েছে হয়তো।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বিপক্ষেই ছিল। এই মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড ইংল্যান্ডের দখলে। সেটা মাত্র ২০৯ রানের। মিরপুরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চেজ ১০০/৭, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হলে মিরপুরের রেকর্ড বদলাতে হতো বাংলাদেশকে। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসও লিখতে হতো নতুন করে। ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্যে খেলতে নেমে কখনই টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। 

৩০০ বা তার বেশি লক্ষ্য পাড়ি দেওয়া তো দূরের পথ, ২৫০ বা তার চেয়ে বেশি রানের টার্গেট মিলেছে; এমন ২২টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি তেই হেরেছে বাংলাদেশ। বাকি পাঁচটি ম্যাচ যে ড্র হয়েছে, সেটা হয় সময় স্বল্পতা আর না হয় বৃষ্টির কল্যাণে। ২১৭ রান টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। এর পরেরটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ১৯১ রানের। সেখানে ৩৩৯ রানের লক্ষ্য ব্যাটিং শুরুর আগেই বাংলাদেশকে মাঝ দরিয়ায় ফেলে দিয়েছিল। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমেও তেমনই অবস্থা হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের। 

১১০ রানে অলআউট হওয়া প্রথম ইনিংসের সঙ্গে খুব একটা তফাৎ দেখা যায়নি। শুরু থেকেই বেজে ওঠা ভাঙনের সুরে গলা মিলিয়েছেন বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যান। যেন সুইসাইড স্কোয়াডে নাম লিখিয়েছিলেন তামিম, ইমরুল, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা। ঘরের মাঠেও নূন্যতম লড়াইয়ের ছিটেফোটাও দেখা গেল না। দুই ইনিংস মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে করা ২২২ রানের চেয়ে ১১ রান বেশি করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩৩। অথচ চট্টগ্রাম টেস্টে দুই সেঞ্চুরিতে মুমিনুল হক একাই করেছিলেন ২৮১ রান। 

৩৩৯ রানের লক্ষ্য। সেটা জয় করতে উইকেটে গেলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাজঘরে তামিম। পতনের শুরু এখান থেকেই। আর থামেনি ভাঙনের সুর। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল ও মুমিনুল হক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন। সেটাও দীর্ঘ হলো না। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় ফিরলেন ইমরুল। যদিও তাদের গড়া এই ৪৬ রানের জুটিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ হয়ে থাকল।

সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেলা মুমিনুলও এরপর আর উইকেট টিককে পারেননি। লিটন কুমার দাস ১২ টপকাতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম থেমেছেন ২৫ রান করে। এরপর একে একে ফিরে গেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৬), সাব্বির রহমান (১), মেহেদী হাসান মিরাজ (৭), আব্দুর রাজ্জাক (২) ও তাইজুল ইসলাম (৬)। বাংলাদেশকে ১২৩ রানে বেঁধে ফেলতে কান্ডারির ভূমিকায় ছিলেন শ্রীলঙ্কার দুই স্পিনার। অভিজ্ঞ রঙ্গনা হেরাথ চারটি ও আকিলা ধনঞ্জয়া পাঁচটি উইকেট নেন। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ