খালেদা জিয়ার সাজা বাকি ২ বছর ৮ মাস ২১ দিন

February 10, 2018, 7:25 AM, Hits: 126

খালেদা জিয়ার সাজা বাকি ২ বছর ৮ মাস ২১ দিন

হ-বাংলা নিউজ :জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাকি রয়েছে তিন বছরেরও কম। এই মামলায় পূর্বে কারাগারে থাকায় সাজার পরিমাণ কমবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

২০০৭ সালে ৩ সেপ্টেম্বর পুত্র তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এক বছর কারাগারে থাকার পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তিনি। এ সময় তিনি ১ বছর ৮ দিন কারাগারে থাকেন। এই সময়টা দণ্ডাদেশ পাওয়া সাজা থেকে বাদ যাবে। এ ছাড়া জেলকোড বিধান অনুযায়ী, বছর হিসাব করা হয় ৯ মাসে। এতে আগে কারাগারে থাকার সময় বাদ দিলে বাকি সাজা দাঁড়ায় ২ বছর ৮ মাস ২২ দিন। এরই মধ্যে একদিন হলো খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে প্যারেড মাঠে স্থাপিত পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, এ মামলায় পূর্বে সাজা খাটায় খালেদা জিয়াকে জেলে থাকতে হবে ৩২ মাস ২২ দিন। অর্থাৎ ৩ বছরেরও কম। কারণ জেল কোডের বিধান অনুযায়ী, ৯ মাসে এক বছর গণনা করা হয়। সে হিসাবে তাকে দুই বছর আট মাস ২২ দিন কারাগারে থাকতে হবে।

সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ মামলায় এক বছর আট দিন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন।

তিনি বলেন, ‘ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়া যেহেতু এ মামলায় আগেও ১ বছর সাজা খেটেছেন তাই মূল সাজা থেকে তা বাদ যাবে। এজন্য ৫ বছর নয়, তাকে সাজা খাটতে হবে ৩২ মাস ২২ দিন।’

১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এতিমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। একই বছরের ১৩ নভেম্বর তার ত্রাণ তহবিল থেকে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্য চার আসামি হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক। এর পর ২৫ জানুয়ারি বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ