অবশেষে স্থগিত হল ডিপোর্টেশন, আমেরিকায় অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মিলল অধ্যাপক জামালের

February 11, 2018, 1:02 AM, Hits: 5718

অবশেষে স্থগিত হল ডিপোর্টেশন, আমেরিকায় অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মিলল অধ্যাপক জামালের

 হানিফ সিদ্দিকী ,হ-বাংলা নিউজ,হলিউড থেকে:   

ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরেও ইমিগ্রেশন জাজের নির্দেশ মোতাবেক আমেরিকা ত্যাগ না করে পরিবারের সংগে থেকে যাবার অভিযোগে বিগত ২৪শে জানুয়ারি সকালে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ICE (Immigration and Customs Enforcement) কতৃর্ক গ্রেফতার হয়ে ডিটেনশানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সৈয়দ জামাল আহমদের ভাগ্যে অবশেষে জুটল আমেরিকায় অস্থায়ী অনুমতি।অতি সম্প্রতি আমেরিকার অন্যতম জাতীয় টিভি চ্যানেল এনবিসি নিউজ(চ্যানেল ৪ )-কে দেয়া এক বিবৃতিতে ICE জানিয়েছে , জনাব জামালের ইমিগ্রেশন কেসটি পুন: চালু করার মোশন নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আমেরিকায় থাকার অনুমতি প্রদান করেন এক ফেডারেল ইমিগ্রেশন জাজ ।

মিসৌরি অংগরাজ্যের পার্ক ইউনিভার্সিটির রসায়নের অধ্যাপক জনাব জামাল(৫৫)-এর আইস কর্তৃক গ্রফতার হয়ে ডিটেনশান প্রাপ্তির ঘটনাটি আমেরিকার মূলধারার প্রায় সব টিভি চ্যানেল, পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয় । ফলে সুনামের সহিত শিক্ষকতায় সম্পৃক্ত এই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অধ্যাপকের প্রতি ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের আমেরিকানদের সহানুভূতি জন্মায় এবং তাঁর মুক্তি ও তাঁকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়ার স্বপক্ষে প্রবল জনমত গড়ে ওঠে । এমনকি এর অংশ হিসেবে তাঁর পক্ষে Change.org নামের একটি অনলাইন পিটিশনও খোলা হয় যাতে এ পর্যন্ত প্রায় আটান্ন হাজার স্বাক্ষর সংগৃহীত হয় । একই সংগে তাঁর পরিবার যাতে তাঁর জন্য আইনগত লড়াই চালিয়ে যেতে পারে তজ্জন্য Gofundme নামে একটি ফান্ড গঠিত হয়, যে ফান্ডে সতের হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ সংগঠিত হয় । ধারণা করা হচ্ছে , সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা ও জনমতের চাপে এবং তাঁর কোনপ্রকার ক্রিমিন্যাল রেকর্ড না থাকায় সর্বোপরি তাঁর এটর্ণির জোরালো ভূমিকা পালনের রেশ ধরে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আদালত আপাতত: নমনীয় হয়ে তাঁর প্রতি সদয় হন এবং তাঁকে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মন্জুর করেন ।

তাঁর এটর্ণী শর্মা ক্রফোর্ড বলেন, আদালত সাময়িক অনুমতি দিয়েছেন তাঁকে এদেশে থাকার । তবে এটাও বা কম কিসে । নাই মামার চেয়ে কানা মামাতো ভাল । তাছাড়া এই কেস কবে রিওপেন হবে , তারপর নানা ধাপ পেরিয়ে কবে কোন বছর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে যাবে তাতো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না । ততদিনতো আদালতের আদেশে তিনি নিশ্চিন্তে এদেশে থাকতে পারছেন ।পরিপাটি ভদ্রলোক ও স্থানীয় বাংলাদেশী কম্যুনিটির সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে স্বীকৃত জনাব সৈয়দ জামাল আহমেদের আমেরিকায় জন্ম নেয়া দুই পূত্র ও এক কন্যা সন্তান হয়েছে যাদের হয়স যথাক্রমে ১৪,১২ এবং ৭ । উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি সকালে জনাব জামাল তাঁর ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে পৌঁছে দেবার জন্য ক্যানসাস অংগরাজ্যের লরেন্স শহরে তাঁর বাড়ি থেকে বাইরে আসা মাত্র আগে থেকে অপেক্ষমান আইস- এর এজেন্টরা বাড়ির লন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ডিটেনশান সেন্টারে ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে মিসৌরীর ডিটেনশান সেন্টার থেকে সরিয়ে টেক্সাস অংগরাজ্যের একটি ডিটেনশান সেন্টারে এনে রাখা হয়েছে যেখান থেকে তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে আইস । ধারণা করা হচ্ছে যে কোন সময় মুক্তি পেয়ে আপন গৃহকোণে আপন পরিবারের সান্নিধ্যে ফিরে যাবেন ।তাঁর গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ইতিপুর্বে এই প্রতিবেদকের আরেকটি রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে হলিউড থেকে প্রকাশিত ফেসবুক ভিত্তিক পত্রিকা প্রবাসে স্বদেশ ও হলিউড থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা হলিউড বাংলা নিউজ. কম-এ ।

(প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি ) : জনাব জামালের পরিবার ও এনবিসি নিউজের সৌজন্যে

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ