লস এন্জেলেসে অমর একুশের পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠান আছে কিন্তু নেই একুশের বইমেলা !

February 18, 2018, 12:11 AM, Hits: 1287

লস এন্জেলেসে অমর একুশের পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠান আছে কিন্তু নেই একুশের বইমেলা !

হানিফ সিদ্দিকী,হ-বাংলা নিউজ,হলিউড থেকে:বাংলাদেশী  কম্যুনিটিতে গ্রুপিংভিত্তিক রেষারেষির কারণে বিগত বছরগুলোর মত এ বছরও লস এন্জেলেসে বাংলাদেশী অধ্যুষিত “ লিটল বাংলাদেশ “ ও তার অনতিদূরে কমপক্ষে চারটি জায়গায় এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা অমর একুশের আলাদা অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে । প্রত্যেক গ্রুপই নিজেদের আলাদা অনুষ্ঠানের স্বপক্ষে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জোরেশোরে । কিন্তু একুশের চেতনার ফসল যে বইমেলা , তা বৃহত্তর লস এন্জেলেসের কোথাও আয়োজনের ব্যাপারে কোন উদ্দ্যোগ নেই কোন পক্ষের কাছ থেকে । ফলে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে নিজ মাতৃভাষায় বই পিপাসুদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা । বিভিন্ন মাধ্যমে কম্যুনিটির কিছু সদস্য তাদের বই তৃষ্ণা এবং সেই তৃষ্ণা মেটাতে না পারার হতাশা ব্যক্ত করেছেন ।

উল্লেখ্য, আমেরিকায় সবচেয়ে বাংলাদেশী অধ্যুষিত নগরী নিউইয়র্কে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠির উদ্দ্যোগে দু একটি বইমেলা আয়োজিত হয় । সে সব মেলা জমেও বেশ যা আমরা পত্র পত্রিকার কল্যাণে দেখতেও পাই । কিন্ত আমেরিকার ও বাংলাদেশী অধ্যুষিত দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হওয়া সত্বেও হলিউডখ্যাত লস এন্জেলেস অন্য সময়েতো নয়ই , অমর একুশেকে কেন্দ্র করেও কোন বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় না । ফলে এখানকার বাংলাদেশী কম্যুনিটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সরাসরি সান্নিধ্যে না আসতে পেরে সাংস্কৃতিক মনন গঠণের সুযোগ থেকে বন্চিত হয় । নিউইয়র্কে মুক্তধারাসহ ছোটবড কয়েকটি প্রকাশনার সংস্খার নিজ:স্ব শপ থাকলেও লস এন্জেলেসে এরকম কিছুই নেই । ফলে সারা বছর ব্যাপী সময় সুযোগমত বই কেনার কোন উপায়ই বই পিপাসুদের নেই ।

এ প্রসংগে বহু বছর ধরে লস এন্জেলেসে স্বপরিবারে বসবাসরত একজন বাংলাদেশী বলেন , আমাদের দুই সন্তান না হয় এদেশে জন্মেছে । কিন্তু আমরা স্বামী স্ত্রীতো বাংলাদেশে জন্মেছি । লেখাপড়ার পাট ওখানেই চুকিয়েছি । আমরা দুজনই বরাবর বইপ্রেমী । আমরা বিশ্বাস করি বই হল জ্ঞানের ভান্ডার । কিন্তু লস এন্জেলেসে আসার পর থেকে বাংলাভাষার বইয়ের স্টোর কিংবা বইমেলার অনুপস্হিতিতে আমাদের মনের খোরাক ও নিজ ভাষায় জ্ঞানের খোরাক মিলছে না । দশ বছর ধরে এল. এতে পরিবারসহ বসবাসরত অন্য এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক বলেন, আমার ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই হাই স্কুল লেভেলে এদেশে এসেছে । তাদের মাতৃভাষা বাংলা । দেশে থাকতে তারা প্রচুর না হলেও মোটোমুটি ভালই বই পড়ত । কিন্তু এখানে আসার পর থেকে বাংলা বইয়ের দোকান, বইমেলা ইত্যাদির সুযোগ ও পরিবেশের অভাবে বাংলা ভাষার সংগে তাদের বন্ধন ক্রমশ: শিথিল হয়ে যাচ্ছে । এরকম পরিস্থিতিতে তাদেরকে বাংলাদেশী মনস্ক করে ধরে রাখবো কিভাবে ? এসব ভাবা ও উদ্দ্যোগ নেবার জন্য সত্যিই কি এল.এ-তে কেউ নেই ?

লস এন্জেলেসের মত ব্যস্ত ও ব্যয়বহুল নগরে এককভাবে বইমেলা আয়োজন একাধারে কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ কাজ । তবে দুই বা ততোধিক উদ্দ্যোক্তা বা সংগঠন মিলে যৌথভাবে সবকিছু শেয়ার করতে পারে বলে অনেক কম্যুনিটি সদস্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ।

যত বছর গড়াচ্ছে, লস এন্জেলেসে বাডছে বাংলাদেশী কম্যুনিটির বহর । সেই বহরে বিগত দুতিন বছরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশে প্রকাশনা জগতের সংগে সুদীর্ঘ সময় ধরে সম্পৃক্ত এবং সুপরিচিত কিছু ব্যক্তিবর্গ । কমযুনিটির প্রত্যাশা এসব অভিজ্ঞ বিদগ্ধজনদের হাত ধরে আগামি বছরগুলোতে ছোট আকারের হলেও জমজমাট বইমেলা লস এন্জেলেসে নিয়মিতভাবে হবে । 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ