লসএঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল অফিসে মহান একুশের অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ভিতর ও বাহির

February 27, 2018, 10:15 PM, Hits: 3051

লসএঞ্জেলেস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল অফিসে মহান একুশের অনুষ্ঠানে হট্টগোলের ভিতর ও বাহির

নাহিদ হাসান রুবেল ,হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে: 

লস এঞ্জেলেস সহ সারা মার্কিন মুল্লুকে বাঙ্গালী কমুউনিটিতে আলোচনায় রয়েছে কনস্যুলেট জেনারেল লস এঞ্জেলেস অফিসে মহান একুশের অনুষ্টানে অপ্রীতিকর ন্যাক্কারজনক এক ঘটনা।যে ঘটনার ভাইরাল ভিডিও ঘুরপাক খাচ্ছে ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল ডিভাইস মোবাইল ফোনে ফেসবুকের কল্যানে।একজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ভাই ভিডিওটি ভাইরাল করলেন তার নিজস্ব সংবাদ পেজের মাধ্যমে।হ্যাঁ অবশ্যই এটা তার সাংবাদিকতার নীতিগত দায়িত্ব।যদিও বা ভিডিওটির শুরুর অংশ এডিট করা হয়েছে কিংবা কভারেজ নিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে ঘটনা সূত্রপাতের শুরুটা ভিডিও তে নেই।আমার প্রশ্ন হলো যখন আমি সাংবাদিক হিসেবে আমার নৈতিকতার প্রশ্নে ভিডিওটি ভাইরাল করলাম আমার কি উচিত ছিলনা কেনও কি কারণে ঘটনাটি ঘটল তার আদ্যোপান্ত ভিডিওটির সাথে তুলে ধরা?যাতে করে সাধারণ জনগন ভিডিওটি দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে বুঝতে সক্ষম হয় আসলে সেখানে কি হয়েছিল।দোষী ব্যক্তি যেই হোক না কেনও তার মুখোশ উন্মোচনে।নাকি কোনও ব্যক্তি বা দলের উপর দোষ চাপাতেই ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা হয়েছে?একজন ক্ষুদ্র সাংবাদিক হয়ে শ্রদ্ধার সাথে প্রশ্ন রাখতে চাই এটা কি আপনার নীতিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা?যদিও বা বেশ কয়েকটি পত্রিকায় কিছুটা সত্যের আলোকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক পর।ততক্ষনে একটি দল বা গোষ্টীর ইজ্জত মারা শেষ।প্রশ্ন করতে চাই তাদের যে সকল শ্রদ্ধেয় সাংবাদিকবৃন্দ ভিডিওটি শেয়াল করলেন স্হানীয় আওয়ামীলীগ দলীয় কোন্দলের বিস্তারিত তুলে ধরলেন আর যে কারণে ঘটনাটি ঘটল কনস্যুলেট অফিসে সেই সত্যটি কেনও চেপে গেল

আসল ঘটনায় যাওয়া যাক কি হয়েছিল কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে?

বক্তব্যে সুযোগ না দেয়াকে কেন্দ্র করে কনস্যুলেট জেনারেলের অনুমতি সাপেক্ষে সিটি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাকির খান উপস্হিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মুস্তাইন দারা বিল্লাহ ও ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযাদ্ধা মিয়া আব্দুর রব কে প্রশ্ন রেখে বলেন কেনও তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলোনা তার কি কোনও অবদান নেই এই আওয়ামীলীগে?মুস্তাইন দারা বিল্লাহ দাড়িয়ে জাকির খানের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের উওর দেন তার নিজের মত করে।জাকির খানকে প্রশ্ন করা হলো আপনি খুশি কি না?জাকির খান তার চেয়ারে বসে উওর দিলেন দারা ভাইয়ের উওরে আমি খুশি না।কোনও উত্তেজনা ছিলনা কিছু হওয়ার মত পরিবেশও ছিলনা।সবাই চুপচাপ যার যার অবস্হানে বসে ছিলেন।হঠাৎ করেই মুস্তাইন দারা বিল্লাহর পার্শ্বের সিট থেকে দাড়িয়ে পড়লেন সোহেল রহমান বাদল।কে এই সোহেল রহমান বাদল কমবেশি সবাই আমরা তাকে চিনি।যাইহোক আসল কথায় ফিরি,সোহেল রহমান বাদল দাড়িয়ে জাকির খানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে যায় কারন তাকেও সুকৌশলে বক্তব্য থেকে বাদ দেয়া হয়।পরিস্হিতি যাতে ঘোলাটে না হয় সেইজন্য যুবলীগের এক কর্মি তাকে থামতে বলেন।যুবলীগ কর্মি বলা শেষ করতে না করতেই বক্তব্য দিতে না পারা ক্ষুব্ধ সোহেল রহমান বাদল যুবলীগ কর্মির দিকে তেড়ে আসেন অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন।যা ভিডিও ক্লিপের কল্যানে ইতিমধ্যে সবাই শুনেছেন।শুধু একবার নয় অনেকবারই সোহেল রহমান বাদল গালিটা দিয়েছেন সেই যুবলীগ কর্মিকে।আর সেখানেই পরিস্হিতি অশান্ত হয়ে উঠে।সোহেল রহমান বাদলের উপর চড়াও হয় যুবলীগ কর্মীরা অকারনে গালিটা শোনার জন্য।কিন্তু কোনও কিছু ঘটার আগেই কমুউনিটি লিডার মমিনুল হক বাচ্চু সোহেল রহমান বাদলকে কনস্যুলেট অফিস থেকে বের করে নিয়ে আসেন।


ধন্যবাদ সুপ্রিয় সুশীল সমাজ আপনারা যারা ঘটনার আদ্যোপান্ত জেনে অথবা না জেনে ভাইরাল ভিডিওর উপর আপনাদের সুশীল মনোভাব ব্যক্ত করে মন্তব্য করেছেন প্রশ্ন রাখতে চাই আপনি কি করতেন এমন একটি গালি যদি আপনাকে দেয়া হতো?নিশ্চয় চুপচাপ বসে থাকতে পারতেন না যেটা আমি পারি নাই কারণ আমি আমার মৃত বাবা মার ঔরসজাত সন্তান।আমার বাবা মাকে নিয়ে গালি দিলে অন্তত আমি চুপ থাকার ব্যক্তি না।


ধন্যবাদ সুপ্রিয় বিরোধী দল সমর্থক বন্ধুরা আপনারা যারা ফুর্তিতে লাফালাফি করে লাগামহীন মন্তব্য  করছেন বিরোধিতা করার স্বার্থে অথবা ভিডিওটি শেয়ার করছেন নিজেদের জনসমর্থন বাড়াতে আপনাদের কাছেও একই প্রশ্ন রাখলাম আপনারা কি করতেন যদি আপনার বাবা মাকে তুলে গালিটা দেয়া হত?নিশ্চয় চুপচাপ বসে থাকতেন না যেটা আমিও পারি নাই কারণ আমি আমার বাবা মার ঔরসজাত সন্তান।আমার বাবা মাকে গালি দিয়ে কথা বললে আমি আপোষ করার ব্যক্তি নই।যেই গালিটা হজম করতে পারিনি বলেই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয় সেখানে।যেখানে মারামারিও হয়নি কাটাকাটিও হয়নি।যা হয়েছে সেটা অবশ্যই কাংখিত ছিলনা বা হওয়া কোনওভাবেই উচিত না।এই ঘটনার পরপরই জনাব সোহেল রহমান বাদল তার ভুল বুঝতে পেরে যুবলীগের সকল নেতাকর্মের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।এবং যুবলীগের নেতাকর্মির সংঙ্গে সোহেল রহমান বাদলের কোনও বিভেদ নেই।


আপনারা যারা এই ভিডিওটিকে কাজে লাগিয়ে উল্টা পাল্টা মন্তব্য করছেন দলীয়ভাবে একটা দলকে হেয় করতে(কাউয়ালীগ,মুরগীলীগ,অমুকলীগ,তমুকলীগ) তাদের জ্ঞাতার্থে আবারও বলতে চাই এটা সম্পূর্ণ একটা অরাজনৈতিক ঝামেলা ছিল?যেটা ব্যক্তি বিশেষকে অশালীন ভাষায় গালাগালিকে কেন্দ্র করে হয়েছে।তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি সেটা বিবেচ্য ছিলনা।স্বীকার করতেই হবে ঝামেলাকৃত ব্যক্তিবর্গ সবাই কোনও না কোনও ভাবে আওয়ামীলীগের সঙ্গে যুক্ত।স্থানীয় আওয়ামীলীগে গ্রুপিং আছে সত্য কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় আওয়ামীলীগে আমার জানামতে এমন অঘটন ঘটতে দেখিনি।একে অপরের নামে নালিশ আর পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে তাদের গ্রুপিং।বুকে হাত দিয়ে কেউ কি বলতে পারবেন বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের গ্রুপিং নেই কোথায়?স্থানীয় বিএনপিতে প্রকাশ্য দুটি গ্রুপ বিদ্যমান।যাদের নেত্রী জেলে যাওয়ার পরেও বিবাদমান গ্রুপিং এর উর্ধে উঠে একত্রিত হয়ে শক্ত একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারল না।যতটুকু প্রতিবাদ দেখেছি খন্ড খন্ড ভাবে ৫-৭ জন নেতাকর্মি কে সাথে নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে ২-৫টা শ্লোগান দেওয়া আর গল্প গুজবে সময় কাটিয়ে লোক দেখানো প্রতিবাদ সভা আর রেস্টুরেন্টে বসে চা নাস্তা পান করে প্রতিবাদ সভার নামে গল্প গুজব করা।নিশ্চয় বুঝতে বাকি নেই বিএনপির বিদ্যমান গ্রুপিং কোন পর্যায়ে অবস্হান করছে এই লস এঞ্জেলেসে অথচ সেইসব বিবাদমান গ্রুপের নেতাকর্মির মন্তব্য  দেখে মনে হচ্ছে ওনারা একদম ধোয়া তুলসী পাতা।দল ক্ষমতায় থাকলে নেতৃত্বের লড়াই থাকতেই পারে আর যে কারনে স্হানীয় আওয়ামীলীগের এই বিভক্তি।

কমুউনিটির নেত্রী স্হানীয় নেত্রীবৃন্দকে প্রশ্ন রাখতে চাই বুকে হাত দিয়ে কেউ কি বলতে পারবেন নিজেদের ভিতরে পদ পদবী কোন্দলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কি বেহাল দশা চলছে লস এঞ্জেলেসে।উল্লেখ করতেই পারি হিন্দু সোসাইটির চারভাগে বিভক্তি।আরো উল্লেখ করা যেতে পারে যেখানে সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেস ক্লাবের বিপরীতে পাল্টা প্রেস ক্লাব গঠন হয়।সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠনের কথা কি আর বলব যেখানে একটার বদলে আরেকটির আবির্ভাব হয় নিত্যনতুন।হাতে গোনা দুই একটি সংগঠন বাদে কেমন চলছে প্রবাসী বাঙ্গালী কমুউনিটির সংগঠনগুলি কমবেশি আমাদের সকলেরই জানা।খুবই সাম্প্রতিক ঘটনা যদি তুলে ধরি মহান একুশ পালন স্হানীয়ভাবে আমার জানামতে চারটি জায়গাতে অনুষ্টিত হয়েছে।অথচ কমুউনিটির পক্ষ থেকে সম্মিলিত একুশ পালনের উদ্দোগ নেয়া হলেও কমুউনিটি কি পেরেছে সম্মিলিত একুশ পালন করতে?কেনও এই বিভক্তি বলতে পারবেন কি কেউ?আমি সম্মিলিত একুশের একটি অনুষ্টানে উপস্হিত ছিলাম স্বচক্ষে দেখে এসেছি কতজন লোকের উপস্হিতি ছিল সেখানে।বিভক্তির কোন পর্যায়ে আছে এই কমুউনিটি তা স্পষ্টই বোঝা যায় যখন দেখি অনেক জাতীয় অনুষ্টানও ঘরের ভিতরে ঘরোয়া ভাবে করা হয়।


অবাক হয়ে যাই তখন যখন দেখি ব্যক্তি বিশেষের ঝামেলাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টায় অনেকেই নিমজ্জিত আছেন। ঘটনার আদ্যোপান্ত জেনে অথবা না জেনে ঘটনার পেছনের ঘটনা জেনে অথবা না জেনে যা মন খুশি তাই মন্তব্য করলাম আর নিজেকে একজন সচেতন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলাম।

যদি তাই হতো তাহলে কয়েকটি ঘটনা সামনে নিয়ে আসতে চাই:-

(১)এই তো কয়দিন কমুউনিটি লিডার মমিনুল হক বাচ্চুকে নিয়ে অকথ্য ভাষা আর কটাক্ষ করে রাজাকার বানিয়ে দেয়া হল বারবার যা এখনো করা হচ্ছে হাতে গোনা কয়জন মানুষ ছাড়া দেখলাম না তো এইসব বিবেকবানদের বিবেক জাগ্রত হতে।

(২)একের পর একেক ব্যক্তিকে নিয়ে এই কমুউনিটির কিছু নোংড়া মন মানুষিকতার মানুষ বিভিন্নভাবে হেয় করার চেষ্টায় নিমজ্জিত আছে কই দেখিনা তো আপনাদের বিবেক জাগ্রত হচ্ছে।হাসি আর ঠাট্টায় পার হতে দেখছি সেইসব নোংড়ামিগুলোকে।

(৩)এইতো কয়দিন আগে কনস্যুলেট অফিসে যুবলীগের বিতর্কিত একটি কমিটির আহবায়ক মমিনুল হক বাচ্চুকে রাজাকার বলে গালি দেয়াতে হট্টগোল হয়েছিল তার বিরুদ্ধে আপনাদের বিবেক কোথায় ঘুমিয়ে ছিল।

(৪)লস এঞ্জেলেসের প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মিটিংএ চেয়ার তুলে মারামারির ঘটনায় আপনাদের বিবেক কি জাগ্রত হয়েছিল?

(৫)অনেক দিন আগের এক ঘটনা একটি সংগঠনের অনুষ্টানে বাংলাদেশ থেকে আগত সংগীত শিল্পী রুমি যুদ্ধঅপরাধীর দায়ে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলা কয়েকজনকে নিয়ে গান পরিবেশন করায় একটি সংগঠনের লোকজন সেই শিল্পীকে মঞ্চ থেকে টেনে হিচড়ে নামাতে গিয়েছিল সেইদিন কি আপনাদের বিবেক জাগ্রত হয়েছিল?


এই কমুউনিটির সচেতন মানুষজন জেগে উঠেছে এটা সুন্দর একটা কমুউনিটি গঠনে জোড়ালো ভূমিকা রাখবে অবশ্যই।এই ঘুম থেকে জাগা যেন এখানেই শেষ না হয় জাগ্রত থাকুক সবসময়।


তাই আশা করব আমরা সবাই সত্য ও সঠিক তথ্যটি জেনে সত্য ঘটনার আলোকে দোষী ব্যক্তি বা গোষ্টীকে জড়িয়ে নিজেদের মূল্যবান মন্তব্য করি যাতে করে আপনার আমার গঠনমূলক সেই মন্তব্য এই কমুউনিটি গঠনে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে।এই কমুউনিটি আপনার আমার সবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।যেখানে অন্যায় সেখানেই না বলুন অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ