লস্ এঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাকে অপসারনের দাবী

April 16, 2018, 3:48 PM, Hits: 4662

লস্ এঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাকে অপসারনের দাবী

হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে: ক্যালিফোর্ণিয়ার লস্ এঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা কর্তৃক দ্বীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অনৈতিক আচরন ও স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপে তার প্রতিবাদ উঠেছে লস্ এঞ্জেলেসের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে।  তার কৃত্তিকলাপ যেন খুনি মোস্তাক ও মীর জাফরকেও হার মানিয়ে দেয়।

গত বছর ক্যলিফের্ণিয়া আওয়ামীলীগের সম্মানিত সাধারন সম্পাদক ডা: রবি আলম দ্বীর্ঘ প্রচেষ্টার পর লস্ এঞ্জেলেসে প্রথম বারের মত শেখ কামাল স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেন।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন।  বিনয়ী ও সরল বিশ্বাসী এবং সকলের প্রিয় ডা: রবি আলমের সরলতার সুযোগ নিয়ে লস এঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে নিয়ে শেখ কামাল টুর্নামেন্ট বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হন।   শেখ কামাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে বিতর্কিত করতে স্বাধীনতা বিরোধীদের দিয়ে একই দিনে পাশাপাশি আরেকটি ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেন।   শুধু তাই নয়, মাননীয় জিয়াউদ্দীনকে বিতর্কিত করার জন্য সেই বিতর্কিত ক্রিকেট অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে জামাতের শীর্ষ নেতাদের সাথে দাড় করিয়ে ছবি তুলে তা স্বাধীনতা বিরোধীদের অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করে তাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করা হয়।

প্রটোকল দেয়ার নাম করে সবসময় রাষ্ট্রদূতের পাশে থাকলেও জামাত নোতাদের সাথে ছবি তোলার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার বাইরে ছিলেন।   নিচের ছবিই তা প্রমান করে।


তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের আশ্রয়দাতা, স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির ও যুদ্ধপরাধীদের আশ্রয় ও সম্মধর্ণাকারী সংগঠনের অফিরে গিয়ে ও তাদের সমাবেশে যোগদান এবং সর্বশেষ ১৫ই আগষ্ট এর শোক দিবস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে তাদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবার বিরোধী বক্তব্য ও ফুল দেয়।  এমনকি গত ২৫শে মার্চ ২০১৭ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কাল রাত্রিতে কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা বাফলা কর্তৃক আয়োজিত নাচ-গান অনুষ্ঠানের বেলুন উড়িয়ে উদ্ভোধন করে শহীদদের প্রতি অবমাননা ও সরকারকে জনগনের নিকট বিব্রতকর করার এক অশুভ খেলায় মেতে উঠেছিলেন।   নিচের ছবি তা প্রমান করে।   

অন্যদিকে কনস্যুলেট অফিসের ১৫ই আগষ্টের শোক সভায় স্বাধীনতা বিরোধীদের বক্তব্য দিতে দেওয়ায় অনেক আওয়ামী নেতা কর্মী প্রিয়তোষ সাহার উপর ক্ষোভ প্রকাশের এক পর্যায়ে প্রিয়োতষ সাহা আওয়ামীলীগের ত্যাগী এক নেতাকে (সাবেক যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক খান) অনুষ্ঠান স্থল থেকে বের করে দেন, যা আওয়ামীলীগ পরিবারের জন্য সম্মানহানিকর।   কনসাল জেনারেলের ধারাবাহিক জামাতপ্রীতির কারনে আওয়ামী পরিবার হুমকির সম্মুক্ষিন।  গত কিছুদিন আগে কনস্যুলেট অফিসের এক অনুষ্ঠানে শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের দিয়ে বক্তব্য দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা রব মিয়া ক্ষোভ প্রকাশকরেন।


তার হিংস্র থাবা থেকে  বাদ পরেনি তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।   প্রিয়তোষ সাহা তার অধিনস্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে চাকরের মত ব্যবহার করেন যা অনেক সময় অফিসের বিভিন্ন কাজে আগত সাধারন জনগনের চোখেও ধরা পড়েছে।  সভ্য দেশে থেকেও অসভ্য আচরন সাধারন মানুষ্যত্যতো দুরের কথা তার অফিসের কর্মকর্তা অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন অযুহাতে অফিস থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।   শুধু তাই নয় তার বিদায়ের পূর্বে মহিলা কর্মকর্তাকে সুকৌশলে জামাত শিবিরিকে অফিসে ডেকে তার উপস্থিতিতেই মহিলা কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও অপমান করান যা বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছে।  নিচের ছবিতে এর প্রমান।

এছাড়াও ডেপুটি কনসাল জেনারেল কাজী আনারকলিকে অপদস্থ করার জন্য প্রিয়োতস সাহা গৃহকর্মী নিখোজের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায়া ছাপিয়ে শুধু তাকেই ছোট করেনি বরং এতে দেশও ছোট হয়েছে।   কথিত ঐ সাংবাদিকরা তার বডিগার্ডের মতো সব জায়গায় তার সাথে গিয়ে মিথ্যা খবর প্রচার করেন যা কমিউনিটির সকলেরই জানা। বর্তমান কনসাল প্রিয়তোষ সাহা লস্ এঞ্জেলেসে আসার পর থেকেই আওয়ামীলীগ সহ সকল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র লিপ্ত যা ভাল মানুষেরই কাম্য নয়।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কনসাল অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী তার অপকর্ম ও নির্যাতনের বিবরন দিতে গিয়ে কন্নায় ভেঙে পরেন।  এছাড়াও কমিউনিটিতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে যা লিকে প্রকাশ করা যাবে না।


গত বছর বাংলাদেশ থেকে লস্ এঞ্জেলেসে এসেছিলেন দুইজন প্রবীন মন্ত্রী (অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী) আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে শত চেষ্ঠা করেও আওয়ামীলীগের ব্যানারে মন্ত্রীকে সম্মর্ধনা দেওয়া যায় নাই।   তার অন্যতম কারন কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার ষড়যন্ত্র।   তার এই হীন ষড়যন্ত্রের কারনে মন্ত্রী মহোদয়ের সম্মর্ধনা দেয়া হয় আওয়ামী বিরোধী ব্যানারে যা আওয়ামী পরিবারকে ধ্বংস ও প্রশ্নবিদ্ধ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।   তার ফলশ্রুতিতে মন্ত্রীদের সামনে হাতাহাতি ও এক পর্যায়ে মারামারির মত ঘটনাও ঘটেছে।  নীচে এর কিছু চিত্র তুলে ধরা হল:


সম্প্রতি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী ও সরকার বিরোধীরা কনস্যুলেট অফিসে গিয়ে সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্মারকলীপি দিতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পক্ষে অবস্থান নেন যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।   বিশ্বস্য সূত্রে জানা যায় তিনি লস্ এঞ্জেলেসে স্থায়ীভাবে বসবাস ও সহজে বিত্তশালী হওয়ার জন্য স্বাধীনতা ও সরকার বিরোধী বিত্তবানদের সাথে তার সখ্যতা।   সরকার বিরোধীদের খুশী করার জন্য আইনি ব্যবস্থাতো দুরের কথা তিনি তাদেরকে শুধু কনস্যুলেট অফিসের সামনে নয়, অর্ভ্যর্থনারুমে নয় দুইটি কক্ষ পার হয়ে স্বয়ং কনসাল জোনারেলের কক্ষে গিয়ে সরকার বিরোধী ব্যানার সহ ছবি তোলা এবং শ্লোগান দেয়ার সুযোগ করে দেন।   প্রমানের জন্য নীচে ছবি সংযোগ করা হল।   

পত্রিকায় এসব খবর ছাপানোর পরে আওয়ামী পরিবারে নেতা কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান এবং এসবের জন্য কনসাল জেনারেলকেই দায়ী করেন।  বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে পরের দিন এসব ঢাকার জন্য কনসাল জেনারেল কিছু কাউয়া (হাইব্রীড) আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়ে নাটকীয়ভাবে পুলিশ রিপোর্ট করে নতুন নাটকের জন্ম দেন।


কনসাল জেনারেলের ধারাবাহিক অপকর্মের ফসল ফলে কনস্যুরেট অফিসের এবারের একুশের অনুষ্ঠানে মারামারিসহ চরম বিশৃংখলার মধ্য দিয়ে।   যা অনলাইন ও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   প্রমান হিসেবে কিছু ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বছর লস্ এঞ্জেলেসে আওয়ামী পরিবার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারন জনগনের ব্যানারে  মোট চারটি একুশের এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপিত হলেও তাকে দাওয়াত দেওয়া সঙ্গেও একটি অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হননি।   গত বছর লিটল বাংলাদেশ সার্বজনীনভাবে বিজয় বহর অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রচুর বিদেশী অতিথি থাকা সত্তেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেননি।বরং তিনি ভারতীয় নাচের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।    এজন্য বিজয় বহরের কর্তৃপক্ষ তীব্র সমালোচনা করেছেন।


এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি কেউ প্রশ্ন তুলে বা প্রতিবাদ করেন তাহলে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিংবা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনির নিযোগপ্রাপ্ত লোক বলে লোকজনকে ভয় দেখান।   তিনি এও বলেন আমি কনসাল জেনারেল যা খুশী তাই করব আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেন না।   এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারী ঘটিত বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান্ডাল শুনা যাচ্ছে যা হয়তো শীঘ্রই খবরের কাগজে শিরোনাম হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।


কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার এহেন ও চরমপর্যায়ের কার্যকলাপের কারনে তাকে অপসারন এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন এখন ক্যালিফোর্ণিয়া লস্ এঞ্জেলেসের আপামর জনগনের তথা বাংলাদেশের কমিউনিটির সকলের দাবী এবং এ দাবী বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একটি অভিযোগ নামা প্রেরন করা হয়েছে।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ