কানাডার টরন্টোতে গাড়ি হামলায় হতাহত বেশির ভাগই নারী

April 26, 2018, 6:05 AM, Hits: 261

কানাডার টরন্টোতে গাড়ি হামলায় হতাহত বেশির ভাগই নারী

হ-বাংলা নিউজ :   কানাডার টরন্টোতে গত সোমবার গাড়ি হামলার ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী। প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ থেকে পুলিশ ধারণা করছে, নারীবিদ্বেষ থেকে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন সন্দেহভাজন হামলাকারী অ্যালেক মিনাসিয়ান (২৫)।

গত মঙ্গলবার সকালে মিনাসিয়ানকে টরন্টোর আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা জাম্পস্যুট। মাথা কামানো আর হাত পিছমোড়া করা। তাঁর মধ্যে কোনো ভাবাবেগ দেখা যায়নি। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা ও ১৩টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই হামলায় ১০ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা পর্যালোচনার পর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলার সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। জামিনের শুনানির জন্য আগামী ১০ মে তাঁকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।

হামলার ঘটনার প্রধান তদন্তকারী গ্রাহাম গিবসন বলেন, হামলার শিকার বেশির ভাগই নারী। তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৮০ বছর। তিনি বলেন, ভরদুপুরে টরন্টোর ব্যস্ত রাস্তায় পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার কিছু সময় আগে মিনাসিয়ান ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে দুর্বোধ্য ভাষায় একটি বার্তা আছে।

মিনাসিয়ান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এলিয়ট রজার (২২) নামের এক ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন। আর লিখেছেন, ‘ইনসেল বিদ্রোহ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা সব চ্যান ও স্টেসিসকে উৎখাত করব।’ আর এগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়েই অনেকটা কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার দশা হয়েছে। মিনাসিয়ান যাঁর প্রশংসা করেছেন, সেই এলিয়ট রজার ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলা ভিসতায় গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন। তিনি ছিলেন ভীষণ রকমের নারীবিদ্বেষী। মৃত্যুর আগে এক ভিডিওতে তিনি বলে যান, নারীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি হতাশ ছিলেন। নিজের নিঃসঙ্গতার জন্য সব নারীকে শাস্তি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি।

অ্যালেক মিনাসিয়ান

অ্যালেক মিনাসিয়ান

‘ইনসেল’ শব্দটি আসলে ‘ইনভলান্টারি সেলিবেটস’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘অনিচ্ছাকৃত কুমার’। অর্থাৎ, এ মতবাদে বিশ্বাসী পুরুষেরা নারীর সঙ্গে স্বাভাবিক রোমান্টিক সম্পর্কে জড়াতে চান। কিন্তু নারীদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা নারীবিদ্বেষী হয়ে পড়েন। এই বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটান নারীর প্রতি নানা সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তাঁদের ভাষায়, নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সফল পুরুষেরা হলেন ‘চ্যান’। আর যেসব নারী-পুরুষদের প্রত্যাখ্যান করেন, তাঁদের ‘স্টেসিস’ বলা হয়।

বিদ্বেষপ্রসূত ঘৃণা নিয়ে কাজ করা সাদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে বলেছে, ২০১৪ সালে নিহত এলিয়ট রজার একজন স্বঘোষিত ইনসেল ছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করা ইনসেলের সংখ্যাও কম নয়। অনলাইনে প্রায় ৪০ হাজার ইনসেলের একটি গ্রুপ আছে। তাঁরা রজারকে ‘সেরা ভদ্রলোক’, ‘সাধু’, ‘নায়ক’ ও ‘ভাই’ বলে ডাকেন। তাঁর সব সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তাঁরা বিশ্বব্যাপী পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী আর নারীবিদ্বেষী। তাঁরা নারীর প্রতি গভীর সন্দেহ পোষণ করেন। নারীদের অপমান করে আনন্দ পান। নিজেদের যৌনজীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার দায় নারীদের ওপর চাপিয়ে স্বস্তি খোঁজেন। তাঁরা নারীকে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার পক্ষে সাফাই গান।

মিনাসিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। কানাডার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেসিকা লামিরান্ডে এ ব্যাপারে বলেন, গত আগস্টে মিনাসিয়ান সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছিলেন। তবে বনিয়াদি প্রশিক্ষণের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অ্যালেক মিনাসিয়ান তাঁর বাবার সঙ্গে টরন্টোর উপশহর রিচমন্ড হিলে থাকতেন। পুলিশ গত মঙ্গলবার তাঁর বাড়ি তল্লাশি করেছে। তাঁর সঙ্গে কারিগরি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা কয়েকজন বলেন, মিনাসিয়ান বেমানান ছিলেন। তাঁর সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক ক্লাসে পড়া আরি ব্লাফ নামের একজন সিবিসিকে বলেন, তাঁর আচরণ ছিল খুবই অদ্ভুত। তবে সহিংস কিছু করতে পারেন—এমন কিছু তিনি কখনো দেখেননি। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ