কনসাল প্রিয়তোষ সাহার নগ্ন থাবা থেকে বাদ পরেনি তার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

May 3, 2018, 3:25 AM, Hits: 2547

কনসাল প্রিয়তোষ সাহার নগ্ন থাবা থেকে বাদ পরেনি তার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে: গত ১১ই এপ্রিল লসএঞ্জেলেসবাসী মাননীয় রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন এবং লসএঞ্জেলেস কনসুলেট অফিসের সামনে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় লসএঞ্জেলেসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ র‌্যালী হচ্ছে এবং হবে প্রিয়তোষ সাহা অপসারন না হওয়া পর্যন্ত। তার একের পর এক সরকার ও জনগনবিরোধী কার্যকলাপে লসএঞ্জেলেসে আওয়ামী পরিবারসহ সকল সংগঠনে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে যা এর আগে কখনই দেখা যায়নি। গোপন খবরের ভিত্তিতে জানা গেছে কনসাল প্রিয়তোষ সাহা গত এপ্রিলের ১৬ তারিখ অফিস করার কথা থাকলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তিনি অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার জন্য দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে থেকে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হাতেপায়ে ধরে কিভাবে লসএঞ্জেলেসে থাকা যায় তার চেষ্টা করে এবং প্রতিবাদকারী অনেকের সাথে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। 

তার অন্যায়ের উপযুক্ত প্রমানসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অভিযোগ করায় প্রতিবাদকারীরা সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সিন্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। জানা গেছে গতকাল তিনি বাংলাদেশ থেকে লসএঞ্জেলেসে ফিরেই তার অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারীর মিথ্যা খবর পত্রিকায় ছাপিয়ে তাকে হেনস্থা করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন যা কখনই লসএঞ্জেলেসবাসী এবং সরকার মেনে নেবে না। প্রিয়তোষ সাহা কিছুদিন আগেও এক মহিলা কর্মকর্তাকেও অন্যায়ভাবে হেনস্থা করে অফিস থেকে বিতারিত করেছেন। এসব কারনে এখন লসএঞ্জেলেসবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে যা হয়তো একসময় বিক্ষোভে রূপ নিতে পারে, তার প্রমাণ গত কয়েক সপ্তাহে কনসুলেট অফিস সহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ। 

প্রিয়তোষ সাহা লসএঞ্জেলেসে আসার পর গত দুই বছরে হিন্দু কমিউনিটি, আওয়ামী পরিবারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে বিভক্তি ও দন্দ্ব চরমে। পত্রিকাসহ সাধারণ জনগণ ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির অভিযোগ বিভক্তির জন্য একমাত্র কনসাল প্রিয়তোষ সাহাই দায়ী। তার সর্বশেষ নগ্ন থাবার শিকার তারই অফিসের এক কর্মকর্তা। তাতে সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এখন তার অফিসের মধ্যে গ্রুপিং চরমে এবং তার জন্য দায়ী একমাত্র প্রিয়তোষ সাহা। 

শোনা যাচ্ছে নিজের স্ত্রী ছাড়া প্রবাসে বসবাসকারী কনসাল তার নিজের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী ঢাকতে এখন তার অফিসেই কর্মরত আরেকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাতানো মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এছাড়াও কনস্যুলেট অফিসের গত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের একজন শীর্ষ ত্যাগী, আওয়ামীলীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন দুর্দিনের কান্ডারী ও সর্বক্ষেত্রে সফল নেতার উপর হামলার অপচেষ্টার পেছনে এবং গত একুশের অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামীলীগের আরেকজন ত্যাগী সিনিয়র নেতা ও সাবেক যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্নিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহেল রহমান বাদলের উপর সন্ত্রাসী হামলার পেছনে কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

দলের জন্য নিঃস্বার্থ এই নেতা বিভিন্ন সময় আওয়ামীলীগের গ্রুপিং থাকায় পদপদবী নিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ডিসি থেকে ওসি হয়েছেন। ত্যাগী এই নেতার বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে আওয়ামীলীগ দলের জন্য কাজ করে যাব এখানে বড় বা ছোট পদ বলে কোন কথা নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে থাকা এই নেতা বলেছেন দলের প্রয়োজনে যে কোন পদে থাকতে আপত্তি নেই। 

গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনুরোধে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যবুলীগের দায়িত্ব নিয়ে দলের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য ক্যালিফোর্নিয়া যুবলীগ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগই গঠন করতে পারে। পর পর দুইবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় স্বার্থের জন্য কিছু অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী পরিবারে ঢুকে পরেছে। কনসাল প্রিয়তোষ সাহা এখন লসএঞ্জেলেসের কিছু অনুপ্রবেশকারীকে দিয়ে কনসাল অফিস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে বিদেশে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরী হচ্ছে। কনসাল প্রিয়তোষ সাহার অনুরোধে গতকাল লসএঞ্জেলেস এয়ারপোর্টে তার কর্মচারীদের সাথে কয়েকজন অনুপ্রবেশকারীকে দেখা গেছে। এছাড়াও কনাসালের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে যা তদন্ত সাপেক্ষে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ