ক্ষমতায় বসেই বিশ্বকে অস্ত্র দেখাবেন পুতিন

May 9, 2018, 5:51 AM, Hits: 276

ক্ষমতায় বসেই বিশ্বকে অস্ত্র দেখাবেন পুতিন

হ-বাংলা নিউজ :  বিজয় দিবসে আজ বুধবার মস্কোর রেড স্কয়ারে নতুন ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শনী করবে রাশিয়া। চতুর্থ মেয়াদে ছয় বছরের জন্য ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই এ সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর খবর পাওয়া গেল। এর আগে গত সোমবার শপথ নেওয়ার সময় পুতিন প্রতিজ্ঞা করেন যে রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালী করা হবে। গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া পুতিন এবার তাঁর সামরাস্ত্র বিশ্বকে দেখাবেন।

এর আগে রাশিয়া একটি ডুবোজাহাজ তৈরির কথা বলেছে, যার নাম পুজেইদন বা স্ট্যাটাস-৬। পারমাণবিক বোমাটি সাগরের তলদেশে বিস্ফোরিত হলে প্রায় ৩২৮ ফুট উঁচু সুনামি তৈরি করতে পারে। সাবমেরিনটির বিধ্বংসী ক্ষমতা আর তেজস্ক্রিয়তা শুধু একটি দেশ নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।

১৮ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকা পুতিন ২০২৪ পর্যন্ত রাশিয়া শাসন করবেন। ৬৫ বছর বয়সী পুতিনের সময়কে অনেকেই জারের শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ৭৩তম বার্ষিকীর উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ সামরিক বাহিনীর মহড়ায় সমরাস্ত্র প্রদর্শনী হবে। সিএনএন, তাস ও স্পুতনিক ইন্টারন্যাশনালের খবরে যে অস্ত্রগুলোকে বিশ্ব ওই দিন দেখবে, তার বিবরণ হলো—

এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান

সুখোই এসইউ-৫৭ নামের যুদ্ধবিমান রাশিয়ার নিজস্ব তৈরি। পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটারগুলো ২০১০ সালের প্রথম আকাশে ওড়ে। তবে দুই ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমানের রাশিয়ার বিমানবাহিনীতে এখনো অভিষেক হয়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরি বারিসভের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম তাস বলেছে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ায় পর্যবেক্ষণমূলক দুটি এসইউ-৫৭ পাঠানো হয়েছে। এসইউ-৫৭ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলে এটিই হবে প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ এবং এফ-৩৫, চীনের জে-২০ ও রাশিয়ার এসইউ-৫৭ একই ধরনের যুদ্ধবিমান।

কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিমান। ছবি: সংগৃহীত

কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিমান। ছবি: সংগৃহীত

কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র

রাশিয়ার নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনঝাল নামে পরিচিত। গত সপ্তাহে সামরিক কুচকাওয়াজে এটি প্রথম দেখানো হয়। এ বছরের ১ মার্চ কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উদ্বোধন করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এটি শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতিসম্পন্ন। অ্যান্টিব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধেও এটি অধিক কার্যকর। এ ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক বোমা বহনেও সক্ষম। 

গত সপ্তাহে তাসের এক প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরি বারিসভকে উদ্ধৃত করে বলা বলেন, ‘কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি দীর্ঘ সীমার ক্ষেপণাস্ত্র, যা বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম। এটি অপরাজেয় এবং যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য মোকাবিলা অধিক কার্যকর।

ওয়াইআরএস আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াইআরএস আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াইআরএস আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র

ওয়াইএআরএস আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি এসএস-২৭ নামে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালিয়েন্স (এমডিএএ) বলেছে, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ১২ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানার ক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। এমডিএএ বলছে, রাশিয়ার হাতে এসএস-২৭ আছে ৭৩টি। এগুলো বড় আকারের পারমাণবিক বোমা, রাসায়নিক বোমা বহন করতে পারবে। ওয়াইএআরএস আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন লক্ষ্য ক্রমানুসারে আঘাত হানতে সক্ষম, প্রধানত বানানো হয়েছে পারমাণবিক বোমা বহন করার জন্যই।

আরমাটা ট্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

আরমাটা ট্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

আরমাটা ট্যাংক

রাশিয়া সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে আরমাটা টি-১৪ যুদ্ধট্যাংকটি প্রকাশ্য আনে। আরমাটাও এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমানের মতো রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের সামরাস্ত্র। রাশিয়া এখন পর্যন্ত যতগুলো ট্যাংক তৈরি করেছে, সেগুলোর মধ্যে টি-১৪ সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও ধ্বংসাত্মক ট্যাংক। ওজনে হালকা এবং স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় যেকোনো পরিস্থিতিতে আরমাটা ট্যাংক তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। রাশিয়া তার বাহিনীতে ২০২০ সালের মধ্যে ১০০টি আরমাটা ট্যাংক যুক্ত করবে বলে তাসের এক খবরে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, টি-১৪-এ রয়েছে ১২৫ মিলিমিটারের স্মুথবোর আনম্যানড অটোলোডিং ক্যানন।

এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র

রাশিয়ার এস-৪০০-কে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তবে কোনো কোনো সামরিক বিশেষজ্ঞ এস-৪০০ অ্যান্টি-বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রকে প্যাট্রিয়টের চেয়ে অধিক কার্যকরী মনে করেন। প্যাট্রিয়টের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে পারে এস-৪০০। এই সিস্টেম স্টেলথ, সেমি স্টেলথ, বোমারু বিমান, ড্রোন, দ্রুতগতির জেট ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংসে সহায়তা করবে। এ ক্ষেপণাস্ত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের বিমান এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করে দিতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে সিরিয়া এবং ক্রিমিয়ায় এস-৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা আছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্ট (এমডিপি) বলছে, রাশিয়ার এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র চীন ও ভারতের কাছে বেশ মূল্যবান বলে বিবেচিত। দেশ দুটি এগুলো কিনতেও আগ্রহী। গত বছরে তুরস্ক এবং সৌদি আরব এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে বলে বিশ্বের অনেক গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র বাক। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র বাক। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র বাক

বাক-এম-২ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালিত মধ্যম সারির একটি মিসাইল। এটি রাশিয়ার বিমানবাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়েছে। রাশিয়ান সংবাদমাধ্যমের খবরে এর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাক-এম-২ ২৫ কিলোমিটার উচ্চতায় বা ভূমি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে একই সঙ্গে অনেকবার আঘাত হানতে সক্ষম। ২৪টি লক্ষ্যমাত্রায় টার্গেট রাখতে পারে এই বাক-এম-২। ২৪টি লক্ষ্যের মধ্য থেকে চারটিকে জ্বালিয়ে বা ধ্বংস করে দিতে পারে বাক-এম-২। স্বয়ংক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল ও সাগরে তার লক্ষ্যর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭৬ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পুতিন। ২০০০ সালে প্রথমবার এবং ২০০৪ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। একটানা দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট না থাকার বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ২০০৮ সালে নিজের সহচর দিমিত্রি মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী করে তাঁর অধীনে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন পুতিন। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের নির্বাচিত হন তিনি। চলতি বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ছয় বছর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে পুতিন হয়তো এমন অনেক কিছুই করবেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ