বাফস ও ৬৬ প্রিসেন্ট কমিউনিটি কাউন্সিলের আয়োজন

May 11, 2018, 1:37 AM, Hits: 309

বাফস ও ৬৬ প্রিসেন্ট কমিউনিটি কাউন্সিলের আয়োজন

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (বিএএফএস) ও নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনস্থ ৬৬ প্রিসেঙ্কট কমিউনিটি কাউন্সিল-এর যৌথ উদ্যোগে ব্রুকলীনে আয়োজিত ‘টাইম টেলিভিশন-ব্রুস ফিসার’ বৈশাখী মেলা সফল হলো। চতুর্থবারের মতো ৬ মে রোববার আয়োজিত এবারের মেলাও নেমেছেলো মানুষের ঢল। ফলে এক অভুতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল স্থানীয় চার্চ এভিন্যুতে।

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে হাজারো নারী পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ বনিতার সমাবেশ ঘটেছিল এই মেলায়। হাজার কন্ঠে তারা গেয়েছেন বাংলাদেশের গান, বাংলা গাণ, প্রানের গান।ঠান্ডা আবহাওয়া আবেগ থামাতে পারেনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের। মেলার আয়োজকদের দাবী ২০ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী ‘টাইম টেলিভিশন-ব্রুস ফিসার’ বৈশাখী মেলা উপভোগ করেন।মেলায় আগত দেশী-বিদেশী অতিথিরা বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর অংশগ্রহণ দেখে হয়েছেন বিমুগ্ধ ও বিস্মিত। মানুষের ঢল দেখে উল্লাস প্রকাশ করেন অনেকেই। ফলে আবারো প্রমাণিত হলো ব্রুকলীন এখন বাংলাদেশীদের। তারা বাংলাদেশী আর দেশীয় সংস্কৃতির ভুয়শী প্রশংসা করেন।

বক্তারা বলেন, ব্রুকলীনের মেলা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশীরা শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। এজন্য মেলা আয়োজনের জন্য তারা বিএএফএস ও প্রবাসের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া টাইম টেলিভিশনকে অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, টাইম টেলিভিশন ও বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিলো। এজন্য তারা মেলা আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সবার প্রতি জানান গভীর কৃতজ্ঞতা।

এবারের ‘টাইম টেলিভিশন-ব্রুস ফিসার’ মেলার গ্রান্ড স্পন্সর ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী লায়ন শাহ নেওয়াজ। খবর ইউএনএ’র।রোববার ব্রুকলীনের চার্চ এভিনিউতে দিনব্যাপী এই মেলার কর্মকান্ড চলে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় দিনের শুরুতে মেলার কর্মকান্ড শুরু হলেও বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্থাৎ বিকেলে জমে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। নাচে-গানে ভরে উঠে মেলায় উপস্থিত হাজারো দর্শকের মনপ্রাণ।

সবমিলিয়ে উৎসবমুখর  পরিবেশ বিরাজ করে ব্রুকলীনের পুরো চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউতে। দুপুরে অতিথিবৃন্দ ফিতা কাটার পর রং বে রং-এর এক গুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। পরে একটি আনন্দ র‌্যালী বের করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই সহ মেলার কর্মকর্তা ও বাফস’র কর্মকর্তারা অংশ নেন। উদ্বোধনী পর্বে ডিষ্ট্রিক্ট লিডার অব জাজ জ্যাক গোল্ড সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ব্রুকলীনের স্থানীয় ডিষ্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গানজাল, স্থানীয় কাউন্সিলম্যান বার্ড লেন্ডার, মেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনএর সিইও আবু তাহের এবং এটর্নী ব্রুস ফিসার ছাড়াও মেলার গ্রান্ড স্পন্সর লায়ন শাহ নেওয়াজ, সাবেক এমপি ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডার, এটর্নী পেরী ডি সিলভার, অনারেবল ডেমোক্র্যাটিক ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, পিপল এন টেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী,সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, ফেমাক্যাশ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সিইও ডা. সাইফুল খন্দকার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, মিজানুর রহমান ভুইয়া, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, টাইম টেলিভিশন-এর পরিচালক (মার্কেটিং ও কমিউনিটি আউটরীচ) সৈয়দ ইলিয়াস খসরু সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ডিষ্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গানজাল, বাংলাদেশের ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীন, ব্রুকলীন সাউথ পুলিশের চীফ সোল, ৬৬ প্রিসেন্টের কমান্ডিং অফিসার ডেভিড ওয়াল সহ মূলধারার রাজনীতিক ও কমিউনিটির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্ল্যাক প্রদান করা হয়। এছাড়াও ডিষ্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গানজাল-এর অফিস থেকে বাফস-এর সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজমকে প্রোক্লেমোশন প্রদান করা হয়।সকাল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবাসীদের অনাগোনা দেখ গেলেও মূলত: বেলা দু’টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কর্মকান্ড শুরু হয়। মূলধারা, ৬৬ প্রিসিক্ট-এর কমান্ডার ও কর্মকতা, মেলা আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা আর কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর উপস্থিত নেতৃবৃন্দ রং বে রং-এর এক গুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর অতিথিবৃন্দ র‌্যালী করে মূল মঞ্চে গিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।এসময় মেলা আয়োজক সংগঠন বাফস’র সভাপতি কাজী আজম ও সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী বুরো ও পুলিশ প্রশাসনের অফিসিয়্যাল ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। মেলার অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনায় ছিলেন আশরাফুল হাসান বুলবুল ও মাহবুবা।মেলার উদ্বোধনী পর্বে নেতৃবৃন্দ বলেন, মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধনই মেলার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মূলধারার নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করে বলেন,বাংলাদেশীরা সৎ ও কর্মঠ।

তারা তাদের মেধা, যোগ্যতা আর কর্ম দক্ষতা দিয়ে আমেরিকান কমিউনিটিতে নিজেদের স্থান সুসংহত করে চলেছে। বক্তারা বলেন, ব্রুকলীন বাংলাদেশীদের কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।টাইম টেলিভিশন বৈশাখী মেলা উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শক শ্রোতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। রং বে রং এর পোশষাক পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা মেলায় যোগ দিয়ে উৎসবে পরিণত করেন। মেলা উপলক্ষে শতাধিক স্টল বলে। এতে হরেক রকমের খাবর ছাড়াও ছিলো শাড়ী-কাপড়, গহনার স্টল। আরো ছিলো স্বাস্থ্য বিষয়ক একাধিক প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের স্টল। ছিলো শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড।মেলার মুল অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক পর্বে একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর ও বেবী নাজনীন ছাড়াও দেশ-প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন  করবেন। উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণা তিথি, রোকসানা মির্জা, শাহ মাহবুব, শামীম সিদ্দিকী, চন্দ্রা রায়, খায়রুল বাসার, রানু নেওয়াজ, নাভিন, সেলিম ইব্রাহীম দম্পতি, নাজিয়া লিনা, সোনিয়া খানম, দিপ্তী জাহান, লাল্টু, প্রিয়া ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশী-আমেরিকান ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি (বাফস) ও ৬৬ প্রিসিঙ্কট কমিউনিটি কাউন্সিলের আয়োজনে গত ২০১৫ সালে প্রথম বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার মূল পর্ব টাইম টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। ‘টাইম টেলিভিশন বৈশাখী পথমেলা’র আয়োজনের নেপথ্যে দায়িত্ব পালন করছেন যথাক্রমে কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, সাহাব উদ্দিন চৌধুরী লিটন, জসিম মাহমুদ, আশরাফুল ইসলাম, এম এ লতিফ, মনির আহমদ, এমদাদুল হক কামাল, আবুল কাশেম, ফিরোজ আহমদ, সেলিম চৌধুরী বাবুল, কামাল হোসেন মিঠু, মিনহাজ উদ্দিন বাবর, জাহাঙ্গীর আলম, খালেক আকন্দ, কাউছার চৌধুরী, আসিফুর রহমান, মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ আবু তালেব, নাজমুল আলম, সেলিম চৌধুরী, আবু তাহের, আব্দুল মান্নান, জাফর ইসলাম, রফিক উদ্দিন, মোতাহার হোসেন, ইকবাল হায়দার প্রমুখ। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন টাইম টেলিভিশন-এর পরিচালক (মার্কেটিং ও কমিউনিটি আউটরীচ) সৈয়দ ইলিয়াস খসরু। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ