নিউইয়র্কে যেন সবই তাঁর

May 13, 2018, 1:11 AM, Hits: 312

নিউইয়র্কে যেন সবই তাঁর

হ-বাংলা নিউজ :  স্টিফেন এ শোয়ার্জম্যান যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনকুবের। বলা হয়, মার্কিন এই ব্যবসায়ী চিত্রকলা ও সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান—সবকিছুর জন্যই দুহাতে অর্থ সহায়তা করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা। কিন্তু ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার শোয়ার্জম্যানকে বেশ বেপরোয়া-ই বলতে হয়। ২০০৮ সালে তিনি নিজের ব্যবসায়ের দর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন এভাবে, ‘বিচ্ছিন্ন লড়াই নয়, আমি যুদ্ধ চাই।’ তিনি বারাক ওবামার শাসনামলে করপোরেশন কর বৃদ্ধির বিষয়টিকে হিটলারের পোল্যান্ডে হামলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। 

একটি প্রদর্শনীর জন্য নিউইয়র্কের বিখ্যাত জাদুঘর মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টকে (মেট হিসেবে পরিচিত) শোয়ার্জম্যান বিপুল অংকের অর্থের একটি চেক দিয়েছিলেন। জাদুঘরের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র জানায়, ৫০ লাখ ডলারের একটি চেক দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে জাদুঘরের পক্ষে মিস উইন্টুর বলেন, ‘স্টিফেন ও ক্রিস্টিন শোয়ার্জম্যানকে পেয়ে আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান। তাঁদের আর্থিক সহায়তায় এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীর আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। স্টিফেন ও ক্রিস্টিনদের মতো মানুষের সঙ্গে কাজ করলে সবাই উপকৃত হয়।’ 

শোয়ার্জম্যানের বড় অঙ্কের অনুদান নিয়ে বিতর্কও আছে। কারণ তিনি যেসব সহায়তা করেছেন তার সঙ্গে প্রায়ই শর্ত জুড়ে দেন। ২০১৫ সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটি ঘোষণা করে, ক্যাম্পাসের মাঝামাঝি জায়গায় একটি ছাত্র কেন্দ্র নির্মাণ করতে শোয়ার্জম্যান ১৫ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছেন। ভবনটি ২০২০ সালে উদ্বোধন হওয়ার কথা এবং এটির নাম হবে শোয়ার্জম্যান সেন্টার। দাতার নামে ভবনের নাম কেন রাখা হলো সে ব্যাপারে ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রেসিডেন্ট পিটার স্যালোভি বলেন, ‘এটা গোপনীয় বিষয়।’

নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির দি ফিফথ্ অ্যাভিনিউ সদর দপ্তর এখন স্টিফেন এ. শোয়ার্জম্যান ভবন। এটি নির্মাণে ২০০৮ সালে তিনি ১০ কোটি ডলার দিয়েছিলেন। জেরুজালেমে ইসরায়েলের ন্যাশনাল লাইব্রেরির শিগগিরই নামকরণ হবে স্টিফেন এ. শোয়ার্জম্যান এডুকেশন সেন্টার। এ বছরের শুরুর দিকে সেটিকে তিনি ১ কোটি ডলার অনুদান দেন।

শোয়ার্জম্যান হতে পারেন আয় বৈষম্যের উদাহরণ। অঢেল অর্থের মালিক এই মালিক বেশির ভাগ বিষয়ে শেষ হাসিটা তিনিই হাসেন। লাখ লাখ ডলারের কর ফাঁকি দেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে শোয়ার্জম্যান লেম্যান ব্রাদার্সে ছিলেন। সেখানে তাঁর গুরু ছিলেন সামাজিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব সাবেক মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার জি. পিটারসন। ১৯৮৪ সালে পিটারসন লেম্যানের নিয়ন্ত্রণ হারান। শোয়ার্জম্যানের চেষ্টায় সেখান থেকে শত্রু তাড়ানো সম্ভব হয়েছিল। পিটারসন ও শোয়ার্জম্যান মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের। এক পর্যায়ে এটি বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কোহলবার্গ ক্রেভিস রবার্টস ও কারলাইল গ্রুপের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান। 

২০০৭ সালে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ পুঁজি বাজারে নাম লেখায়। আইপিও শেয়ার ছেড়ে শোয়ার্জম্যান শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরামর্শদাতা পিটারসনের (৮১) অবসরের আর্থিক সুবিধাদি নির্ধারণে শোয়ার্জম্যান অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেন। তাঁদের দুজনকে চিনতেন তেমন সবাই তখন মর্মাহত হন। পিটারসন গত মার্চে মারা যান। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শোয়ার্জম্যানকে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। 

ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ আবাসনের বিশাল বিনিয়োগকারী। শোয়ার্জম্যান বর্তমানে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ফোর্বস সাময়িকীর সর্বশেষ (২০১৮) হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। 

শোয়ার্জম্যান স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দিকে নজর দিন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে শোয়ার্জম্যান সমর্থন দেননি। উল্টো তিনি জেব বুশকে অনুদান দিয়েছিলেন। যদিও ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ ট্রাম্পের জামাতা জারড কুশনারের রুগ্ন আবাসন প্রকল্পে ৪০ কোটি ডলার জোগান দেয়। শোয়ার্জম্যানের সমর্থনের জন্য ট্রাম্প অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলেন। ট্রাম্প বহুবার তাঁর সহযোগীকে বলেছিলেন শোয়ার্জম্যানের পক্ষ থেকে সমর্থনের অঙ্গীকার পাওয়া যাবে কি না। কিন্তু তেমনটা ঘটেনি। অথচ ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়া মাত্র তাঁর বাণিজ্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হয়ে যান শোয়ার্জম্যান এবং তাঁর পুনর্নির্বাচনের জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করে দেন।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ