খুলনায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব

May 16, 2018, 1:40 AM, Hits: 117

খুলনায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব

হ-বাংলা নিউজ :  ভোট ডাকাতি, জাল ভোট ও সন্ত্রাস-অনিয়মের অভিযোগে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতার জন্য সিইসি (চিফ ইলেকশন কমিশনার)- এর পদত্যাগ চেয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্ণিয়া শাখা। এছাড়া কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকার রেহাই পাবে না বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সারাদিন ব্যালট পেপার ছিনতাই, নৌকায় সীল মারা বইসহ বস্তাভর্তি ব্যালট উদ্ধার, বিএনপি'র প্রার্থীদের ক্যাম্প ভাঙচুর, এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ও নির্ধারিত সময়ের পরেও কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সীল মারার মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় দিনভর পুলিশের সহযোগিতায় ভোট ডাকাতিতে মেতে উঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ক্যাডাররা। ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র সভাপতি মোঃ আঃ বাছিত ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়,  শতাধিক কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন। এ সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। না হলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হলো এ সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই আমাদের ও জনগণের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনঃগঠন করতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।  বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। না হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারত।  গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সেটা প্রমাণ হয়েছে যখন আমরা ওখান থেকে খবর পাচ্ছি এক ধরনের, সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে এক ধরনের, এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে আবার ভিন্নভাবে। আসলে সরকার আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি।

সরকারের সমালোচনা করে ক্যালিফোর্ণিয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। এটা কখনও একটা জাতির জন্য ভালো কিছু ভয়ে আনবে না। কিন্তু এখন দেখি পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রটেক্ট করছে।  যারা নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করেছেন তিনিই ক্ষমতায় এসে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে, যাতে একদলীয় ভোট করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের যে দোহাই দেয়া হয় সেখানেও বলা ছিল জাতির স্বার্থে ২টি নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার। কিন্তু সেটিও তারা মানেনি। সরকার পুরোপুরি নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।  এমনকি সাবেক সিইসি শামসুল হুদা ও কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশে এখন একটি ফ্যাসিবাদ চলছে, কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্বাধীনভাবে চালাতে পারছে না। বিএনপি বারবারই সরকারকে বলছে আসুন আলোচনা করুন, কিভাবে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপে নির্বাচন করা যায় সেটির পথ বের করি। কিন্তু সরকার এসবে কর্ণপাত করছে না। গায়ের জোরে মতা দখল করে আছে। কিন্তু সাময়িক এভাবে থাকা গেলেও বেশিদিন এভাবে মতা দখল করো থাকা যায় না।বেগম জিয়ার বিষয়ে ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র বিবৃতিতে বলা হয়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক বেশি অসুস্থ, কিন্তু সরকার এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বারবার সরকারকে বলছি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে মুক্তি দিন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ দেশের প্রধান নেত্রীকে মুক্তি না দিয়ে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? তাই নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হলে আগে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেনঃ মোঃ আঃ বাছিত, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন দিলির, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, খন্দকার আলম, আবুল ইব্রাহিম, মুর্শেদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান শাহীন, সালাম দাঁড়িয়া, মানিক চৌধুরী, মাতাব আহমদ, আব্দুল হাকিম, মিশর নুন, আবু তাহের সাজু, এ আর মাহবুবুল হক, মুরাদ হামিদ খান সানী, সাইদ আবেদ নিপু, ফারুক সরকার, খন্দকার তসলিম, মোঃ সামছুল ইসলাম, জহিরুল কবির হেলাল, মোঃ শাহজাহান, হাসানুজ্জামান মিজান, বাদল, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন জেবুল, মোয়াজ্জেম আহমেদ রাসেল, মারুফ খান, ইলিয়াস মিয়া, লায়েক আহমেদ, বদরুল আলম মাসুদ, শাহীন হক, শাহতাব কবির ভূঁইয়া শান্ত, নাঈমুল ইসলাম চৌধুরী, হোসেন আহমেদ,রেজাউল হায়দার চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মিজানুর রহমান, খসরু রানা, শাহানুর কবির ভুঁইয়া শুভ্র, আজমউদ্দিন চৌধুরী দুলাল, সুমেন আহমেদ, রেজাউল করিম জামিল, জুয়েল আহমেদ, কামরুল হাসান তরুন, মিকায়েল খান রাসেল, খায়রুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, জাভেদ বখত্ , আবদুল মোতালেব, আলতাফ হোসেন, আহসান আহমেদ, মিল্টন খান, ওমর ফারুক, কামাল হোসেন, ফয়সল হোসেন সিদ্দিক, আমজাদ হোসেন, খোরশেদ আলম রতন, জিল্লুর রহমান চৌধুরী, তারেক খান, রওনক সালাম, তাসনুভা বেগম, রুহুল আমিন বাবু, সাজ্জাদ পারভেজ, হেলাল মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন, শাহেদ আহমেদ, সিদ্দিক আহমেদ, জুনেল আহমেদ, মোঃ গোলাম সারোয়ার হোসেন, ইলিয়াস শিকদার, আবুল বাশার, আবদুল আহাদ, আবদুল হাকিম, কামরুল আলম চৌধুরী, গিয়াস আহমদ, মজিবর রহমান, ফখরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মোঃ শামীম উদ্দিন, আবদুল মুনিম, আশিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবদুল হাসিব বাবুল, আবদুল কাদির, মাঈনুল আহমেদ, রিপন চৌধুরী, এড. নুরুল হক, জামিল আহমেদ, মোঃ রহমান রফিক, সফিকুল ইসলাম পলাশ, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মুকুল, আবদুল্লাহ আল ফরহাদ, এনাম চৌধুরী, মোঃ আলম খোকন, সৈয়দ আলী আক্তার, রফিকুল আলম চৌধুরি প্রমুখ। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ