গাজা সহিংসতা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান ইউরোপের, বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র

May 16, 2018, 2:26 AM, Hits: 189

গাজা সহিংসতা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান ইউরোপের, বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র

হ-বাংলা নিউজ :  ইসরাইল-গাজা সীমান্তে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়াম। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন তদন্তের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিলে তদন্তের প্রতি সমর্থন জানায় দেশ তিনটি। এ খবর দিয়েছে দ্য টাইমস অফ ইসরাইল।

জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্টকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে, একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি সীমান্ত অঞ্চলে এই সহিংস ও রক্তাক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিশ্চিত করতে পারবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সুন্নি-ভিত্তিক সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে এই সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগ এনেছে জার্মানি। সেইবার্ট বলেন, এটা পরিষ্কার যে, প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এটাও পরিষ্কার যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টির জন্য উস্কানি দেয়া সঠিক কাজ নয়। অথচ হামাস সহিংসতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার বার্ট বলেন, যা ঘটেছে তা নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের সমর্থন জানায় যুক্তরাজ্য। বেলজিয়ামও একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই সহিংসতা ও হত্যা নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলনে আলোচনা করা হবে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রমকে অগ্রহণযোগ্য সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এতে নিশ্চিতভাবেই সমতার অভাব আছে। আমরা এই ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানাই।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ও ইসরাইলের কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে। কার্যালয় মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেছেন, গাজায় বিক্ষোভরত সকল ফিলিস্তিনি হুমকিজনক হোক বা না হোক, তারা ইসরাইলি বাহিনীর হাতে খুন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কলভিল বলেন, একটি সীমান্ত বেষ্টনীর দিকে এগিয়ে যাওয়া মারাত্মক, জীবননাশ করার মতো হুমকিজনক কাজ নয়। তাই এই অগ্রসর হওয়ার কারণে কাউকে গুলি করা উচিৎ নয়। অথচ দেখা যাচ্ছে, সকলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘হামাস জড়িত তাই এমনটা করা ঠিক আছে’, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, ইসরাইলের অভিযোগ, গাজায় বিক্ষোভের পেছনে হামাস জড়িত। সোমবার গ্রেট মার্চ অফ রিটার্নের অংশ হিসেবে ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি সেনারা গুলি চালালে অন্তত ৬০জন নিহত হয়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরী বৈঠকের আহ্বান করা হয়। বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' এর অভিযোগ জানালে ইসরাইল তা অস্বীকৃতি জানায়। তারা সহিংসতার জন্য হামাসকে দায়ি করে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ