নিউইয়র্কে আইএফসি’র মতবিনিময়

May 16, 2018, 4:52 PM, Hits: 90

নিউইয়র্কে আইএফসি’র মতবিনিময়

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা ‘পানি সমস্যা’। এই সমস্যার সমাধানে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লং মার্চের মাধ্যমে যে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, সেই চেতনা বুকে ধারণ করে পানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দেশে ইতিমধ্যেই একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেশের জনগণকে সকল রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে পানির ন্যায্য অববাহিকা ভিক্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদায়ের জন্য ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি) নিউইয়র্ক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভার কী নোট স্পীকার হিসেবে ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ উপরোক্ত কথা বলেন। গত ১২ মে শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেষ্টে এই সভার আয়োজন করা হয়। খবর ইউএনএ’র।

সীমান্তে পানি বন্টন নয়, চাই যৌথ নদীর অববাহিকা ভিত্তিক সামগ্রিক চুক্তি’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন আইএফসি’র চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আইএফসি’র সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ টিপু সূলতান সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলহাজ সোলায়মান ভূঁইয়া, আলী ইমাম শিকদার, আওয়াল সিদ্দিকী, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, খন্দকার ফরহাদ, কাজী আজম, ফারুক হোসেন মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত থেকে মতবিনিময় করেন।সভায় ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ তার লিখিত বক্তব্যে ফারাক্কা তথা পানি সমস্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন,পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ২০০৫ সালের চিলমারীর সমাবেশে ৫ লক্ষাধীক লোকের সমাবেশ হয়েছে। দেশের মানুষ স্বর্তফূর্তভাবে এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘পানি সমস্যার সমাধানের এজেন্ডা’ রাখার দাবী জানিয়ে বলেন, পানি সমস্যার ব্যাপারে সরকারকেই অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তা। ব্রক্ষপুত্র নদের অন্যতম প্রধান এই উপনদীর উৎপত্তি পাহাংগিরি থেকে ভারত-চীন সীমান্তে হিমালয় পর্বতের ৭ হাজার ১২৮মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সুষম পানি ব্যবহারের লক্ষ্যে ২০১১ সালে এই নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফরের সময় একটা চুক্তি হওয়ার কথা ছিলো। তার উত্তরসূরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। এখনো বলা হচ্ছে তিস্তা চুক্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশ থেকে একই রকমন কথা শোনা যাচ্ছে। কোন লক্ষ্যে এবং কিসের ভিত্তিতে এই চুক্তি হবে তার কোন বিস্তারিত  তথ্য তারা দিচ্ছেন না। কিন্তু এখনকার বিশ্বে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উল্লেখিত চুক্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন সংশ্লিষ্ট এই দুই দেশের জনগোষ্ঠির মতামত নেয়া উচিৎ।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফারক্কা কমিটি (আইএফসি) গোড়া থেকেই যৌথ নদীগুলোর সুষম ব্যবস্থাপনার পক্ষে বক্তব্য রেখে আসছে। ২০১১ সালে মনমোহন সিং-এর এবং ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৭ সালে ভারত সফরের সময় এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রেখেছে, দুই বন্ধু দেশের মধ্য সুসম্পর্কের আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে।আইএফসি পূর্বের মতো এখনো দুই দেশের সরকারকে সঠিক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তিস্তা সমস্যার টেকসই সমাধানে সহায়তা করতে চায়। কারণ কোন নদীর উৎপত্তি থেকে সাগর পতনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো বিষয় চুক্তির আওতায় না আসলে, শুধু সীমান্তে পানি বন্দনের ফর্মূলা দিয়ে টেকসই বা দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান হবে না। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তির দূর্বলতাগুলো এখন পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন চিস্তাচুক্তির মাধ্যমে না হয় তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পানি নিয়ে বিরোধ আছে। এবং তা নিয়ে ভারতের হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্টে বিচার হচ্ছে। মাস খানেক আগে ভারতের সুপ্রীম কোট কাবেরী নদী বিরোধ নিষ্পত্তির রায় দিয়েছেন। আর তাই আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে। তিনি বলেন, আইএফসি মনে করে, ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে যৌথ নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সংকটের ব্যাপারে বাংলাদেশে ব্যাপক গণ সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাসদ, সিপিবি, ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো পানির দাবীতে লং মার্চ, সেমিনার সহ অন্যান্য কর্মসূচীতে সোচ্চার হচ্ছে।মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা লং মার্চের মাধ্যমে যে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, সেই চেতনা বুকে ধারণ করে পানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দেশে ইতিমধ্যেই একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা দেশের জনগণকে সকল রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে উঠে পানির ন্যায্য অববাহিকা ভিক্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা আদায়ের জন্য ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।সভায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ চাইলের পানি সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য বাংলাদেশ-ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিস্ট দেশগুলোর সরকারকেই উদোগ নিতে হবে। চীন, ভুটান, নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদের অস্তিত্ব রক্ষায় জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পানি সমস্যা শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের সমস্যা নয়। এই সমস্যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ তথা আন্তজাতিক সমস্যা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের রাজনৈতিক মনোভাব সবসময় যে এক আর অভিন্ন থাকবে তা বিশ্বাস করার কারণ নেই।যেকোন সময় যে কোন কিছুই পরিবর্তন হতে পারে। সময়ই সবকিছু বলে দেবে। ভারতই সবকিছুর নিয়ামক নয়। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দূর্বৃত্তায়ন চললে বলেই আদর্শের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ আর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে মলোনা ভাসানীর আদর্শের রাজনীতি দরকার। আর মওলানা ভাসানীর অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ করেতে ভাসানী অনুসারী পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এটি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সামাজিক সংগঠন।সভায় আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু বলেন, আমরা বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা চাই।আন্তর্জাতিক নদী-পানি ব্যবহার সংক্রান্ত আইন ভারত মেনে নিয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে এটাই আমাদের কামনা। তিনি আরো বলেন, আজ মওলানা ভাসানীর মতো মানুষ আর তার আদর্শের রাজনীতির বড় প্রয়োজন।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ