হে আল্লাহ আমাকে দিন পেয়ালাভরা রহমত

May 26, 2018, 12:06 PM, Hits: 324

হে আল্লাহ আমাকে দিন পেয়ালাভরা রহমত

হ-বাংলা নিউজ : হাদিস শরিফে রসুল (সা.) বলেছেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি আনন্দ হলো ইফতারের আনন্দ। আরেকটি আনন্দ হলো দিদারে ইলাহির আনন্দ। সারা দিন অভুক্ত থেকে সন্ধ্যায় যখন রোজাদার এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানির শরবত পান করেন, তখন যে কি ভালো লাগে, তা কি এই নিষ্প্রাণ অক্ষরের ভাষায় বলে বোঝানো যাবে? হ্যাঁ! যে কোনো রোজাদার কল্পনা করে বুঝে নিতে পারেন, এক গ্লাস শরবতের সঙ্গে লেবু চিবিয়ে, বরফ কুচি মিশিয়ে বানানো পানি আপনার জিহ্বা পেটে কতটা তৃপ্তি দিয়ে যায়। আহা! কী এক অনাবিল শান্তিতে দেহ-মন জুড়িয়ে যায় তখন। আচ্ছা, রোজা না রেখে যদি আমরা ইফতার করতাম, গ্লাসে গ্লাসে শরবত গিলতাম, তাহলে কি ঠিক এ রকম অনুভূতিই হতো কখনো? দেহ-মন জুড়িয়ে যেত? মাত্র এক গ্লাস শীতল জলে? অবশ্যই যেত না। রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারের অনুভূতি-আনন্দ কখনোই রোজা না রেখে খাওয়ার মতো হবে না। এটা একটা চিরন্তন ঐশী ব্যাপার। কেউ যদি ইফতারির আনন্দ উপলব্ধি করতে না পারেন, বুঝতে হবে তার আত্মা রোগাক্রান্ত। শিগগিরই তার আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে গিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। বলছিলাম ইফতারের আনন্দের কথা। হে রোজাদার ভাই, আমাদের কিন্তু আরও একটি আনন্দ বাকি আছে। দিদারে ইলাহির আনন্দ। আল্লাহপাককে দেখার স্বাদ। তো আপনি-আমি যদি সারা জীবন আত্মাকে গোনা থেকে উপোস রেখে, মানে নফসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আল্লাহপাকের কাছে যাই, তখন আমাদের আত্মার ইফতার হবে প্রভুকে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করে। হ্যাঁ, আল্লাহর দিদার মহা এক সৌভাগ্য। যার স্বাদ পেতে আমাদের রুহ পাখি সব সময় ছটফট করে। আমরা তো সেই সৌভাগ্যের খোঁজ করি না, তাই কখনো কখনো চরম অস্থিরতা অনুভব করি কেন এমন হচ্ছে। আল্লাহ মানুষের সেই অস্থিরতার ওষুধ বলে দিয়েছেন। আলা বিজিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব। তোমার ছটফট করা রুহ পাখিকে শান্ত করবে আমার জিকির দিয়ে।  প্রিয় পাঠক! সারা দিন উপোস থেকে সন্ধ্যায় ইফতার করছি। সে আনন্দ আল্লাহপাক আমাদের দিচ্ছেন। সারা জীবন নফসকে উপোস রেখে যদি আল্লাহর সামনে সুস্থ আত্মা নিয়ে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে কিন্তু দিদারে ইলাহির আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত থেকেই যাব। মনে রাখতে হবে দেহের রোজা মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আর তার আনন্দ হলো দুনিয়ার ইফতার। আর আত্মার রোজা এক জীবনের। তার আনন্দও সৃষ্টিজগতের সেরা আনন্দ সৌভাগ্য দিদারে ইলাহির আনন্দ। এই এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা যেন এক জীবনের আত্মার সংযমের প্রশিক্ষণ নিতে পারি— এটাই আসলে সিয়াম সাধনার সুফি দরবেশদের সবক। রহমতের দশক শেষ হয়ে আজ আমরা মাগফিরাতে প্রবেশ করব। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের শুকনো আত্মায় ফোঁটা ফোঁটা রহমত বর্ষণ হয়েছে এবং আমাদের গোনাহভরা জীবনেও পেয়ালাভরা ক্ষমা, পেয়ালাভরা নাজাত নসিব হয়েছে। এভাবেই আমরা মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের রোজা শেষ করে জীবনব্যাপী সিয়াম সাধনায় ব্রত হবো ইনশাল্লাহ। হে আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন আমরা যেন জীবনভর রোজার ব্রত নিয়ে মুমিন হতে পারি। লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ