আমাদের কান্না তোমাদের ব্যথিত না করলেও, তোমাদের কান্না আমাদের ব্যথিত করে

June 3, 2018, 9:37 AM, Hits: 288

আমাদের কান্না তোমাদের ব্যথিত না করলেও, তোমাদের কান্না আমাদের ব্যথিত করে

হ-বাংলা নিউজ :  নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না”যার চলে যায় সে বুঝে হায় ___ বিচ্ছেদে কি যন্ত্রনা" টেকনাফের যুবলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক ও আওয়ামী পরিবার স্বজনরা আজ যে যন্ত্রনা অনুভব করছেন, সারা দেশের কয়েক হাজার পরিবার আজ গুম-খুন আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে স্বজন হারিয়ে সেই একই অনুভূতি নিয়ে দিন-রাত কাঁটিয়ে দিচ্ছে। এই অভিশাপের দায় মুক্তি হয় না।

আদুরে মেয়ে বাবাকে বলছেন, আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে? পিতা মিছে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, আমি ফিরে আসবো, তোমার আম্মুকে বলিও। খানিক পরই প্রিয়তমা স্ত্রী, আদুরে কন্যারা শুনলেন কলজে কাঁপন ধরিয়ে দেয়া বীভৎস গুলির শব্দ। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটির শেষ গুংগানী।

অত:পর তিনি কথা রেখেছেন। পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন, নিথর দেহ নিয়ে লাশ হয়ে।

একজন মানুষকে সবচেয়ে ভাল চিনবে, জানবে তাঁর স্ত্রী। সেই সহধর্মিণী যখন কান্নাজড়িত কন্ঠে চীৎকার করে উঠলেন, কমিশনার সাহেব আমার স্বামী কিছু করে নাই যে___ ওপাশে তখন শেষ দৃশ্য মঞ্চায়ন চলছে।

স্ত্রী-কন্যার এ অসহায় কান্না যেকোন পাষাণ হৃদয়েও কাঁপন ধরিয়ে দিবে, এ নিশ্চিত। সত্যিসত্যি একরাম সাহেব যদি সেই অপরাধে অপরাধী না হন তবে একজন মহিলার অসহায় এ চীৎকার থেকে সংশ্লিষ্টগণ কখনোই মুক্তি পাবেন না, শতভাগ নিশ্চিত। এ চীৎকার তাদেরকে ভয়ার্তভাবে তাড়া করে ফিরবে জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে, চলতে, ফিরতে, উঠতে, বসতে, শুতে, একেবারে শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত।

আওয়ামী অবৈধ সংসদ সদস্য ইয়াবা সম্রাট বাদীর কুকীর্তি আঁড়াল করতেই অবৈধ হাসিনা সরকারের বলির পাঁঠা হলেন যুবলীগ নেতা নিরপরাধ একরামুল হক। আর অন্যদিকে নেত্রীর আলাদিনের আশ্চার্য্য প্রদীপের ঘষাতে ইয়াবা বাবা বদী সেলফি তুলতে ব্যস্ত মক্কায়।

“স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড-সংঘঠিত করেই চলছে" বাংলাদেশের ভোটার বিহীন নির্বাচনের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নির্দেশেই র‍্যাব-পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে মাঠে নেমেছে নতুন খেলায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে চলছে হত্যাযজ্ঞ আর ‘হাসিনার মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে চলছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড'।

লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফে বাংলাদেশের মাদক বিরোধী যুদ্ধের ওপর যে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে তার শিরোণাম 'বাংলাদেশ ড্রাগস ওয়ার ইউজড টু হাইড পলিটিক্যাল অ্যাসাসিনেশনস'। অর্থাৎ বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল করতে মাদকবিরোধী লড়াইকে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

চট্টগ্রামে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফের এই প্রতিবেদনটি। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের একজন কর্মী। 

র‍্যাব দাবি করেছে যে হাবিবুর রহমান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী হাবিবুর রহমান একজন মাদক ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামে তিনি এবং তার সহযোগীরা যখন তাদের গোপন আস্তানায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, তখন তারা পুলিশের দিকে গুলি চালান। সেই বন্দুকযুদ্ধে হাবিবুর রহমান মারা যান। কিন্তু হাবিবুর রহমানের পরিবার টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, “পুলিশের ভাষ্য একেবারেই বানোয়াট। হাবিবুর রহমানকে সাদা পোশাকের পুলিশ স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে বেরুনোর পর নিয়ে গেছে।এরপর পুলিশ হেফাজতে তাকে হত্যা করা হয়।"

কিন্তু এই রকম তথাকথিত বিচারের নামে চলছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। কিছু দিন পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে ৩৮ জন সরকার দলীয় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করা হয় এবং তাঁদের উপর 'রেড এলার্ট' জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর হয় যে-'পুলিশ নাকি তাঁদের খুঁজে পাচ্ছে না !  অথচ তাঁদের কপালে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের সিল থাকায় তাঁরা দিব্বি পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মাদক ব্যবসা স্বৈরাচারী কায়দায় চালু রেখেছে।' 

শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও সেই যুদ্ধে কী আওয়ামীলীগ কিংবা ছাত্রলীগ-যুবলীগের মাদক ব্যবসায়ী নেতারা আওতামমুক্ত থাকবে কিনা প্রশ্ন ছিল সাধারন জনতার! 

কিন্তু আজ যখন দেখছি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি হাসিনার বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডেও কাঁদছে আওয়ামী পরিবারের খেটে খাওয়া মানুষ গুলো আর সেই মূহুর্তে  প্রতিবারের মত এবারও প্রকাশিলাম আমার কলমি ক্ষোভ। আমরা চাই বিচার, আমরা হত্যা চাই না। সেই যেই হোক না কেন? তাই সময় এসেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। 

‘ক্রসফায়ার নামক মাদকে’ মাদকাসক্ত হাসিনার বাংলাদেশ, বাঁড়ছে ক্ষোভ জ্বলছে বাংলাদেশ। আর কত রক্তে রঞ্জিত হবে আমার প্রিয় স্বদেশ? চট্টগ্রামের নিরপরাধ হাবিবুর রহমানের স্বজনদের কান্না তোমাদের ব্যথিত না করলেও, তোমাদের কান্না আমাদের ব্যথিত করে! ভুলে যেওনা — ‘নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না’!!!

‘ক্রসফায়ার নামক মাদকে’ মাদকাসক্ত হাসিনার বাংলাদেশ! 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ