ট্রাম্পের যত উদ্ভট কথা

June 5, 2018, 11:24 AM, Hits: 288

ট্রাম্পের যত উদ্ভট কথা

হ-বাংলা নিউজ :  আসা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি খেলোয়াড়দের ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জের ধরে এ সিদ্ধান্ত নেন এবং বিবৃতি দেন। সিএনএনের রাজনৈতিক প্রতিবেদক ও এডিটর অ্যাট-লার্জ ক্রিস সেলেজা ট্রাম্পের এই বিবৃতি বিশ্লেষণ করে কতগুলো বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্পের দেওয়া যুক্তিই কি যথাযথ, তাঁর নিজের বানানো দেশপ্রেমের ব্যাখ্যার বাইরে কি দেশপ্রেম নেই, নাকি এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের কোনো রাজনীতি।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টকে হারিয়ে সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন হয় ইগলস। এটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে প্রথম সুপার বোল চ্যাম্পিয়নশিপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাধারণত বড় বড় পেশাদারি খেলা এবং কলেজ স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নদের বিজয় উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন।

গতকাল বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আগামীকাল আনন্দ করতে ফিলাডেলফিয়া ইগলস তাদের পুরো দল নিয়ে হোয়াইট হাউসে আসতে পারবে না। তাঁরা তাঁদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চেয়েছিলেন জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়েরা দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে দেশের সামরিক বাহিনীর মহান নারী-পুরুষের প্রতি এবং দেশের জনগণের প্রতি সম্মান জানাবেন। ইগলস ছোট একটি প্রতিনিধিদল পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এক হাজার ভক্ত তাদের কাছে আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করে।

প্রথমত ট্রাম্প বলেছেন, হোয়াইট হাউসে ইগলসের সব সদস্যের না আসাটা তাদের ভক্তদের হতাশ করবে। কিন্তু এটা ঠিক নয় বলে মনে করেন ক্রিস সেলেজা। তাঁর মতে, যদি এই দলের ভক্তরা ওয়াশিংটন রেডস্কিনের ভক্তদের মতো হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁরা দলের লেফট ব্যাক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই দেখা করতে বেশি আগ্রহী হবেন। ট্রাম্প আসলে এখানে ভক্তদের দোহাই দিয়ে খুব সাধারণ একটি রাজনীতি করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ভক্তদের মনঃক্ষুণ্ন করতে চাননি বলেই তিনি খেলোয়াড়দের এ পরিদর্শন কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

দ্বিতীয়ত, হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের নিজের বাড়ি নয়। অথচ তিনি ১৬০০ পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর এই বাড়িটিকে নিজের সম্পত্তির মতো মনে করেন। তাঁর মনের মতো হলেই কেবল অতিথি এই বাড়িতে যেতে পারবেন, না হলে নয়। ব্যাপারটা এমন যেন আমি তাদের কাছে যেমনটা চাই, তুমি যদি তেমনটা করো তাহলে তুমি এখনই আমার পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর একটিতে থাকতে পারবে অথবা আমার পুরস্কারপ্রাপ্ত গলফ মাঠের একটিতে খেলতে পারবে।

শুধু ট্রাম্পই নন, যুগ যুগ ধরে সব প্রেসিডেন্টই হোয়াইট হাউসকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান সবাই আইনপ্রণেতাদের কাছে টানতে তাঁদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বড় বড় অর্থদাতাকে পুরস্কৃত করেছেন এবং বিদেশি কূটনীতিকদের খুশি করেছেন। কিন্তু পরিদর্শনে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়ে তা বাতিল করা—এই প্রথম। এটা অনেকটা ফুটবল মাঠে বলের মালিকের অন্যদের সঙ্গে বনিবনা না হলে হুট করে খেলা ছেড়ে নিজের বল নিয়ে বাড়ি ফেরার মতো বলে মনে করেন ক্রিস সেলেজা।

তৃতীয়ত, ট্রাম্প যে দেশপ্রেমের সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা খুবই সংকীর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়েরা দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে দেশের সামরিক বাহিনীর মহান নারী-পুরুষের প্রতি এবং দেশের জনগণের প্রতি সম্মান জানাবেন। তার মানে কি এর বাইরে অন্য কিছু করা হবে অশ্রদ্ধা! আর এ অসম্মান শুধু ট্রাম্পকে নয়, সামরিক বাহিনী ও পুরো জাতির প্রতি! তাহলে বাল্টিমোর ওরিয়েলস যখন জাতীয় সংগীতের ‘ওহ সে কেন ইউ সি’ লাইনের জায়গায় “ও’স” বলে অথবা ওয়াশিংটন ক্যাপিটালসের ভক্তরা রকেটস রেড গ্ল্যা’-এর স্থলে কেবল ‘রেড’ বলে? এটাও কি অসম্মান? যদি না হয়ে থাকে তাহলে কেন নয়?

চতুর্থত, ট্রাম্প মনে করেন জাতীয় সংগীতের প্রতি তিনি যেভাবে সম্মান জানানো উচিত বলে মনে করেন, তা অনুসরণ করলেই তা হবে প্রকৃত দেশপ্রেম। কিন্তু দেশপ্রেম প্রকাশের কি এটিই একমাত্র পথ? পেছনে তাকানো যাক। আমেরিকান যোদ্ধারা কেন বিদেশের মাটিতে প্রাণ দিয়েছেন, যদি তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য না হয়ে থাকে, নির্ভয়ে কিছু বলার স্বাধীনতা না থাকে?

আমেরিকান মানেই হলো তাদের নিজের মতপ্রকাশের অধিকার এবং নিজের অভিজ্ঞতার প্রতি অটল থাকার অধিকার রয়েছে। আমরা যেমন নিজের মতাদর্শের মূল্যায়ন করি, তেমনি যখন অন্যের মতাদর্শকে শ্রদ্ধা করব, তখনই আমাদের ৩০ কোটি মানুষের মেলবন্ধন ও তাদের অভিজ্ঞতা আমেরিকাকে সফল করবে। একজনের মতাদর্শ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আমেরিকাকে সফল করার মূলনীতির বিপরীত। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ