হোয়াইট হাউস থেকে আরেক সহকারীর বিদায়

June 6, 2018, 1:27 AM, Hits: 369

হোয়াইট হাউস থেকে আরেক সহকারীর বিদায়

হ-বাংলা নিউজ :  হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী কেলি স্যাডলার পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সিনেটর জন ম্যাককেইনের অসুস্থতা নিয়ে রসিকতা করেন কেলি স্যাডলার। এরপরই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এর জেরেই পদত্যাগ করতে হলো তাঁকে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক হিসেবে জিনা হাসপেল দায়িত্ব পাবেন কি না—এমন এক বৈঠকে কেলি স্যাডলার মজা করে বলেন, ‘সিনেটর ম্যাককেইনের ভোট কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ যা-ই হোক, উনি মারা যাচ্ছেন।’ জিনা হাসপেলকে সিআইএর পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন জন ম্যাককেইন। ওই মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমালোচনার মুখে পড়েন কেলি। পরে ওই ঘটনার জন্য ম্যাককেইনের মেয়ে মেগান ম্যাককেইনের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।

তবে টিভি প্রোগ্রাম দ্য ভিউয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগান ম্যাককেইন বলেন, হোয়াইট হাউসের এই সহকারীর চাকরি যাওয়া উচিত। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করছেম তা হলো কী ধরনের পরিবেশে ওখানে কাজ হচ্ছে, যেখানে এমন মন্তব্য গ্রহণ করা হলো। এবং পরদিন আবার তিনি অফিসে এলেন, তাঁর চাকরিও গেল না।’

অবশ্য কেলি স্যাডলারের এমন মন্তব্য করেছিলেন কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। ওই সময় এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘দেশের জন্য জন ম্যাককেইনের অবদানকে আমরা গভীরভাবে সম্মান করি। এই কঠিন সময়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি আমরা।’

পরে গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রাজ শাহ বলেন, কেলি স্যাডলার আর প্রেসিডেন্টের নির্বাহী অফিসে থাকছেন না।

২০১৭ সালে জন ম্যাককেইনের মস্তিষ্কের ক্যানসার ধরা পড়ে। সর্বোচ্চ চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। অসুস্থ সিনেটর অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে নিজের পরিবারের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন ধরে সিনেট অধিবেশনেও অনুপস্থিত তিনি। তবে অ্যারিজোনার এই সিনেটর সিআইএর পরিচালক হিসেবে জিনা হাসপেলের নিয়োগে বিরোধিতা করেন। যদিও গত মে মাসে সিআইএর প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব তিনি।

এ প্রবীণ সিনেটর বরাবরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা নীতির সমালোচনা করে আসছিলেন। ট্রাম্পের হাতে আমেরিকার ভাবমূর্তির মারাত্মক ধস নেমেছে—এমনটা মনে করেন তিনি। ট্রাম্পের দক্ষিণের দেয়াল নির্মাণ এবং অভিবাসীদের নিয়ে উসকানিমূলক ও অপমানজনক বক্তব্যের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন জন ম্যাককেইন।

ভিয়েতনামে যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন জন ম্যাককেইন। যুক্তরাষ্ট্রে বেঁচে থাকা যুদ্ধবন্দী হিসেবে জন ম্যাককেইনকে সমীহ ও শ্রদ্ধা করা হয় দলমত-নির্বিশেষে। ব্যতিক্রম কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যুদ্ধের সময় শত্রুর হাতে ধরা পড়লে বীর হয় কেমন করে? আমি তাদের পছন্দ করি, যারা যুদ্ধে ধরা না পড়ে বিজয়ী হয়।’ 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ