আটলান্টিক সিটিতে দুই বাংলাদেশী আমেরিকান শিক্ষার্থী আপন আলোয় উদ্ভাসিত

June 22, 2018, 4:32 AM, Hits: 204

আটলান্টিক সিটিতে  দুই বাংলাদেশী আমেরিকান শিক্ষার্থী  আপন আলোয় উদ্ভাসিত

সুব্রত চৌধুরি ,হ-বাংলা নিউজ : আটলান্টিক সিটি থেকে -২০জুন,২০১৮,বুধবার,দিনটি ছিল আটলান্টিক সিটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত দ্বাদশ গ্রেডের বাংলাদেশী আমেরিকান  শিক্ষার্থীদের জন্য স্বপ্নপূরনের দিন।আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত প্রায় পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল জিম হুইলান বোর্ডওয়াক হলে।তাদের মধ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।সকাল থেকেই বাংলাদেশী আমেরিকান শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরে পরিবারের সদস্যদের সাথে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হতে থাকে।তাদের সবার শরীরি ভাষায় চার বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে প্রাপ্তির পূর্ণতা,চোখে-মুখে খুশির আনন্দ ঝিলিক।অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর কৃতি শিক্ষার্থীদের নাম  ঘোষনার সাথে সাথে তুমুল করতালিতে গমগম করে ওঠে বিশাল মিলনায়তন। পূর্বসূরি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও উওরসূরী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জয়জয়কার।আর এই জয়-জয়কার অবস্থার মধ্যে আপন আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত  দুুুই কৃতি শিক্ষার্থী।তারা তাদের মেধার স্বীকৃতি হিসাবে সেরা দশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।এই কৃতি শিক্ষার্থীদের সাথে  আলাপচারিতার চৌম্বক অংশ নীচে তুলে ধরা হলো-

মমতা মিলি- বাংলাদেশের সিলেট এর বালাগঞ্জের মেয়ে মমতা মিলির  জন্ম বাংলাদেশে,২৫ জানুয়ারি,২০০০ সালে।মা-বাবার সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমায় সাত মাস  বয়সে। বাবা মনসুর মিয়া  আর  মা রীনা বেগম এর চার সন্তানের মধ্যে মমতা মিলি  দ্বিতীয়।মেধা তালিকার সেরা দশে তার স্থান ষষ্ঠ।ছোটবেলা থেকেই মেধাবী মমতা মিলি লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিল।তার অবসর কাটে ভলান্টিয়ার কাজে আর বই পড়ে।তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ(সঃ)।তার অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সে ষ্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে।পেশাগত জীবনে তার ইচ্ছা ডাক্তার হওয়ার ,আর তা হতে পারলে তার অদম্য বাসনা বাংলাদেশের গরীব-দুঃখী মানুষদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়া।তার অসামান্য কৃতিত্বের পেছনে তার বাবা-মার অবদানই সবচেয়ে বেশি।উওরসূরীদের উদ্দেশ্যে তার আহবান- সেরাটা দাও,সেরাটা পাবে। আটলান্টিক সিটির ১ ফেয়ারমাউণ্ট টেরেসে বসবাসকারী সদালাপী,বন্ধুভাবাপন্ন,মিষ্টিমুখের মমতা মিলি তার ভবিষ্যত সাফল্যের জন্য সবার দোয়াপ্রার্থী।

সালমা বেগম- ২৪  অাগস্ট,২০০০ সালে বাবা আবুল কালাম ও  মা রোকেয়া বেগম এর কোল আলো করে এই ধরাধামে আসে সালমা বেগম।আমেরিকায় জন্ম নেওয়া সালমা বেগম চার ভাই-বোনের মধ্যে  সবার ছোট।তার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সন্দ্বীপে।মা রোকেয়া বেগমের স্নেহমাখা শাসনে বেড়ে ওঠা সালমার চলার পথে পাথেয় তার বড় আপা।তার  কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সে ছিনিয়ে নিয়েছে সেরা দশের দশম স্থানটি।  নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি তার অবসর কাটে বই পড়ে,কমপিউটারে গেম খেলে।সালমা বেগম নিউজারসির ষ্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপিউটার প্রকৌশলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।পেশায় সালমা বেগম কমপিউটার প্রকৌশলী হতে চায়।সালমা বেগম সদা হাস্যোজ্জল,বন্ধুবৎসল,প্রিয়ংবদা। নবীনদের প্রতি তার উপদেশ সময়ানুবর্তী হওয়ার ও বড়দের উপদেশ মেনে চলার।আটলান্টিক সিটির ডোভার এভিনিউতে বসবাসকারী সালমা বেগম তার ভবিষ্যত পথ চলা যাতে মসৃন হয় সেজন্য সবার দোয়া  কামনা করেছে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ