আমদানি শুল্কের কারণে হারলি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে

June 26, 2018, 7:44 AM, Hits: 201

আমদানি শুল্কের কারণে হারলি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে

হ-বাংলা নিউজ :  মার্কিন ব্যয়বহুল মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হারলি-ডেভিডসন তাদের কিছু কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় আমদানি শুল্ক এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি মাসের শুরু থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে ইস্পাত আমদানিতে ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে মার্কিন অনেক পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করে। এর মধ্যে রয়েছে হারলি মোটরসাইকেল, ফ্লোরিডার কমলার জুস, নর্থ ক্যারোলাইনার তামাক ও কেন্টাকির বারবঁ। পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ায় ঘোষণা দেয় কানাডা ও মেক্সিকোও।

হারলি-ডেভিডসনের এ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে দেশটির পুঁজিবাজারে। ডাও জোন্স সূচক প্রায় ৫০০ পয়েন্ট কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নতুন শুল্ক আরোপের কারণে গড়ে মোটরসাইকেলের দাম ২ হাজার ২০০ ডলার বেড়ে যাবে। এর ফলে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। কারণ, তারা খুচরা বা পাইকারি বাজারে মোটরসাইকেলে দাম বাড়াতে পারছে না। এ কারণে বাড়তি খরচের পুরো ভার কোম্পানিকে নিতে হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ খরচ তিন কোটি থেকে সাড়ে চার কোটি ডলার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে হারলির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘আমি খুব বিস্মিত যে সবার আগে হারলি-ডেভিডসনই হার মানল। আমি তাদের জন্য অনেক লড়েছি। শেষমেশ ইউরোপীয় বাজারে ঢুকতে তাদের আমদানি শুল্ক দিতে হতো না। তাদের এ সিদ্ধান্ত মার্কিন বাণিজ্যকে আঘাত করবে। এতে ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হবে। শুল্ক একটা অজুহাতমাত্র। হার্লি, ধৈর্য ধারণ করো।’

প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের মানে দাঁড়ায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে তিনি আলোচনার আশা করছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিরাট অঙ্কের শুল্ক বসাচ্ছে। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য-ঘাটতি হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এই বাণিজ্য-ঘাটতি আরও বাড়বে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প বিদেশি অটো ও অটো যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে জার্মানের প্রস্তুতকারী গাড়ি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো এডওয়ার্ড অ্যালডেন বলেন, ‘ট্রাম্পের এই বাণিজ্যনীতির কারণে যদি হারলি-ডেভিডসনের মতো এত বড় প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থে কে লাভবান হবে? এটি প্রেসিডেন্টের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। কারণ, তিনি বলেছেন, তাঁর নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আরও বেশি উৎপাদন করবে।’

হারলি যুক্তরাষ্ট্রের পরই ইউরোপের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছর ৪০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কারখানা স্থাপন করতে প্রতিষ্ঠানটির আরও বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে। আর এটি করতে তাদের ৯ থেকে ১৮ মাস লাগবে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে হারলির নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মীদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠানটির অনেক প্রশংসা করেন। আমেরিকায় এমন পণ্য তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির আকার আরও বড় হবে।

কিন্তু ট্রাম্পের এই বাণিজ্যনীতির কারণে ক্যাপিটাল হিলের বিশিষ্ট কয়েকজন রিপাবলিকান অস্বস্তিতে পড়েছেন। হাউস স্পিকার পল রায়ানের মুখপাত্র অ্যাশলি স্ট্রং বলেন, ‘আমেরিকান কর্মী, ভোক্তা ও নির্মাতাদের সাহায্য করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নতুন বাজার তৈরি করা, বিদ্যমান বাজারব্যবস্থায় বাধা তৈরি নয়।’

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব মেকানিস্টস অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ওয়াকার্সের আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মার্তিনেজ বলেন, হারলির আজকের এই ঘোষণা অনুগত ও অত্যন্ত দক্ষ কর্মীদের মুখে সর্বশেষ চপেটাঘাত। তাদের মাধ্যমেই হারলি আমেরিকার আইকনিক ব্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটি আজকের এ ঘোষণার আগে কানসাস সিটিতে তাদের কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও ব্রাজিলে কারখানা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডেও কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ