ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকরের ফলে বাংলাদেশে দূর্নীতি কমছে

June 29, 2018, 9:52 PM, Hits: 147

ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকরের ফলে বাংলাদেশে দূর্নীতি কমছে

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কে আমেরিকান বাংলাদেশী বিজনেস এলায়েন্স (এবিবিএ) আয়োজিত ‘দ্য ডেভলেপমেন্ট জার্নি অব বাংলাদেশ এন্ড এনআরবি’স রোল টু প্লে এন্ড পার্টিসিপেশন’ শীর্ষক এক গোল টেবিল সেমিনারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবীর বলেছেন নানা সমস্যার মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর এসব সম্ভব হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন পলিসির কারণে। ড. কবীর বলেন, সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী’র কারণে দেশের অনেক দূর্নীতি কমছে।

ফলে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিদেশের পাশাপাশি দেশেও বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহ্বান জানান।নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে গত ২৭ জুন বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আহমেদ আল কবীর উপরোক্ত কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এবিবিএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার। জেবিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম, প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ খালেক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির আলী খান পল ও শাহ নেওয়াজ, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ কর্নেল (অব:) নাজমুল ইসলাম, ফার্মাস্টি আওয়াল সিদ্দিকী, বিশিষ্ট কলামিস্ট মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ, ইয়াকুব এ খান সিপিএ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী। খবর ইউএনএ’র।সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবিবিএ’র এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটন এএফ মিসবাহউজ্জামান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবিবিএ’র প্রতিষ্ঠাতা এক্সিকিউটিভ ডিরিক্টর বিলাল আহমেদ চৌধুরী।সেমিনারে নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান কস্টা কন্সটানটিডিস-এর পক্ষ থেকে ড. আহমেদ আল কবীরকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। কাউন্সিলম্যানের পক্ষে তার প্রতিনিধি জয় চৌধুরী সাইটশেনটি ড. কবীরের হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে এবিবিএ’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক মরহুম সাঈদ রহমান মান্নান এবং এবিবিএ’র কর্মকান্ড প্রসারে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য উভয়কে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সেতু বন্ধন রচনায় এফবিবিসিআই’র সাথে এবিবিএ গত বছর থেকে কাজ করে চলেছে। এব্যাপারে এফবিবিসিআই’র সাথে এবিবিএ’র সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।সেমিনারে আলোচকগণ নোলেজ রেমিটেন্স, বাংলাদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শিক্ষা ব্যবস্থা, দূর্নীতি, দেশ ও প্রবাসের ব্যবসায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহন ছাড়াও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজেদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। সেমিনারের শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্যে মডারেটর তারেক হাসান খান এবিবিএ’র কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, এই সংগঠনের কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অন্তত ৫০টি বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করছেন। এবিবিএ গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী,পরিকল্পনামন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সহ এফবিসিসিআই’র শীর্ষ ব্যক্তি সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে বাংলাদেশের সাথে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের সেতু বন্ধন রচনায় ভূমিকা রাখছে।শরাফ সরকার বলেন, নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে এবিবিএ।বিগত ৭/৮ বছর ধরে এবিবিএ প্রবাসী ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে এবং এফবিসিসিআই’র সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠান দু’টির সাথে চুক্তির বিষয়টি এবিবিএ’র বড় সাফল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। আর এই চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি আগামী দিনে আরো ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সেমিনারে ড. আহমেদ আল কবীর নিজেকে একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে দাবী করে বলেন, নানা সদস্য আর সীমাবদ্ধতার পরও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ আর প্রবাসী সহ দেশবাসীদের সার্বিক সহযোগিতার কারনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়ন-আগ্রগতি অব্যহত থাকলে আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৮তম আর ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩তম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্টেবল ইকোনোমি’-তে এগিয়ে চলছে। তারপরও আমাদেরকে সমস্যা চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে হবে। অনেক ক্ষেতেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে। দেশের কৃষিখাতে ব্যাপক সাফল্য এসেছে।যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের ১৩৪টি দেশে বাংলাদেশে তৈরী ঔষধ রপ্তানী হচ্ছে।ড. আহমেদ আল কবীর বলেন, প্রবাসীদের দাবীর প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ সরকার সিঙ্গাপুরের আদলে ঢাকায় ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে আইন পাশ হয়েছে। আর এই সার্ভিস বাস্তবায়িত হলে ১৫০টি সার্ভিস পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ‘আমলান্ত্রিক জটিলতা আর লাল ফিতার দৌরাত্ব’ আর দূর্নীতিও কমে যাবে। সেই সাথে দেশে ১০০টি ইকোনোমিক জোন হচ্ছে।রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কবীর বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নানা সমস্যা বিরাজ করলেও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এখনো ব্যাংককিং সেক্টর ‘সেফটি’ বিশেষ করে ডাটা রক্ষায় সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ফলে কোন ব্যাংক দেওয়ালিয়া ঘোষণা করতে হয়নি।বাংলাদেশ ব্যাক সহ সকল ব্যাংকই এখন পরিপূর্ণভাবে পরিপক্ক। তবে দেশের ব্যাংকিং আইন আরো সংস্কার করা দরকার, ব্যাংক সংক্রান্ত ‘ফানি ল’ গুলো যুগোপযুগী করতে হবে।প্রসঙ্গত তিনি বলেন, সরকারের শক্ত পদক্ষেপের কারণে দেশে জঙ্গী তঃপরতা নিয়ন্ত্রণে এসেছে,প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের আওতায় আসছে। তবে দেশের উন্নয়ন-আগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নিতে সরকারকে কারিগরী শিক্ষার উপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে, মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহযোগিতার চেয়ে তাদের স্কীল তৈরীতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিলেটের জকিগঞ্জের মানুষ হিসেবে এই এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাধ্যমতো কাজ করছেন এবং জকিগঞ্জের সড়ক উন্নয়নে ১৮৬ কোটি ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে চলছে বলে জানান।শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, রাতারাতি উন্নয়ন বা সাফলতা আনা সম্ভব নয়। এজন্য সততার সাথে শ্রম দিতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সাথে সুশিক্ষা বড় প্রয়োজন। ব্যাংকে বিনিয়োগ না করে সুশিক্ষায় বিনিয়োগ করা দরকার এবং দেশের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লেঅভের উর্ধ্বে মানবিকতায় নিজেদেরকে তুলে ধরবে হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।এম এ খালেক বলেন, বাংলাদেশে সকল ক্ষেত্রেই বিনোয়োগের সুযোগ থাকলেও দেশের আইনকানুন মেনে ব্যবসা করা কঠিন। যেটা প্রবাসে সহজ। তবে দেশের ব্যবসায়ীদের চেয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দেশে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।নাসির আলী খান পল তার স্বভাব কৌতুকের সুলভ ভাষায় বলেন, চীনারা ব্যাঙ খায়, আর আমরা পুরো ব্যাংক খেয়ে ফেলছি। অথচ প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা প্রবাসে এসে বড় বড় কথা বলেন, দেশে গিয়ে ভুলে যান। অথচ প্রবাসীরা সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন আর দেশের ব্যবসায়ীরা দূর্নীতির আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, এক সময় ৫০০ ফুট রাস্তা নির্মাণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে হাত পাততে হতো। আর আজ আমরা নিজের অর্থে পদ্মা সেতা তৈরী করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।

তবে সবার আগে দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে।শাহ নেওয়াজ বলেন, ব্যবসার নানান ধরণ রয়েছে। আর ব্যবসার মাধ্যমেই দেশবাসী ও প্রবাসীদের সেবা করা সম্ভব। সরকার প্রবাসী ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দিলেও রিটেল ব্যবসা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই করতে হচ্ছে।কর্ণেল (অব:) নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।আওয়াল সিদ্দিকী বলেন, বিলম্বে হলেও দেশে গিয়ে ব্যবসা করার তাগিদ থেকেই বাংলাদেশে গিয়েও ব্যবসার উদ্যোগ নিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর সংশ্লিস্টদের খুশি করতে না পারায় আমার প্রকল্পের ফাইল নড়েনি। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়নও হয়নি। এজন্য ১০/১৫ কোটি টাকার জায়গা এখনো পড়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে টাকা ছাড়া কাজ হয়না।

আর প্রবাসী হিসেবে দু’ নৌকায় পা দিয়ে ব্যবসাও করা সম্ভব নয়।আবু জাফর মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা দরকার। আর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গণতন্ত্র দরকার। গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক দল দরকার। আর গণতান্ত্রিক দলের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব দরকার।ইয়াকুব এ খান সিপিএ বলেন, শুধু অর্থ প্রেরণ নয়, জ্ঞান বা প্রশেশনাল ওয়েতেও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা যায়। প্রবাসীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগাতে পারেন। অর্থ ছাড়াই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার নামই হচ্ছে ‘নোলেজ রেমিটেন্স’। অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌস চৌধুরী কমিউনিটি বিনির্মাণে প্রবাসীরা যেমন ভূমিকা রাখছেন, তেমনী দেশের উন্নয়নেও প্রবাসীরা নানাভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এজন্য সরকারের সার্বিক সহযোগিতা দরকার।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ