দেশের মাটিতে বিদেশি ফল

July 22, 2018, 6:54 PM, Hits: 489

দেশের মাটিতে বিদেশি ফল

হ-বাংলা নিউজ : প্যাশন ফল। এটি একটি বিদেশি ফল। সাধারণত দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ফিলিপাইনের জনপ্রিয় ফল এটি। বর্তমানে এ ফলটি আমাদের দেশে ট্যাং ফল নামে পরিচিত। এ ফলটির গুঁড়া পানিতে গুলে অতিথি আপ্যায়ন বা গরমে ক্লান্তি দূর করতে জুড়ি নেই। দেশে এ ফলের গুঁড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তাই বিদেশ থেকে এ ফলের প্রক্রিয়াজাত গুঁড়া আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদশেই এখন এই ফলের চাষ করা যায়। ফলও হয় ভালো। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি এলাকা বালিশিরা পুঞ্জিতে শখের বসে এই বিদেশি ফলের চাষ করছেন ওই পুঞ্জির বাসিন্দা এব্রিসন পথাম। তিনি তার বাড়ির ছাদে ও পানের জুমে তিনটি ট্যাং ফলের চারা লাগান। সেই চারাগুলো বড় হয়ে এখন ফল দিতে শুরু করেছে। এব্রিসন পথাম বলেন, গত বছর কলেঞ্জি পুঞ্জি থেকে তিনি বীজ এনে চারা করে গাছ লাগিয়েছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে গাছে ফুল আসা শুরু করে। এখনো গাছে ফুল আসছে। এরই মধ্যে অনেক ফল বড়ও হয়ে গেছে। তার একটি গাছে ১৫০টির মতো ফল ধরেছে। তবে এই ফলগুলো বিক্রির কোনো সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না।

বাজারজাত করার সুবিধা পেলে তিনি বাণিজ্যািকভাবে ট্যাং ফলের চাষ করবেন বলে জানান। ফল বিষারদরা জানান, ট্যাং ফলের রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । এ ছাড়া এ ফলের রসে আয়রন এবং ভিটামিন ডি-ও রয়েছে। এ ফল দেখতে অনেকটা আপেলের মতো গোলাকার। লম্বা বোঁটাতে ফলগুলো ঝুলতে থাকে। যখন পাকতে শুরু করে তখন ফলের গায়ের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় সবুজ দেখায়। পেকে গেলে প্রথমে নিচের অংশ ও পরবর্তীতে ওপরের অংশ নরম হয়। ট্যাং ফলের গাছ লতাজাতীয়। মাচার ওপর অথবা অন্য কোনো অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে গাছটি বেড়ে ওঠে। কাণ্ড নরম হওয়ায় নিজে নিজে মাটির ওপর শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে না। তাই মাচার মতো ব্যবস্থা করে দিলে অতি সহজেই ট্যাং গাছে ফল ধরে। রোপণের মাত্র দেড় বছরের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। জাতভেদে এর তারতম্য হয়ে থাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, যে কোনো এলাকায় এ ফলের চাষ করা যায়।

 তবে দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জন্মায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অতি সহজেই এ বিদেশি ফলদ গাছ নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে। পচা জৈব সার ও সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার প্রয়োগ করলে অতি তাড়াতাড়ি গাছ বড় হতে থাকে। শুধু রোপণের সময় রাসায়নিক সার ব্যবহার করলেই হয়। পরবর্তীতে সার প্রয়োগ করতে হয় না। উৎপাদনের পর এ ফলের বাজারজাত করা গেলে চাষিরা লাভবান হবেন। জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখবেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ