বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে টরেন্টোয় সমাপ্ত বিশ্ব সিলেট সম্মেলন

September 4, 2018, 6:48 AM, Hits: 816

বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে টরেন্টোয় সমাপ্ত বিশ্ব সিলেট সম্মেলন

টরেন্টো, কানাডা থেকে : ‘আমি রব না রব না ঘরে,বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচেনা-’ মরমী এই গানের সুরে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে রবিবার রাত ১০ টায় কানাডার টরেন্টোর গ্রান্ডপ্যালেসে চতুর্থ বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটল।

দুইদিন ব্যাপি এই বিশ্ব সম্মেলনে ভারত, বাংলাদেশ, জার্মানী, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার প্রতিনিধি কানাডার টরেন্টোতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

সিলেটি ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মানুষ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে এই সম্মেলনকে ঘিরে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় টরেন্টোর ৩৮০ বার্চমাউন্ট রোডে অবস্থিত গ্রান্ডপ্যালেসের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানি মঞ্চে গভীর রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্টান দেখতে ভিড় জমিয়েছিলা টরেন্টোবাসী।

এ মহা সম্মেলনের কনভেনর বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরি বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার জন্য আয়োজক সংস্থা জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরেন্টোর কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,‘ এই মহাসম্মেলনটি এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত সিলেটিদের কাছে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হল।’

1E3A9F3C-0BBF-4C29-BF60-8E0CC30955B8জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরেন্টোর সভাপতি দেবব্রত দে তমাল বলেন,‘ ভারতের দক্ষিণ কলকাতা সিলেটি এসোসিয়েশন সিলেটি সম্মেলন শুরু করে অভূতপূর্ব এক সাড়া জাগিয়েছে। ঢাকা জালালাবাদ এসোসিয়েশন কর্তৃক বাংলাদেশের ঢাকায় ও সিলেটে ও সুন্দর ভাবে তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এই ধারাবাহিকতাকে সম্মান জানিয়ে সিলেট থেকে অনেক দূরে থেকেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা সিলেটি ঐতিহ্য ও ভালোবাসাকে জাগিয়ে রেখেছেন তাদের জন্য চতুর্থ বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের আয়োজন স্বার্থক হয়েছে।’

বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের কেন্দ্রীয় পরামর্শদাতা কমিটির সহ সভাপতি ডা.জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন,‘ এবারের চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলন প্রমাণ করল সিলেটিরা আন্তর্জাতিক কমিউনিটি হয়ে উঠেছেন। আগামী বছর আরও বড় আকারে বিশ্ব সম্মেলনের প্রস্তুতি আমরা আজ থেকেই শুরু করে দিলাম।’ জানা গেছে, আগামী ২০১৯ এই বিশ্ব সম্মেলন কলকাতায় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ইতিমধেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন।

বিশ্ব সম্মেলনে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী হয় বরাক মঞ্চে। তথ্যচিত্রগুলোর মধ্যে ছিল ইকবাল বাহার চৌধুরীর ‘আ হিরো অব লিবারেশন ওয়ার: এম এ জি ওসমানী’, চাবাগানের জীবন নিয়ে ইংল্যান্ড প্রবাসী নির্মাতা মকবুল চৌধুরী ‘ব্ল্যাক লিফ এবং  নট এ পেনি, নট এ গ্যান’।

0E825BB2-C615-40FC-9AAF-7AC1B105F840

সম্মেলন স্থলে ট্রেজার ১৯৭১ নামে একটি আলোকচিত্র প্রর্দশনী হয়। ব্রিটিশ আলোকচিত্রী রজার গোয়েনের ছবিগুলোতে সত্তর দশকের প্রথমদিকে শহর ও প্রত্যন্ত সিলেটকে তুলে ধরা হয়েছিল। অন্যদিকে, আনিস মাহমুদের আলোকচিত্রে সাম্প্রতিক সিলেট ধরা পড়েছে।

দুদিন ব্যাপী আয়োজিত সেমিনারের আলোচ্য বিষয় গুলোছিল মুক্তিযুদ্ধে সিলেট, ভাষা আন্দোলনে সিলেট, সাংবাদিকতায় সিলেট, শিল্প-সংস্কৃতিতে সিলেট, শিল্প-বাণিজ্যে সিলেট, পর্যটনে সিলেট, সিলেটের নাগরি লিপি, সুফি-দরবেশদের পুণ্যভূমি সিলেট, বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসী সিলেটবাসীর ভূমিকা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে আলোচনায় গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও পরিবেশবিদেরা অংশ নেন।

জেনারেল ওসমানি মঞ্চে পরিবেশিত হয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নৃত্য, মালজোরা গান, বাউল সংগীত, ধামাইল নাচ, বিয়ের গান ইত্যাদি। বিশ্ব সিলেট সম্মেলনে সংগীত পরিবেশন করেন লন্ডনের হিমাংশু গোস্বামী, গৌরি চৌধুরী। বাংলাদেশের, টুটুল, কালা মিয়া ও নোবেল এবং আমেরিকার তাজুল ইসলাম। এ ছাড়াও ছিলেন কানাডার স্থানীয় শিল্পীরা।

এই বিশ্ব সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং অন্টারিওর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ড। সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে যান টরেন্টো শহরের মেয়র জন টোরি। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ