জর্জিয়া-বাংলাদেশ সমিতির নতুন কমিটির শপথ গ্রহণ

September 6, 2018, 1:20 PM, Hits: 420

জর্জিয়া-বাংলাদেশ সমিতির নতুন কমিটির শপথ গ্রহণ

রুমী কবির, জর্জিয়া প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর আটলান্টায় জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে স্থানীয় শ্যালোফর্ড রোডে কোয়ালিটি ইন মোটেল মিলনায়তনে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে এই শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার মশিউর রহমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোওয়াত ও গীতা পাঠ শেষে বিগত নির্বাচনের সামগ্রিক দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন চার নির্বাচন কমিশনার শুকুর মিন্টু, মোহাম্মদ মামুন শরীফ, ইলা চন্দ ও ওয়াসি উদ্দিন।

এছাড়া বক্তব্য দেন মেয়াদ উত্তীর্ণ বিগত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহমাদুর রহমান পারভেজ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মশিউর রহমান চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে জর্জিয়া রাজ্যের সকল বাংলাদেশি সংগঠক ও দুই প্যানেলের প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি নির্বাচনের সমুদয় খরচ বাবদ ৯ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সদস্য নবায়ন থেকে  মোট অর্জিত অর্থের অবশিষ্ট ৭৫ হাজার ডলার নতুন কমিটির তহবিলে হস্তান্তরের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া্র জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের  অনুরোধ জানান।

সেইসাথে মশিউর বিধিনুযায়ী নন প্রফিট সংগঠনের আওতায় স্টেট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে বার্ষিক নবায়ন সম্পন্ন করাসহ সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্ধন করে বাংলাদেশিদের এই মূল সংগঠনটি আগামীদিনের মসৃণ পথ পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি চলাকালে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণকে আমন্ত্রিত দর্শক-শ্রোতাদের দিকে মুখ না করে মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সম্পন্ন করতে গেলে আমন্ত্রিত সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন।

দর্শকদের দিকে মুখ করে শপথ নেওয়ার পর্বটি সম্পাদনের জন্যে দর্শক সারি থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের পশ্চাদমুখি অবস্থানে শপথ শুরু হলে চার সাবেক সভাপতিসহ অনেককেই অনুষ্ঠান বয়কট করে মিলনায়তনের বাইরে চলে যেতে দেখা যায়।

শপথ শেষ হওয়ার পরও হট্টগোল চলতে থাকলে এক পর্যায়ে সাবেক সভাপতিদের মধ্য থেকে মোহাম্মদ জামান ঝন্টু কমিশনের এধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়ে সভাস্থল থেকে বলেন, “আপনারা নির্বাচন অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন, এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাশাপাশি সমিতির সাধারণ সদস্যরা কি চায়, সেই বিষয়টির দিকেও শ্রদ্ধার সাথে গুরুত্ব দেয়া উচিত।”   

পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রবীণ কমিশনার শাকুর মিন্টু দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিচালনায় যারা শপথ নিয়েছেন, তারা হলেন- সভাপতি মোস্তফা কামাল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক এ এইচ রাসেল, দুই সহসভাপতি যথাক্রমে আরিফ আহমেদ ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রুবন, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সাদমান আবেদিন সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির হোসেন শওকত, জনসংযোগ সম্পাদক মাহবুব আলম সাগর, ক্রীড়া সম্পাদক রফিকুজ্জামান লিয়ন ও পাঁচ কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে মোসাম্মৎ আরজু, কাজী রফিকুল আলম বাদল, মোসাম্মৎ নাজমুন নাহার, রনদা প্রসাদ চৌধুরী ও হাসান চৌধুরী সুহেল।

শপথ শেষে নব নির্বাচিত সভাপতি মোস্তফা কামাল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক শুভেচ্ছা বক্তব্যে তাদের প্যানেলকে নির্বাচিত করার জন্যে সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং সমিতিকে নতুন আঙ্গিকে সংগঠিত করার জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। 

শপথ গ্রহণের সময় অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পরদিন অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শপথ গ্রহণকালে বিপরীতমুখী হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জন্যে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জায়গার স্বল্পতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, শপথগ্রহণ অন্তে শপথগ্রহণকারীরা ঘুরে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সম্মানিত সুধীমণ্ডলীদের সালাম জানিয়ে তাদের সঙ্গে একে একে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শপথ বাক্য করার পর অনুষ্ঠানটি সে পর্যায়ে উপনীত হওয়ার আগেই উপস্থিত কতিপয় দায়িত্ববান ব্যক্তি অকারণে হট্রগোল শুরু করেন যা নিতান্তই কাম্য নয়।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “এরূপ একটি মহতী অনুষ্ঠানে নিয়ম কানুনের যদি ব্যত্যয় হয়েও থাকে, সে ক্ষেত্রেও অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব এবং শপথ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের এহেন একটি চমৎকার সময়কে বিবেচনায় রেখে এরূপ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব না হোক, সে বিষয়ে উপস্থিত সম্মানিত সুধীমণ্ডলীদের একাংশ আরও যত্নবান হলে নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে সকলের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব বাদ রেখে সমাপ্তি ঘোষণা করে।”

কমিশনের পক্ষ থেকে আগামীতে যাতে এধরণের অপ্রতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে নবীন প্রবীণ সবাইকে যত্নবান হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় ওই বিবৃতিতে।  

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ