নিউইয়র্কে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন

September 8, 2018, 12:23 AM, Hits: 105

নিউইয়র্কে ওসমানী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘সর্বাধিনায়ক’ বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর (এম এ জি ওসমানী) জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি পরিষদ, ইউএসএ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুম জেনারেল ওসমানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নানা কারণেই তিনি বাংলাদেশে এবং আমাদের জাতীয় জীবনে চরমভাবে অবহেলিত। আজো তিনি যথাযথ সম্মান পাননি। বক্তারা জেনারেল ওসমানীকে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে তুলে ধরতে এবং ইতিহাসে স্থান করে দিতে দেশের পাঠ্য পুস্তকে ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবনী’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান।অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কেন জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন। তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশ সরকার কে তাকে মর্যাদা দেয়নি? এসব বিষয় জন সমম্মুখে পরিষ্কার হওয়া দরকার। বক্তারা জেনারেল ওসমানীর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিত তুলে ধরে তাকে একজন আদর্শবাদী, সৎ, সাহসী এবং সময়ের প্রতি নিষ্ঠাবান মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার আদর্শ অনুস্মরণের মাধ্যমে নিজেদেরকে আদর্শবাসী মানুষ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। আর আদর্শবাসী মানুষই দেশ-জাতির কল্যাণে সত্যিকারের অবদান ও ভূমিকা রাখতে পারে। খবর ইউএনএ’র।নিউইয়র্ক সিটির ওজনপার্কের আল মদিনা হলে গত ৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আব্দুল কাদির খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শেখ আখতারুল ইসলাম, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার এন মজুমদার, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, নজরুল একাডেমী ও ভাসানী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ টিপু সুলতান, কলামিস্ট সুব্রত বিশ^াস, মদিনার আলোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ আব্দুল ওয়াহিদ টুপন, ফোবানা’র সাবেক কনভেনর এমাদ চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহাব উদ্দীন।অনুষ্ঠানে ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেনারেল ওসমানী সহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, মোনাজাত এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাহাব উদ্দীন এবং যৌথভাবে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওসমানী যুব পরিষদের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হেলিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে নুরুল ইসলাম,আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল জলিল ও অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্ট্রি মকবুল রহিম চুনই, সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রব মিয়া, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিয়ানীবাবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি মস্তফা কামাল, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি স্বপন বড়ৃয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোশিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি আব্দুল আজিজ রওমী, সিলেট গণদাবী পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বুরহান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান প্রমুখ।অনুষ্ঠানে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সার্বিক অর্থে একটি দেশের সর্বাধিনায়ক সেই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। ‘সর্বাধিনায়ক’ নিয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। তবে জেনারেল ওসমানী-কে আমরা যথাযথভাবে সম্মান জানাতে পারিনি এটাই সত্য। তিনি বলেন, শুধু জেনারেল ওসমানী কিংবা তাজউদ্দিন আহমদ নন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন বিষয়ে এখনো নানা বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, যা থাকা উচিৎ নয়, ঠিকও নয়। এসব ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সম্পদ ভাবা ঠিক নয়, তিনি বাঙালী জাতির সম্পাদ,বাংলাদেশের সম্পদ। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু-কে ছাড়া কিছু বুঝে না, তেমনী বিএনপিও জিয়া-কে ছাড়া কিছু বুঝে না। কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর সাথে জিয়াকে তুলনা করতে চান। এমন সব চিন্তা-ভাবনা জাতিকে বিভক্ত করছে, নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি জেনারেল ওসমানী সহ দেশের সকল জাতীয় নেতাকে যার যে অবস্থান সে অবস্থানে রেখেই সম্মান জানানো উচিৎ বলে মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন একজন গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। গণতন্ত্রের প্রতি ছিল তার গভীর শ্রদ্ধা ও অগাধ বিশ^াস। সেকারণে বঙ্গবন্ধু’র বাকশাল গঠনকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে বঙ্গবন্ধু ও তার দল থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করেননি। তাছাড়া সেনাবাহিনীর ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতি তার দুর্বলতা ছিল। অনেকের বিশ^াস এবং অনেকে মনে করেন সেনাবাহিনীর সেই শৃঙ্খলা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতেই তিনি মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে বেরিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবি করেছিলেন। অবশ্য এসব ব্যাপারে মতাদ্বৈততা রয়েছে। জিয়া ও খালেদ মোশারফের ক্যু’র সময় তার ভূমিকা নিয়েও একই বিভ্রান্তি ও মতদ্বৈততা রয়েছে।বক্তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশাত্ববোধে অবিচল। দেশের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। ছিলেন স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী। তিনি কর্মজীবনে বহু গুণে ও উপাধিতে ভূষিত ও অলঙ্কৃত হয়েছেন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে তার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। তার বাড়ী দয়ামীর তারই নামে ওসমানীনগর করা হয়েছে।জেনারেল ওসমানীর জন্ম শতবার্ষিকীর আলোচকদের অনেকে তাঁর শতবার্ষিকী সরকারীভাবে পালন করা উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।এছাড়াও সেনাবাহিনীতে তার অশেষ অবদান অনস্বীকার্য। তার শতবার্ষিকী সরকারী উদ্যোগে উদযাপন না করায় কোন কোন বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা আরো বলেন, প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সফল মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা। তার অবদান ইতিহাস স্বীকৃত।

অথচ তাকেও আজ অবহেলায় অপাংথেয় করে রাখা হয়েছে। জেনারেল ওসমানীর প্রতিও সরকারের এরূপ আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ বলে বক্তারা দাবী করেন। বক্তারা বলেন, আমরা মনে করি মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং বাংলাদেশ গঠনে যার যে অবদান তার যথাযথ মর্যদা দেওয়া উচিত।এছাড়াও কোন কোন বক্তা প্রবাসে জেনারেল ওসমানীর নামে কোন বিভেদ-বিভক্তিতে না জড়িয়ে তার সকল ভক্ত ও প্রবাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মঞ্চ থেকে জেনারেল ওসমানীকে সম্মান জানানো এবং বাংলাদেশে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর আন্দোলনে আহ্বান জানান।জেনারেল ওসমানীর সংক্ষিপ্ত জীবনী: ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সিলেটের সুনামগঞ্জ মহকুমায় চাকুরীরত অবস্থায় রতœগর্ভা মাতা জোবেদা খাতুনের গর্ভে জন্ম নেন এই ক্ষণজন্মা পুরুষ। ছোটকালে সবাই তাকে আদর করে আতা বলে ডাকতেন। বাবার সুরকারী চাকুরীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। তাই প্রথামিক শিক্ষা গৌহাটি মিশনারী কটন স্কুলে। পরবর্তীতে সিলেট সরকারী পাইলট হাইস্কুল থেকে ১৯৩৪ সালে মেট্রিক পাশ করেন। পরীক্ষায় ইংরেজীতে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রিটরিয়া পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারপর চলে যান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ^বিদ্যালয়ে। ১৯৩৮ সালে সেখান থেকে গ্রেজুয়েশন লাভ করেন। পরের বছরই কেডেট হিসেবে যোগ দেন ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমীতে। কিন্তু অচিরেই কেডেট কেরিয়ার ছেড়ে যোগ দেন বৃটিশ-ইন্ডিয়া সেনাবাহিনীতে। সেই থেকে তার বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের শুরু। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে বার্মা সীমান্তে যুদ্ধ করেছেন। দেশভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছেন। তাঁর সামরিক কর্মজীবন দীর্ঘ বিস্তৃত ও কৃতিত্বগাথা। ছাত্রজীবনে তার অসম মেধা ও কৃতিত্বের জন্য আসাম বেঙ্গল ছাত্র সংগঠনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে জহরলাল নেহরুর দ্বারা উদ্বোধিত ও মোহাম্মদ আলী জিন্নার সভপতিত্বে লক্ষেèৗ শহরে প্রথম অনুষ্ঠিত নিখিল ছাত্র সম্মেলনে ওসমানী আলীগড় বিশ^বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।সেনাবাহিনীতে অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে এশিয়ানদের প্রতি বৃটিশদের ছিল চরম বৈষম্যমূলক আচরণ।

ওসমানি এসব বৈষম্য উপেক্ষা করে ইন্ডিয়ার শ্রেষ্ঠ সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেরাদুন থেকে ১৯৩৯ সালে নিজের যোগ্যতা বলে কৃতিত্বের সাথে কমিশনপ্রাপ্ত হন। এখানেই ছিল তার সামরিক প্রশিক্ষণের শেষ অধ্যায়। তারপর একে একে কর্মজীবনের উত্থান ঘটেছে।সামরিক বাহিনীতে অসাধারণ মেধার জন্য ১৯৪১ সালে কেপ্টেন পদে এবং ১৯৪২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তৎকালীন বৃটিশ সা¤্রাজ্যের সেনাবাহিনীতে সর্বকণিষ্ঠ মেজর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।পরবর্তীতে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেঃ কর্ণেল পদে উন্নীত হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও বাঙালী হিসেবে বৈষম্যের শিকার হন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে লাহোর সেক্টরে তার ব্যাটেলিয়ন অসাধরণ কৃতিত্বের পরিচয় রাখে। তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠালাভ করে। ১৯৫৬ সালে তাকে কর্ণেল পদে উন্নীত করা হয়। সামরিক বাহিনীতে থাকাকালে সর্বক্ষেত্রে তিনি তার যোগ্যতা ও মেধার অসাধারণ পরিচয় রাখেন। নিজের গুণ ও মেধায় সেনাবাহিনীতে তিনি প্রবল গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। এসব সুনাম অটুট রেখে ১৯৬৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী কর্মজীবন তথা সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তারপর সত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এবং সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে সিলেট-বিশ^নাথ-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের এমএনএ নির্বাচিত হন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ ভাগ হয়ে গেলে পাকিস্তান গণপরিষদে আর বসার সুযোগ পাননি। বসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে।মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় কর্ণেল রব, মেজর জিয়া, মেজর শফিউল্লা, খালেদ মোশারফসহ তৎকালীন উচ্চপদস্থ বাঙালী সেনবাহিনীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট সহ পাঁচটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্নজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। ওসমানি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর প্রধান। তারই তীক্ষè বুদ্ধিমত্তায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।এবং অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিশে^র বুকে বাংলাদেশ নতুন পরিচয়ে আত্মলাভ করেছে।

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ