নির্বাচনকালীন সরকার ষোষণার তিন সপ্তাহের মধ্যে হাসিনার পতন নিশ্চিত—জাহিদ এফ সরদার সাদী

September 8, 2018, 6:07 PM, Hits: 879

নির্বাচনকালীন সরকার ষোষণার তিন সপ্তাহের মধ্যে হাসিনার পতন নিশ্চিত—জাহিদ এফ সরদার সাদী

হ-বাংলা নিউজ : বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ঘোষণার পর তিন সপ্তাহের মধ্যে শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনকালীন সরকার ঘোষণার পরপরই দেশে একযোগে আন্দোলন শুরু হবে। আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। আন্দোলনকে সামনে রেখে দেশে বিদেশে চলছে দলটির কুটনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতসহ ১৯টি দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে প্রতিনিধিরা বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণে ঐ বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঐ সকল দেশসমূহের উচ্চমহল নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দলের নেত্রী খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর গত সাত মাসের প্রায় প্রতি মাসেই দেশে বিদেশে কূটনীতিকদের সাথে বসেছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি বলছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করছেন। বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা তাদের অবস্থান সম্পর্কে প্রভাবশালী প্রত্যেকটি দেশের সরকার ও কূটনীতিকদের কাছে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন।"লক্ষ্য একটাই - আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জানা উচিত, দেশে কী ঘটছে। এবং এখানে গণতন্ত্রের অবস্থা কী? গণতান্ত্রিক স্পেস কতটুকু আছে। কীভাবে সরকার সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে । এই বিষয়গুলোই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করি।"সর্বশেষ বৈঠকে গুলোতে বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীর জেলে থাকা এবং নির্বাচন নিয়েই মূলত: কথা বলেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রভাবশালী দেশগুলো যাতে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে, সেই প্রত্যাশা থেকে বিএনপি এখন ঘন ঘন দেশে বিদেশে কূটনীতিকদের নিয়ে বৈঠক করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন। এর মাধ্যমে সরকারের উপর যাতে একটা চাপ সৃষ্ট হয়, সেটাই বিএনপির প্রত্যাশা। "বিএনপি চায় একটা অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচন করতে বিদেশিরা সরকারকে পরামর্শ দেবে। এটা বিএনপি আশা করে।" বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন যারাই বিরোধী দলে থাকে, তারাই দেশে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রভাবশালী প্রত্যেকটি দেশের সরকার ও বিদেশি কূটনীতিকদের শরণাপন্ন হয়। এমনকী অনেক সময় সরকারের পক্ষ থেকেও বিদেশিদের কাছে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। যেমন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকেও বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করতে দেখা গেছে।অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, "বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাইরের শক্তির প্রভাব এখনও যে আছে, সে বিষয়ে সন্দেহের তেমন কোনো অবকাশ নাই।"তবে বিএনপি যে কয়েকমাস ধরে নিয়মিত বিদেশি প্রভাবশালী প্রত্যেকটি দেশের সরকার ও কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করছে তা নিয়ে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীদেরও অনেকে বলেছেন, বিদেশীদের কাছে দেশের রাজনীতি নিয়ে নালিশ করা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রভাবশালী প্রত্যেকটি দেশের সরকার ও কূটনীতিকদের সাথে বিএনপির এই নিয়মিত গণসংযোগ সরকারের উপর কিছুটা হলেও এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে।জাহিদ এফ সরদার সাদী বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের মাঝে যে বিষ ঢেলেছেন, সে বিষেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন তিনি। সরকার আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন ধরণের মামলা দিয়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা রুখে দিবে জনগণ। কারণ আমাদের এক পা কবরে শহীদি দরজা খুলে রেখেছে, অন্য পা জেলের ফুলের মালার জন্য প্রস্তুত আছে।তিনি বলেন, সরকার গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে এ সরকার আমাদের ১৯৫ নেতাকর্মীকে গুম করেছে। ৭৮ হাজার নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ সময় তিনি হুশিয়ারী করে বলেন, আপনারা সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠা করে কি আমাদেরকে হত্যা করতে চান? তবে জেনে রাখুন এর ফল ভালো হবে না।দেশে সামরিক শাসন চলছে। এটা এরশাদের শাসনকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, জেনে রাখুন, বিএনপি কোনো জেল-জুলুম ভয় করে না। বরং সরকার বিএনপি, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে ভয় করে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ