লন্ডন হয়ে দেশের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক ত্যাগ

September 30, 2018, 1:05 PM, Hits: 261

লন্ডন হয়ে দেশের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক ত্যাগ

তৈয়বুর রহমান, নিউইর্য়ক থেকেঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৩তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাকে বহনকারী বিমানটি লন্ডনে যাত্রাবিরতি করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানাতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন সভাপতি  ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, , কৃষবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, সদস্য শাহানারা রহমান মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক এ.কে.এম তারিকুল হায়দার চৌধুরী, যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক বাহার খন্দকার সবুজ, ঢাকা থেকে আগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা এম এ করিম  প্রমুখ।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি  ড. সিদ্দিকুর রহমানের কৌশল বিনিময় করে  ও আগামী নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারআহ্বান জানিয়েছেন ।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটির লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

ব্রিটেনের রাজধানীতে ১০ ঘণ্টার বেশি যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশে সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে) ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন।

আগামীকাল সোমবার সকালে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শখ হাসিনা গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং ওই দিন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউএনজিএ-এর ফাকে শেখ হাসিনা ডাচ রানী ম্যাক্সিমা এবং এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্সটি কালজুলাইদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পোম্পেও তার সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অভ্যর্থনায় যোগ দেন।

২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বৃটিশ এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। সাথে ছিলেন বোন শেখ রেহানা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের ফাকে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা এবং বিশ্বের মাদক সমস্যা সংক্রান্ত সমস্যাসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শেখ হাসিনা মার্কিন চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকালে প্রধানমন্ত্রী দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ করেন। এগুলো হচ্ছে- বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিসের (আইপিএস) ‘ইন্টার ন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ এবং হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন এবং তার ৭৩ তম ইউএনজিএতে তার অংশগ্রহণের ফলাফল নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ