আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা আনা যাবে না

October 21, 2018, 10:52 AM, Hits: 159

 আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা আনা যাবে না

হ বাংলা নিউজ : নিরাপদ সড়কের জন্য শুধু আইন করে নয়, মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, আইন মানতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে, পাশাপাশি নিয়মও শেখাতে হবে।

গত বুধবার কাকরাইল মোড়ে মানুষকে ট্রাফিক আইন মানার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ৪০-৫০ জন ছিলেন। তাঁরা মানুষকে আইন মানতে বলছেন কিন্তু মানুষ আইন মানছেন না। তর্ক করছেন। যেই আমি সামনে যাচ্ছি, আইন মানতে বলছি, সেই তাঁরা আইন মানছেন।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘শিশুরা যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল, তখন তারা একজন ছিল না। শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় মানুষকে আইন মানতে বাধ্য করেছিল। তাদের সঙ্গে কেউ তর্ক করার সাহস পেত না। তারা সংখ্যায় অনেক ছিল বলে মানুষ ভয় পেয়ে আইন মানত। তখন তারা পুলিশকেও ছাড় দেয়নি। তাদের থেকে পুলিশদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু পুলিশ শিক্ষা নেয়নি। এখন পুলিশের গাড়ি উল্টো দিকে চললেও পুলিশ তাদের থামাচ্ছে না। ছেড়ে দিচ্ছে। আইন মানতে বাধ্য করছে না। এমনকি সরকারি বড় কর্মকর্তার গাড়িও উল্টো পথে চলতে দিচ্ছে। তাহলে কী হলো? আমরা এত বড় আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেইনি।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মানুষ যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে। পুলিশ তাঁদের থামাতে পারছে না। কীভাবে থামাবে, তাঁরা পুলিশের কথা না শুনে তর্ক করছেন। এক মোড়ে কয়জন পুলিশ থাকে? ৩-৪ জন। হাজার হাজার মানুষকে কি এত কমসংখ্যক পুলিশ থামাতে পারে? ১০ জন লোক আইন না মানলে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন মানুষ আইন না মানলে পুলিশ কী করতে পারে? আমরা দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না। আমাদের বেশির ভাগই আইন মানছি না।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা যে আইন মানছি না, এতে তো আমাদের সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ জেল-জরিমানা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী যদি আজকে একটি চিঠি দেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে, তারা তাদের কর্মীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা দেবে। আইন মানার জন্য বলবে। এভাবে ছয় মাস পর যদি দেখা যায় ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আইন মানছেন না, তাহলে ওই ব্যক্তির পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাহলে হয়তো কিছুটা কাজ হবে। আসল কথা হচ্ছে, আইন মানতে মানুষের স্বার্থে আঘাত হানতে হবে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘শুধু মানুষের দোষ দিই না। সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানেরও দায় কম না। বেশির ভাগ স্থানে জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ নেই। মানুষ ওই এলাকাগুলো থেকে যখন অন্য এলাকায় আসে, তখন আগের অভ্যাসবশত আইন মানতে চায় না। তাই প্রত্যেক এলাকায় জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ চালু করতে হবে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, রাস্তায় মোটরসাইকেলগুলো সবচেয়ে বেশি আইন ভাঙে। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে। যেখানে ফাঁকা পায়, তারা সেখানে মোটরসাইকেল ঢুকিয়ে দেয়। এটা বন্ধ করতে হবে। তাদের এক লেন দিয়ে চলতে হবে।

‘ট্রাফিক আইন মানতে লাখ লাখ টাকার লিফলেট বিতরণ করা হলো। কিন্তু কেউ সেগুলো পড়ে দেখেনি। এগুলোর ওপর যদি পরীক্ষা নেওয়া যেত, তাহলে মানুষ এগুলো পড়তে বাধ্য হতো। বাচ্চাদের স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া গেলে তার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। এসব নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। মানুষকে ভয় দেখাতে হবে। ভয়ের জায়গা তৈরি করতে হবে। তা না হলে শুধু শুধু আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে না।’ 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ