তুমি আসবেই পিতা

October 22, 2018, 2:39 PM, Hits: 141

তুমি আসবেই পিতা

তুমি আসবেই পিতা
---------ফজলুর কাদির পান্না
খুব ছেলেবেলার কথা
প্রতিরাতে মা বলতেন তোমার গল্প
তোমার অসাধারণ বীরত্ব গাঁথা
আমি শুনতাম, তন্নয় হয়ে শুনতাম,
কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম
আর স্বপ্নের জাল বুনতাম,
আমার একটি প্রশ্ন ছিল বারবার,
উনি কি আসবেন আর একবার?।
ক্ষণকাল চুপ থেকে মা বলতেন
আসবেন, অপেক্ষা কর তিনি আসবেন।
সজল মেঘে, ঝড়ের বেগে
দাপুটে স্বভাবে
বিদ্রোহী চেহারা অবয়বে
চঞ্চল চঞ্চল চলতে চলতে
স্বপ্ন পথের চিহ্ন ফেলতে ফেলতে
তিনি আসবেন নব জীবনের জাগরণে
বজ্র কণ্ঠের ধ্বনি ছড়িয়ে প্রাণে প্রাণে।
কোন এক রঙ্গীন সপ্তাহ বারে,
অপেক্ষা কর তিনি আসবেন,
পুঁজোর আগে, ঈদের পরে,
কিংবা রাশ পূর্ণিমার ভরা তিথিতে।
তারপরে কত পুজো, কত পার্বন
কত ঈদ, চন্দ্র গ্রহণ, সূর্য্য গ্রহণ,
কতবার সূর্য্য হলো লাল
কতবার সূর্য্য হলো সাদা
কতবার এল লাল শুক্রবার
সবুজ শনিবার কিংবা হলুদ বুধবার
কোন কিছুতেই তুমি এলে না।
জান, সেদিন খুব সকালে
সজোরে কড়ানাড়া
আমি তো আনন্দে আত্মহারা
এই বুঝি তুমি এলে।
কিন্তু নাহ্ দরজা খুলে দেখি
পাড়ার হকার ছেলেটি
খবরের কাগজ হাতে একি!
এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, সংবাদ শিরোনাম।
অবাক বিস্ময়ে ক্ষনকাল দেখলাম,
কোন সূচক, কোন হরতাল, কোন ধর্মঘট
কোন ষড়যন্ত্র সংকট,
রুখতে পারেনি তাঁর ওপরে ওঠা
শূন্যে শূন্যে মহাশূন্যে
স্বপ্নিল, দুর্বার গতি নিয়ে আলো ছড়িয়ে
মহাকাশে কোন বাধা নাই
সেখানেও নিয়েছে যে ঠাঁই।
দেশ এখন বিশ্ব সভায় মধ্যমনি
বিশ্বশান্তিতে অগ্রণী
একবার এসে দেখে যাও
তোমার স্বপ্নের দেশ আজ অপূর্ব মহিমায়
পৃথিবীর বিস্ময়,
পোষ্টারে পোষ্টারে দেয়ালে দেয়ালে
তোমার ছবি
তোমায় ভালবেসে দুটি পংক্তি লিখেছে।
নতুন দিনের কোন কবি
“এই বাংলার শ্যামল প্রান্তর
রূপালী সৈকত নদী,
কাঁদিয়া কহিছে বঙ্গবন্ধু 
আবার আসিতে যদি।”
তবুও তুমি এলে না
আজ এই পরিণত বয়সেও
বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে
তুমি আসবেই এই বাংলায়।
ভাষান বস্তির নারী করুণা
পনের আগষ্টের সেই অন্ধকার দিবসে
তোমার ছবি বুকে জড়িয়ে
হাউমাউ করে কেঁদেছিল রাজপথে দাঁড়িয়ে।
ঝাঁঝালো রোদে বিষণœ মুখখানি
করুণার চোখে তপ্ত আগুনের ঝলকানি,
তার ঠোঁটে জাগে অশান্ত বিলাপ
সকরুন আর্তি তোমার কাছে,
তুমি আসবেই পিতা
তোমার অসময়ে চলে যাওয়া
মানতে পারিনা কিছুতেই।
করুণার সেই কান্না এখন
আমার একান্ত আপন।
ওর কান্না ভেজা বিলাপিত কণ্ঠস্বর
আমার বুকের পাঁজরে চিরন্তন পিরামিড
যেমনটি তুমি, হয়ে আছো অমর
প্রতিটি বাঙালীর অন্তরের মনি কোঠার মমি।
আমাদের উঠানের ধারে
সাজনা গাছে বসে নির্জন দুপুরে
একটি দোয়েল শীষ দিয়ে আমায় বলেছে
তুমি আসবে
পদ্মা মেঘনা যমুনার প্রতিটি ঢেউ
হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চলতে
আমাকে বলেছে তুমি আসবে।
খোলা জানালায় দাড়িয়ে
দুরন্ত মেঘে দৃষ্টি ছড়িয়ে ভাবি তুমি আসবেই
শীষ ফোটার লগনে বিবর্ণ শিশির বিন্দু,
ঝড়ে যাবার আগেই আমায় বলেছে
তুমি আসবেই।
সেই রেসকোর্স, ইতিহাসের সাক্ষী, খোলা মাঠখানি
অচেনা লাগে চারিদিকে গাঢ় সবুজ বনানী
চকিত প্রাণের পল্লবে
উজ্জ্বল উচ্ছাসে অপেক্ষার প্রহর গোনে বেদনায়
তুমি আর একটি বার এসে দাঁড়াবে তার বুকে
দৃপ্ত কণ্ঠে শোনাবে বজ্রকণ্ঠ, ভায়েরা আমার,
সজীব পাতারা সব থরথর কম্পণে
হেসে খেলে ঝড়ে পড়বে
¯েøাগানে ¯েøাগানে হবে উত্তাল মুর্ছনায়।
সুর তুলবে জয় বাংলা, বাংলার জয়।
ফিরে পাব হারিয়ে যাওয়া উদ্যান
সেই দিগন্ত বিস্তৃত সোনালী দিনের উদ্যান
তবুও তুমি এলে না
এখনও আমি খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে
দুরন্ত মেঘে দৃষ্টি ছড়িয়ে
ভাবি তুমি আসবেই।
পরিণত বয়সে
মাকে আর একটিবার
জিজ্ঞেস করি বল মা তিনি আসবেন, সত্যি আসবেন।
আমি কি পিতা ছাড়াই বড় হব?

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ