সৌদি প্রিন্সের সব অর্জন কি ডুবতে বসেছে?

October 31, 2018, 12:52 PM, Hits: 132

 সৌদি প্রিন্সের সব অর্জন কি ডুবতে বসেছে?

হ বাংলা নিউজ : সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির ব্যবসায়িক অংশীদার—এমন দেশ ও কোম্পানিগুলো এই ঘটনায় বিব্রত। অথচ বেশ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণীয় পর্যায় পৌঁছেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টুইটার ও উবার থেকে শুরু করে অ্যাকর হোটেল ও ভার্জিন গ্যালাকটিকেও সৌদির ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু খাসোগি–কাণ্ড যেন এক ঝটকায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের সব অর্জনের আলো তাঁর দিক থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

এর মধ্যে ব্রিটিশ ধনকুবের ভার্জিন গ্রুপের প্রধান রিচার্ড ব্রানসন ও উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারা খোসরোওশাহি সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে ঢোকার পর সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসেননি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। প্রথমে ‘তাঁকে হত্যা করা হয়েছে’—এই বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে সৌদি আরব। পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও বৈশ্বিক চাপে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যা করা হয়েছে—এ কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। জামাল খাসোগি ছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক।

এ ঘটনায় সৌদি আরবের ভাবমূর্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনায় রয়েছে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ। সৌদি অর্থনীতির রূপান্তর ঘটাতে উচ্চ প্রযুক্তির প্রকল্প থেকে শুরু করে নতুন মেগাসিটির মতো বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে সৌদি যুবরাজ ও প্রিন্সদের বিদেশি বিনিয়োগের বিভিন্ন চিত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ৪৩০ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে উন্নয়নমূলক বিনিয়োগ হচ্ছে ৩৮০ বিলিয়ন ডলার। দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘দ্য পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (পিআইএফ) দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে আড়াই শ বিলিয়ন ডলারের অংশীদার, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৪০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের। তহবিলের চেয়ারম্যান সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমান অর্থনীতিকে বহুমুখী করে তুলতে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। কমাতে চাইছেন তেলের ওপর নির্ভরশীলতা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলছে, ২০১৬ সালে সার্বভৌম তহবিল থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবারের সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনে নেয় সৌদি আরব। এ ছাড়া ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি স্টার্ট আপ ম্যাজিক্যাল লিপে ৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করেছে দেশটি। এই তহবিল থেকে চালকবিহীন গাড়ি লুসিড মোটরস ও ভার্জিন গ্যালাকটিক স্পেস ট্যুরিজম মিশনের মতো উদ্ভাবনী প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। উচ্চাভিলাষী হাইটেক ভিশন ফান্ড তৈরির জন্য জাপানি সফটব্যাংক, অ্যাপল, ফক্সকনসহ অন্য বিনিয়োগকারীদের একত্র করেছে সৌদি। এই ফান্ডের ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সৌদির অবদান ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। রাশিয়ার সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের যৌথ বিনিয়োগ ফান্ডে অর্থায়ন চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব। জার্মানির সামুদ্রিক পরিবহনবিষয়ক কোম্পানি হ্যাপ্যাগ-লয়েডের ৭৫ কোটি ডলারের শেয়ারও কিনেছে দেশটি।

সৌদির ওয়ারেন বাফেট

প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালকে ‘অ্যারাবিয়ান ওয়ারেন বাফেট’ বলা হয়। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার। কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির (কেএইচসি) চেয়ারম্যান প্রিন্স আল-ওয়াহেদ বিন তালাল। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক সিটি করপোরেশনে বিনিয়োগ করছেন তিনি। ওই ব্যাংকের প্রায় ১৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। কেএইচসির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি আবাসন খাতের পাশাপাশি বিদেশে ডিজিটাল অবকাঠামো, হোটেল ও বিনোদন খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন।

আল-ওয়ালিদ মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ সেবা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত শেয়ারের মালিক, মার্কিন গণমাধ্যম কোম্পানি টোয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি ফক্সের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শেয়ারের মালিক, প্যারিসে অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল ‘ফোর সিজনস হোটেল জর্জ ভি’র মালিক এবং নিউইয়র্কে অবস্থিত অপর পাঁচ তারকা হোটেল ‘প্লাজা হোটেল’–এর আংশিক মালিক। তা ছাড়া তালাল বিনিয়োগ করেছেন টুইটার, অ্যাপল, রুপার্ট মারডকের নিউজ করপোরেশন এবং রাইড শেয়ারিং কোম্পানি লিফটে।

গত বছর সৌদি আরব দুর্নীতির অভিযোগে যে কয়জন প্রিন্স ও মন্ত্রীকে আটক করে, তার মধ্যে তালালও ছিলেন। পরে দুই মাস পর মুক্তি পান। বলা হচ্ছে, ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ