স্বপ্ন দেখিয়েছে যে ট্রফি

November 4, 2018, 12:43 PM, Hits: 108

স্বপ্ন দেখিয়েছে যে ট্রফি

হ-বাংলা নিউজ : সাতানব্বইয়ের আইসিসি ট্রফির কথা বললে সবাই হয়তো শিরোপা নিয়ে উল্লাসের কথাই আগে বলবে। কিন্তু তারও আগে আমার মনে পড়ে, খেলতে যাওয়ার আগে আমাদের প্রস্তুতিপর্বের কথা, বিকেএসপির অনুশীলন ক্যাম্পের কথা, কক্সবাজারে আমাদের ফিটনেস ট্রেনিংয়ের কথা।

ওই সব ক্যাম্প শুধু আমাদের আইসিসি ট্রফিই জেতায়নি, পরবর্তী সময়ে আমাদের আরও ভালো ক্রিকেটার হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। ১৯৯৪ আইসিসি ট্রফির আগে মহিন্দর অমরনাথ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন। কিন্তু গর্ডন গ্রিনিজের কথা আমার সব সময়ই আলাদা করে মনে থাকবে। বিকেএসপিতে আমাদের সারা দিন অনুশীলনের মধ্যে রাখতেন তিনি। শারীরিকভাবে হয়তো ক্লান্তিকর ছিল, কিন্তু সেই প্রস্তুতি আমাদের ক্রিকেট জ্ঞানকে অনেক সমৃদ্ধ করেছিল। যার ছাপ আমরা পরে আমাদের খেলায় রাখতে পেরেছিলাম।

এ তো গেল প্রস্তুতির কথা। টুর্নামেন্টের কথা বলতে গেলে বলতে হবে, ওটা আমাদের জীবনের অন্যতম দামি স্মৃতি। আমি ১৯৮৬ আইসিসি ট্রফি থেকে জাতীয় দলে খেলছি। আইসিসি ট্রফি জয়ের জন্য আমাদের অনেক দিনের অপেক্ষা ছিল। ১৯৯৪ সালে কাছাকাছি গিয়েও পারিনি। ১৯৯৭ সালে বারবার মনে হচ্ছিল এবার কিছু পাওয়ার সময় হয়েছে আমাদের। শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের দলের সবার জন্য ওই সময়টা সব সময়ই বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে।

ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেই আমরা বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করলাম। ওই দিনের কথা কখনোই ভুলব না। তবে আমরা সেদিন বিশাল বা জাঁকজমকপূর্ণ কোনো উৎসব করিনি, কারণ তখনো আমরা ফাইনাল জিতিনি। কিন্তু আমাদের দলের প্রত্যেকের মধ্যে সেদিনই একটা বিশ্বাস চলে এসেছিল, আমরাও পারি। সবার ভেতর আত্মবিশ্বাসের ওই ছোঁয়াটা আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছিল।

ফাইনালের দিনটির কথা কী বলব? অবর্ণনীয় অনুভূতি! সেদিন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছিল, দেশের জন্য বোধ হয় আমিও কিছু করতে পারলাম। আমরা যারা আইসিসি ট্রফিতে খেলেছিলাম, অল্প হোক তবু কিছুটা অবদান তো আমরা রাখতে পেরেছিলাম আমাদের দেশের জন্য।

আজ আমার কাজের ক্ষেত্র বদলেছে। মাঠের খেলোয়াড় থেকে আমি এখন ধারাভাষ্যকার। এই বাংলাদেশ দলকে আমি ধারাভাষ্যকক্ষে বসে জিততে দেখি। ওদের জন্য খুব গর্ব হয় আমার। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেটের একেকটি প্রজন্ম ঠিক তার আগের প্রজন্মকে ছাড়িয়ে যায়। আমাদের এই দলটা আমাদের ইতিহাসের সেরা। ওরাই বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গৌরবের উপলক্ষ এনে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

আর এই বিশ্বাস কিন্তু এমনি এমনি আসেনি। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেমিফাইনাল খেলার। সবই তো সত্যি হয়েছে! আগামী বছর আবার বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে এবার আমরা ফাইনাল খেলব বলে বিশ্বাস করি আমি। যদি না জিতি, ফাইনাল না খেলতে পারি, ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফিটা বাংলাদেশে নিয়ে আসে, তাতেও আমি মোটেও অবাক হব না। আইসিসি ট্রফি জয় আমাদের স্বপ্নের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটাও তো তখন থেকেই দেখি!

আতহার আলী খান, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ