কাল বাংলাদেশের ‘গেম প্ল্যান’ কী হবে?

November 5, 2018, 12:56 PM, Hits: 135

 কাল বাংলাদেশের ‘গেম প্ল্যান’ কী হবে?

করতে হবে ২৯৫ রান। হাতে ১০ উইকেটই আছে। বাংলাদেশ যদি হাসিমুখে মাঠ থেকে ফিরতে চায়, তবে কাল কী হবে তাদের গেম প্ল্যান?

সিলেট টেস্ট জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে হলে কঠিন এক পথই পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। করতে হবে ২৯৫ রান। হাতে উইকেট ১০টিই। সিলেট টেস্ট যেভাবে এগোচ্ছে, ম্যাচের ফল আসতে বাধ্য। সেই ফলটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর হবে? না কি লেখা হবে আরেকটি হতাশার গল্প! বাংলাদেশ যদি হাসিমুখে মাঠ থেকে ফিরতে চায়, তবে কাল কী হবে তাদের গেম প্ল্যান বা রণকৌশল?

দলের প্রতিনিধি হয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস। দলের রণকৌশল নিয়ে বলার মোক্ষম ব্যক্তি রোডস একটু ধারণা দিয়েছেন কাল কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ, ‘বিশ্বাস করুন আর না করুন, জেতার জন্যই আজ আমরা কিছু কাজ ঠিক করেছি। পাঁচটা সেশন জিতে এসেছি (৯টার মধ্যে)। প্রথম সেশন কিছুটা ভারসাম্য ছিল। পরের দুটি জিতেছি। আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা চেষ্টা করব কালকের সেশনগুলোও জিততে।’

বুঝতে হবে উইকেট

বাকি সেশনগুলো জিততে বাংলাদেশকে প্রথম যে কাজটা করতে হবে, উইকেটের আচরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলা। উইকেটে এখনো ধারাবাহিক টার্ন দেখা যায়নি। আহামরি কোনো চিড় কিংবা ধুলা ওড়ার মতো কিছু দেখা যায়নি। জিম্বাবুইয়ান স্পিনাররা নিশ্চয়ই রাতারাতি মুত্তিয়া মুরালিধরন কিংবা শেন ওয়ার্ন হয়ে যাবেন না! উইকেট বিলিয়ে না এলে টেন্ডাই চাতারা-জার্ভিসের মতো পেসার সামলানোও কঠিন কিছু নয়। রোডস আশাবাদী, কাল তাঁর ব্যাটসম্যানরা পারবেন, ‘ভালো দিক হচ্ছে, উইকেটে বল এখনো ভীষণ বাঁক নিতে দেখা যাচ্ছে না। সব বল টার্ন করছে না। মাঝে মধ্যে কিছু বল টার্ন করছে। আপনি বেশি দুশ্চিন্তা না করলে এই উইকেটে বেশি সমস্যা হওয়ার কথায় নয়। এই উইকেটে আপনি খেলতেই পারেন স্পিনের বিপক্ষে। আজ ইমরুল ও লিটন দেখিয়ে দিয়েছে তারা সেটা করার সামর্থ্য রাখে। এখানে রান করার উপায় অবশ্যই আছে। বড় স্কোর তাড়া করে জেতা খুবই কঠিন, কিন্তু এটা অসম্ভব নয়।’

গড়তে হবে জুটি

বড় স্কোর তাড়া করে জেতা কঠিন, বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন রোডস। কিন্তু আশা ছাড়ছেন না। বড় স্কোর তাড়া করতে বাংলাদেশ কোচের মস্তিষ্কে একটি সূত্র কাজ করছে, গড়তে হবে কয়েকটি লম্বা জুটি, ‘দুটি ভালো জুটি হবে, এ আশায় আছি। যদি সেটা করতে পারেন, আপনি জিততে পারবেন। ক্রিজে যখন কোনো ব্যাটসম্যান যায়, সে স্নায়ুচাপে ভোগে। অবশ্য সেটি কেউ বুঝতে দেয় না। ভিভ রিচার্ডস যখন উইকেটে যেতেন, আপনার মনে হতে পারে তিনি বোধ হয় কোনো ¯স্নায়ুচাপে ভুগছেন না। কিন্তু তাঁর ভেতরেও কিছু না কিছু কাজ করত। বল খেলতে খেলতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

এগিয়ে থাকতে হবে মানসিকভাবে

স্কিলের লড়াই তো আছেই। জিততে হলে এগিয়ে থাকতে হবে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও। বিশাল লক্ষ্য, এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছে। ২০০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড মুশফিকদের ওই একটাই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১০১ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ১০১ করতেই প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম! কাল কীভাবে পারবে বাংলাদেশ? রোডস হাল ছাড়ছেন না। বাংলাদেশ কোচ জানালেন, ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট ভালো, ‘ড্রেসিংরুম অনেক আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করে এই স্কোরটা গড়া সম্ভব। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভালো ব্যাটিং করতে আমরা তৈরি। ইমরুল ও লিটনের প্রতি ভীষণ সন্তুষ্ট যে সেই সুযোগটা তারা আজ আমাদের করে দিয়েছে। কাল আবার আমাদের শুরু করতে হবে।’

‘ডমিনো এফেক্টে’ আক্রান্ত না হওয়া

বাংলাদেশের এই রোগটা পুরোনো। উইকেট যখন পড়তে থাকে, তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে পড়তে থাকে। এটা কখনো হয় শুরুতে, কখনো হয় ইনিংসের মাঝে কিংবা শেষে। সিলেট টেস্টের কথাই ধরুন, ১৯ রানে পড়ে গেল ৪ উইকেট। সেটির প্রভাব থাকল পুরো ইনিংসজুড়ে। আবার অনেক সময় দেখা যায় শুরুটা অসাধারণ হয়েছে। ২ উইকেটে ২৭২ রান উঠে গেছে। পরের ২৫ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে অলআউট! গত জুলাইয়ে অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংস জুড়েই ছিল ডমিনো এফেক্ট! একবার উইকেট পড়তে শুরু করলে আর থামাথামির নাম নেই! নতুন ব্যাটসম্যান টিকতে পারেন না বেশিক্ষণ। এসেই পথ ধরেন ড্রেসিংরুমের। বাংলাদেশ কোচও খুঁজছেন এই রোগের ওষুধ, ‘ডমিনো এফেক্ট বড় সমস্যা। যদি আমরা বড় জুটি চাই, তাহলে দুজনকে উইকেটে থাকতে হবে। তাদের দায়িত্ব ইনিংস বড় করা। দলের এটাই দরকার। পরের উইকেটটি খুব দ্রুত পড়তে পারে। প্রথম বলে আউট হওয়ার অভিজ্ঞতা আমারও আছে।’ 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ