তরিকুল ইসলামের ইন্তেকালঃ ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোক প্রকাশ

November 6, 2018, 4:41 AM, Hits: 252

তরিকুল ইসলামের ইন্তেকালঃ ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোক প্রকাশ

হ বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে : বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলাম বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন); তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্ণিয়া শাখা যুক্তরাষ্ট্র।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র সভাপতি মোঃ আঃ বাছিত ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল চৌধুরী শিপলু স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে বিএনপি ক্যালিফোর্ণিয়া শাখা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন গণমানুষের রাজনীতির সাথে আজীবন যুক্ত। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত তিনি সবসময় ছিলেন জনগণের পক্ষে। দেশ ও দশের প্রতি সহমর্মী এই মানুষটি সবসময় নিজ আদর্শে ছিলেন অবিচল। আজীবন সংগ্রামী এই মানুষটি নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করেও কঠিন সিদ্ধান্তে অটুট থাকতেন। তার রাজনীতি দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সবসময় অনুপ্রেরণা যোগাবে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে হারানো গণতন্ত্র ফিরে পাবার আন্দোলনে মোঃ তরিকুল ইসলামের অবদান অবিস্মরণীয়।

আরো বলা হয়, দেশ ও দলের স্বার্থে নিষ্ঠা সহকারে দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। নিজস্ব মতাদর্শে তিনি ছিলেন নির্ভীক ও প্রত্যয়দৃঢ়। তার কর্মময় জীবনের সাফল্যের মূলে ছিল আদর্শনিষ্ঠ উদ্যম ও উদ্যোগ। জনঘনিষ্ঠ ও কর্মীবান্ধব রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণেই তিনি জনগণ ও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিকট ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। মরহুম তরিকুল ইসলামের রাজনীতির মধ্যে নিহিত ছিল সমাজ উন্নয়নের মূল শক্তি। বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সমাজকল্যাণমূলক কাজকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো। আমরা একজন সত্যিকারের অভিভাবককে হারালাম। 

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের সাহসী সংগ্রামে মরহুম তরিকুল ইসলামের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপির বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেনঃ  মোঃ আঃ বাছিত, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন দিলির, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, খন্দকার আলম, আবুল ইব্রাহিম, মুর্শেদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান শাহীন, সালাম দাঁড়িয়া, মানিক চৌধুরী, মাতাব আহমদ, আব্দুল হাকিম, মিশর নুন, আবু তাহের সাজু, এ আর মাহবুবুল হক, মুরাদ হামিদ খান সানী, সাইদ আবেদ নিপু, ফারুক সরকার, খন্দকার তসলিম, মোঃ সামছুল ইসলাম, জহিরুল কবির হেলাল, মোঃ শাহজাহান, হাসানুজ্জামান মিজান, বাদল, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন জেবুল, মোয়াজ্জেম আহমেদ রাসেল, মারুফ খান, ইলিয়াস মিয়া, লায়েক আহমেদ, বদরুল আলম মাসুদ, শাহীন হক, শাহতাব কবির ভূঁইয়া শান্ত, নাঈমুল ইসলাম চৌধুরী, হোসেন আহমেদ, রেজাউল হায়দার চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মিজানুর রহমান, খসরু রানা, শাহানুর কবির ভুঁইয়া শুভ্র, আজমউদ্দিন চৌধুরী দুলাল, সুমেন আহমেদ, রেজাউল করিম জামিল, জুয়েল আহমেদ, কামরুল হাসান তরুন, মিকায়েল খান রাসেল, খায়রুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, জাভেদ বখত্ , আবদুল মোতালেব, আলতাফ হোসেন, আহসান আহমেদ, মিল্টন খান, ওমর ফারুক, কামাল হোসেন, ফয়সল হোসেন সিদ্দিক, আমজাদ হোসেন, খোরশেদ আলম রতন, জিল্লুর রহমান চৌধুরী, তারেক খান, রওনক সালাম, তাসনুভা বেগম, রুহুল আমিন বাবু, সাজ্জাদ পারভেজ, হেলাল মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন, শাহেদ আহমেদ, সিদ্দিক আহমেদ, জুনেল আহমেদ, মোঃ গোলাম সারোয়ার হোসেন, ইলিয়াস শিকদার, আবুল বাশার, আবদুল আহাদ, আবদুল হাকিম, কামরুল আলম চৌধুরী, গিয়াস আহমদ, মজিবর রহমান, ফখরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মোঃ শামীম উদ্দিন, আবদুল মুনিম, আশিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবদুল হাসিব বাবুল, আবদুল কাদির, মাঈনুল আহমেদ, রিপন চৌধুরী, এড. নুরুল হক, জামিল আহমেদ, মোঃ রহমান রফিক, সফিকুল ইসলাম পলাশ, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মুকুল, আবদুল্লাহ আল ফরহাদ, এনাম চৌধুরী, মোঃ আলম খোকন, সৈয়দ আলী আক্তার, রফিকুল আলম চৌধুরি সহ আরো অনেকেই।

উল্লেখ্য যে, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে গতকাল বিকালে এ্যাপেলো হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলে ৭৩ বছর। চার দলীয় জোট সরকারের তথ্য ও পরিবেশ মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম যশোর সদর আসন থেকে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সরকারেও তিনি প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। যশোর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তরিকুল ইসলাম। ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির ছাত্র ইউনিয়নের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর অনুসারী হিসেবে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তরিকুল। তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০০৯ সালে পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তরিকুল ইসলাম দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত তরিকুল ইসলাম দলের বিভিন্ন সময়ে  দুর্দিনে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন বলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্বেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তরিকুল ইসলাম তরিকুল ইসলাম স্ত্রী ও  দুই ছেলে রেখে গেছেন। বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ