চমক হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানব বন্ধন

November 19, 2018, 11:34 AM, Hits: 963

চমক হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানব বন্ধন

জাহাঙ্গীর বাবু ,  হ-বাংলা নিউজ : মৃত্যুর মিছিল থামেনা! কয়েকদিন পর পর দেখি মানব বন্ধন।পত্রিকার পাতায় পাতায়,টিভি স্ক্রীনে বিভৎসতার সংবাদ। সম্প্রতি গত ১১ নভেম্বর নোয়াখালীর  মাইজদীতে নিখোজ হয় তামাসুম তানিয়া চমক।

চমক নোয়াখালী সদরের সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। চমক হত্যার বিচার দাবিতে ১৮-১১-২০১৮, রবিবার সকাল দশটায় চমক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং সকল খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে  মাইজদী টাউন হল মোড়ে। প্রেসক্লাবের সামনে চমকের খুনের খুনীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় বৃহৎ কর্মসুচী দেয়া হবে বলে জানান উপস্থিত বক্তারা। মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে কলেজ ছাত্রী তাবাসসুম তানিয়া চমকের খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জানানো হয়।

জানা যায়,নিখোঁজ হওয়ার ৪দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তামাসুন তানিয়া চমকের (২১) লাশ উদ্ধার করে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ। জেলা শহর মাইজদীর পৌর বাজার মসজিদ সংলগ্ন নিজ বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে পুলিশ চমকের লাশ উদ্ধার করে।

চমক নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষ হিসাব বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী। সে শহরের পূর্ব জয় কৃষ্ণরামপুরের এনামুল হক হিমেলের মেয়ে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দহে তাপস নামের তার এক সহপাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের ঘটনা শহরের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে কয়েকশত মানুষের ভিড় জমিয়েছিল।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও চমকের অভিভাবকরা চমকের খোঁজ করে আসছিল। বৃহঃপতিবার এক কাজের বুয়া চমকদের বাসার পাশের

ডোবায় ময়লা ফেলতে গিযে তার গায়ের জামা কাপড় ভাসতে দেখে তার মাকে জানায়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব এসে ওই স্থানে পানির নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
এর পুর্বে গত শনিবার ১৭-১১-২০১৮ বিকালে দশটায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী  ও অভিভাবকরা। সোনাপুর-মাইজদী সড়কের সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
মানববন্ধনে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, কলেজের অধ্যক্ষ পদীপ নারায়ণ শাহা সহ কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী  ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে ঢাকা থেকে আসা বাবা ও মাকে আনতে মাইজদী রেল স্টেশন যায় চমক। কিন্তু বাবা ও মা সরাসরি বাসায় চলে আসলেও চমককে বাসায় এসে দেখতে পায়নি তাঁরা। পরে বিষয়টি সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে অবহিত করা হয়।
সর্বশেষ,সংবাদ প্রতিনিধি আকমল হোসেনের মন্তব্যে জানা যায়,নোয়াখালীতে কলেজছাত্রী তাবাসসুম তানিয়া চমকের হত্যাকারী তাপস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মাইজদি বাজারের মাস্টারপাড়ার খালার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় সহপাঠী চমককে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে তাপস।
তাপস কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভূঁইয়ারহাট বাজারের সেলুন ব্যবসায়ী বাবুচন্দ্র শীলের ছেলে। সে সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। থাকত মাইজদীর খালার বাসায়।চমক তাপসের সহপাঠী ছিল।  তারা এক সঙ্গে কলেজে যাওয়া-আসা করত। পথে তাপস অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে চমক। এতে ক্ষুব্ধ তাপস রোববার রাত ৯টায় মোবাইলে ফোন করে চমককে কোর্ট স্টেশনে ডেকে আনে। এরপর সশস্ত্র ৪ যুবকের সহায়তায় তাকে নিকটবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গণধর্ষণ, বেধড়ক মারধর ও গলায় ওড়না পেঁছিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ বস্তায় ভরে তার বাড়ির পেছনের ডোবায় ফেলে দেয়া হয়।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ