চমক হত্যার রহস্য উম্মোচন,মায়ের হাতে মেয়ে খুন।

November 25, 2018, 1:33 PM, Hits: 840

চমক হত্যার রহস্য উম্মোচন,মায়ের হাতে মেয়ে খুন।

জাহাঙ্গীর বাবু, হ-বাংলা নিউজ : প্রেম মানেনা ধর্ম,জাত,উঁচু,নীচু,ধনী,গরীব।গল্প আর কল্প কাহীনির লাইলী,মজনু,শিরী,ফরহাদ,হির রানঝা, রাধা কৃষ্ণ কিংবা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি অথবা  বাস্তবে নিকট অতীতে প্রেমের বলির অনন্য এক রোমহর্ষক ঘটনা মাইজদী পৌর বাজার এর মুসলিম মেয়ে তাবাসসুম তানিয়া চমক আর হিন্দু ছেলে তাপস এর অমাপ্ত প্রেম কাহিনী।

রাজা,বাদশাহ সম্রাটের ধর্ম কিংবা শান রক্ষার মতো মুসলিম পরিবারের সন্মান হানি,মায়ের মাতৃত্বের গায়ে দাগ সরাতেই মায়ের হাতে মেয়ে খুন।

যার সংবাদ আমরা প্রকাশ করেছিলাম সোনাপুর আর মাইজদী,নোয়াখালীর মানব বন্ধনের সংবাদ এর মাধ্যমে। আজ তার রহস্য উম্মোচিত হবার পর ফলো আপ সংবাদ করছি।হাত কাঁপছে।কেননা,এখানে আসামীর কাঠগড়ায় মা।যে মা নয়মাস গর্ভে রেখেছেন অতি যত্নে।তিল তিল করে বড় করেছেন, দেখেছেন কতো স্বপ্ন মেয়েকে নিয়ে।ভর্তি করেছেন কলেজে। যাক আর কাব্য নয়,সংবাদে কাব্য বেমানান।সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষন কোর্সে তাই শিখিয়েছে।সাংবাদিকতার শিক্ষক বলেছেন,কাব্য চর্চার জন্য সাহিত্য পাতা।তবে আমি শখের সাংবাদিক।কাব্য কবিতার পাশাপাশি সংবাদ,  আবেগ,ভালোবাসায় কাব্য এসেই যায়। সংবাদ লিখতেও চোখ ভিজে,বুক ধড়ফড় করে।

চমক হত্যার মধ্য দিয়ে দুহাজার আঠারো সালের নভেম্বর মাসে নতুন এক ইতিহাস রচিত হলো,আমাদের পত্রিকা আমরা তার হতবাক করা নির্বাক সাক্ষী। শুধু বলি ওপারে ভালো থেকো চমক।আর যেন কোন মায়ের হাতে খুন না হয় আদরের কন্য।আসলে আমরা আর কোন সন্তানের এমন মৃত্যু চাইনা। চাইনা অসম প্রেমের বিষম কাহিনী।

শিক্ষক,সহপাঠি,শুভাকাঙ্ক্ষীরা মানববন্ধন করে আট চল্লিস ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। অতঃপর নোয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)  চমক হত্যার রহস্য ১২দিনের মধ্যে উম্মোচন  করেছে। মায়ের হাতেই খুন হয়েছে চমক।

নোয়াখালীতের হিন্দু ছেলের সঙ্গে প্রেমের জেরে তাবাসসুম তানিয়া চমক (২২)কে তার মা হত্যা করে রাতের আঁধারে লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে রাখেন। তাবাসসুম তানিয়া চমক (২২) নোয়াখালীর সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলো।

পুলিশ জানায়, গত ১১ নভেম্বর নোয়াখালী পৌরবাজার সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকান্ড ঘটে।  ১৫ নভেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তানিয়ার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে সুধারাম থানা পুলিশ।

 ওই দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তানিয়ার বন্ধু (প্রেমিক) তাপসকে আটক করে পুলিশ। পরে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফের নির্দেশে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) হাতে।

এরপরে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবির ওসি আবুল খায়ের তানিয়ার মা সাজেদা আক্তার নিপু (৫৫), বোন চাঁদনী (১৯) ও মামা সোহেলকে পৌরসভার বাড়ি থেকে আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকান্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

এরপর বোন চাঁদনীকে শুক্রবার নোয়াখালী বিচারিক আদালত-২ এ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সোহেব উদ্দিন খাঁনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম তানিয়া চমক সহপাঠি হিন্দু ধর্মের ছেলে তাপসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জাড়িয়ে পড়েন।

 তানিয়ার মা ঢাকা থেকে নোয়াখালীতে বাসায় ফেরার পর  তার অনুপস্থিতিতে তাপস-তানিয়ার ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথা বলে দেন তার বোন চাঁদনী। এতে তার মা সাজেদা আক্তার নিপু ক্ষিপ্ত হয়ে তানিয়া এলে, এলোপাথাড়ি মারধর ও লাথি মারেন। এ সময় তানিয়া অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মা, মামা ও বোন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তানিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। গভীর রাতে লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেন। পরে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তানিয়ার মা।

ওসি (ডিবি) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়ার মা ও বোন হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 এ ঘটনায় নিহতের বোন আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দির দিয়েছে। মা ও মামার জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে ।

স্থানীয়রা জানান, তানিয়ার বাবা শাহাজাদা ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকায় থাকেন। ৮-১০ দিন আগে চমকের মা সাজেদা আক্তার নিপু, মেয়ে তানিয়া ও চাঁদনীকে বাসায় রেখে ঢাকায় যান।

গত ১১ নভেম্বর ২০১৮ হত্যাকান্ডের দিন তানিয়ার মা উপকুল এক্সপ্রেস যোগে মাইজদী ফেরেন।মেয়ে  তানিয়া চমক তাকে মাইজদী কোর্ট রেলস্টেশনে এগিয়ে আনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে থানায় জিডি করেন।

পরে ১৫ নভেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তানিয়ার অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

উল্লেখ্য পূর্বে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সন্দের তীর তাপসের দিকেই ছিলো।উঠেছিলো প্রেমিক তাপসের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তাপস খুন করেছে চমককে।তদন্তে উঠে আসা মায়ের হাতে মেয়ে খুনের ঘটনায় হতবাক মাইজদী, নোয়াখালীবাসী। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ