বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

December 29, 2018, 1:00 PM, Hits: 540

বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

হ-বাংলা নিউজ : মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে কঠোর সমালোচনা করে দেশটিতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের চরম অসন্তোষ তুলে ধরে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মার্কিন কংগ্রেসের রুদ্ধতার বিশেষ সভায় এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন কংগ্রেসকে অবগত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পৃথক পৃথকভাবে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ, সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বার বার তাগাদা জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও দেশটির ক্ষমতাশীন নেত্রী শেখ হাসিনা তা আমলে নিচ্ছেন না। তার পরও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং দেশটিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আনতে চাপ কঠোর থেকে কঠোরত হতে হবে। আজ অথবা কাল শেখ হাসিনা ঠিকই বুঝতে হবে, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বেশি দিন অব্যাহত রাখা এর পরিণাম বড় শোচনীয়। যা থেকে দেশটিতে যে অশান্তির শুরু হবে তার শেষ নেই, এবং হতে পারে গৃহযুদ্ধ, বাংলাদেশ যা থেকে দূরে রাখতে বাঞ্ছনীয়।

জন সিফটন আরো বলেন, শেখ হাসিনা আজ হয়তো নিজে অনুধাবন করতে পারছেন না, তবে এক দিন তাকে ঠিকই অনুধাবন করতে হবে, প্রশ্ন হলো তখন কি তার জন্য অনেক বেশি দেরি হয়ে যাবে? যখন কি না তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পরিণাম সম্পর্কে তিনি বুঝতে পারবেন। শেখ হাসিনার মন্ত্রী পরিষদ থেকে তাকে সঠিক পরামর্শ দেয়ার ক্ষেত্রেও যোগ্য মানুষের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জন সিফটন। শেখ হাসিনাকে সঠিক পরামর্শ দেয়ার অভাব আছে, যেখানে তার কি করা উচিত দেশের মানুষের স্বার্থে।’

সিফটন আরো উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনাও ঘটছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে। বিরোধী দলের লোকজন স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে না। বিশেষ বাহিনীর দমন-পীড়নে ভীত-সন্ত্রস্ত অনেকে।’ র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এমনকি গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভয় আর ভীতি। ফলে সাংবাদিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না।’ সিফটন বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতা নেবে তাদের বৈধতা থাকবে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর রাখতেই অবাধ-সুষ্ঠু পরিবেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ‘নির্বাচনি প্রচারণায় সহিংসতার শিকার বিরোধীরা’ বলছে এইচআরডব্লিউ। বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ‘দমনমূলক পরিবেশ’ বিরাজ করছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অবস্থা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ এসব কথা বলে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করেছে সরকারের কাছে। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ।

‘ক্রিয়েটিং প্যানিক: বাংলাদেশ ইলেকশন ক্র্যাকডাউন অন পলিটিক্যাল অপন্যান্টস অ্যান্ড ক্রিটিকস’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি ৩৭ পৃষ্ঠার। সেখানে বলা হয়, ব্যাপক মাত্রায় নজরদারি, মুক্তভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বাধার মতো কর্তৃত্বপরায়ণ পদক্ষেপ চলছে। এর ফলে বাংলাদেশে এক ধরনের ভয়ের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিপক্ষ সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ওপর সহিংস হামলা চলছে। সরকার এসব ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। পুলিশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের আটক ও গ্রেফতার করছে।

এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। তারা যেন শাসক দলের মতো কাজ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণায় যে সহিংসতা চলছে, এর প্রধান শিকার হচ্ছে বিরোধীরা। পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন যে সঠিক আচরণ করছে না, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

এইচআরডব্লিউয়ের প্রতিবেদনটি তৈরি করতে ৫০ জনের বেশি রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নেয়। এর পাশাপাশি আদালতের নথি ঘাঁটে। : সরকার সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী মতামতকে জোর করে রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটি সাংবাদিকদের উদ্ধৃত করে বলেছে, তাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বড় বাধা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এক পত্রিকার সম্পাদককে উদ্ধৃত করে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ এক ভয়ের সংস্কৃতি, ভীতিকর পরিবেশ। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ