ভবন ক্রয়-বিক্রয় সহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

February 1, 2019, 1:28 PM, Hits: 168

ভবন ক্রয়-বিক্রয় সহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

সালাহউদ্দিন আহমেদ, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :  যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বহত্তর সিলেটবাসীদের সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাধারণ সভায় অচিরেই নিউইয়র্কে এসোসিয়েশনের নিজস্থ ভবন ক্রয় এবং কার্যকরী পরিষদের (ইসি কমিটি) মেয়াদ তিন বছরের স্থলে ২ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ এসোসিয়েশনের পরবর্তী কমিটির মেয়াদ হবে ২০২০-২০২১ সাল। এদিকে সভায় সংগঠনের ভবন স্থায়ী ভবন ক্রয় এবং ফিলাডেলফিয়ায় বিক্রয় সহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। অপরদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মন্ত্রী সভায় সিলেটের মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় দেয়া বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করে কোন কোন সদস্য সভায় ক্ষোভ প্রকাশ এবং এসোসিয়েশনকে দলীয়করণ বা রাজনৈতিক আবরণ না করার আহŸান জানান। সভায় একাধিক সদস্য এসোসিয়েশনের এই সাধারণ সভাকে একটি সফল সভা হিসেবে উল্লেখ করে সদস্যদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি জোরদার ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিটির এস্টোরিয়াস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে গত ২৭ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান। সভা মে  উপবিষ্ট ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ, গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব জহুরুল হক চৌধুরী, এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও বদরুন নাহার মিতা, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান ও আব্দুল হাসিম হাসনু, এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন ও আতাউর রহমান সেলিম। সভা পরিচালনা করেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন এসোসিয়েশনের সাবেক সহ সভাপতি মওলানা ছয়ফুল আলম সিদ্দিকী। এসময় তিনি সদ্য প্রয়াত এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মরহুম আকলাস উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য কয়সর রশীদের পিতা মরহুম আলহাজ শাফাত উদ্দিন, সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল বাতেনের কন্যা মরহুম শিরিন আক্তার সহ মৃত্যুবরণকারী সংগঠনের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনা এবং অসুস্থদের সুস্থ্যতা কামনা করা হয়।
এরপর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন জুয়েল চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন আতাউল গণি আসাদ।
সাধারণ জুয়েল চৌধুরী তার রিপোর্টে গত বছরের কার্যক্রম বিশেষ করে কনস্যুলেট সেবা, আজীবন সদস্য সংগ্রহ, হাউজিং এ্যাসিসটেন্স, অমর একুশে পালন, ইফতার মাহফিল, বন্যার্তদের সাহাযার্থে তহবিল সংগ্রহ প্রভৃতি কার্যক্রম এবং আগামী ৬ মাসের প্রস্তাবিত কর্মকান্ড বিশেষ করে ‘জালালাবাদ ভবন’ প্রতিষ্ঠা, অমর একুশে পালন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও ইফতার মাহফিল আয়োজনের কথা তুলে ধরেন এবং সদস্যদের সংগঠনের আজীবন সদস্য হওয়ার আহŸান জানান।  
অপরদিকে কোষাধ্যক্ষ আতাউল গণি আসাদ তার রিপোর্টে ২০১৮ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে সংগঠনের অ্যাসেট রয়েছে ৮০ হাজার ৭৫০ ডলার এবং ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৪১ ডলার ৮৮ সেন্ট। রিপোর্টে বলা হয় গত বছর ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫০ ডলার, অফিস ভারা ও মেইনটেনেন্স বাদ ব্যয় ১৮ হাজার ১৫০ ডলার, জেনারেল এম এ জি ওসমানীর শতবর্ষ জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান বাদ ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৬০০ ডলার, অন্যান্য ব্যয় (মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন ও প্রিন্টিং) ৫ হাজার ১৪০ ডলার এবং বিজয় দিবস পালন বাদ ব্যয় হয়েছে  এক হাজার ২০০ ডলার।

সভায় আলোচনায় অংশ নেন কামাল আহমেদ, আজিমুর রহমান বোরহান, আব্দুল হাসিব মামুন, মস্তফা কামাল, মকবুল রহীম চুনুই, রফিকুল বারী চৌধুরী, মাসুদুল হক সানু, হাজী আব্দুর রহমান, ফজলুর রহমান, এম এ মতিন, পংকি মিয়া, মির্জা মামুন, এবাদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, আহবাব চৌধুরী খোকন, শেখ আতিকুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, মনির আহমেদ, মিজানুর রহমান মিজান, দরুদ মিয়া রনেল, রশীদ আহমেদ, হারুন অর রশীদ এবং নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদপ্রার্থী হেলাল আবু শেখ সহ এসোসিয়েশনের সদস্য ও সাবেক কর্মকর্তাগণ।
সভায় ইতিপূর্বে দেয়া প্রতিশ্রæতি মোতাবেক ‘জালালাবাদ ভবন’ না হওয়া, ফিলাডেলফিয়ায় ক্রয় করা ভবন সদস্যদের না জানিয়ে বিক্রয় করার কারণ ব্যাখ্যা দাবী করেন এবং নিইয়র্কের মিডিয়ায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নামে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে’ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানানোর ঘটনাকে এসোসিয়েশনকে দলীয়করণ করার অভিযোগ নিয়ে হৈ চৈ এর ঘটনা ঘটে এবং উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। অবশ্য সিনিয়র সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পরবর্তীতে সভার কার্যক্রম চলে। এছাড়াও এক মাস পূর্বের নোটিশে সাধারণ সভা আয়োজনের কথা থাকলেও এক দুই সপ্তাহের নোটিশে এই সভা আয়োজনের বৈধতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সভায় কোন কোন বক্তা কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টকে অসম্পূর্ণ রিপোর্ট হিসেবে উল্লেখ এবং পূর্নাঙ্গ আয়-ব্যয়ের রিপোর্ট দাবী করেন। পরবর্তীতে সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী।

সভায় কামাল আহমেদ তার বক্তব্যে তিনি এসোসিয়েশনের সভাপতি থাকাকালীন সময় ফিলাডেলফিয়ায় সংগঠনের নামে ক্রয় করা বাড়ী সদস্যদের না জানিয়ে বিক্রি করার এবং কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তখন বাড়ীটি ক্রয়ে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, সমালোচনা করা হয়েছে। অথচ বাড়ী এসোসিয়েশনের অ্যাসেট ছিলো।
আজিমুর রহমান বোরহান বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক এক মাস পূর্বে নোটিশ দিয়ে সাধারণ সভা করার কথা। কিন্তু তা হয়নি। সভার এক/দুই সপ্তাহ আগে দু’একটি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছ মাত্র, কেন অন্য মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়নি। তিনি সভা আহŸানের বৈধতারও প্রশ্ন তোলেন এবং এসোসিয়েশনের অ্যাসেট নিয়ে লুকোচুরি না খেলার আহŸান জানান।
মকবুল রহিম চুন্ন তার বক্তব্যে সাধারণ সভা আহবানে এসোসিয়েশনের গনতন্ত্র লংঘনের প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আয়-ব্যয় হিসেবে আরো স্বচ্ছতা দাবী করেন।
মাসুদুল হক সানু তার বক্তব্যে সভায় ট্রাষ্টিবোর্ডের সদস্য অনুপস্থিত কেন তার ব্যাখ্যা এবং কবে নাগাদ স্থায়ী ভবন হবে তার সঠিক দিক নির্দেশনা দাবী করেন এবং আজীবন সদস্য বৃদ্ধি ও স্থায়ী ভবন করার আহŸান জানান।
হাজী আব্দুর রহমান তার বক্তব্যে বৃহত্তর সিলেটের অন্যান্য জেলা ছাড়া শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা দূর্গত এলাকার গরীব-দুস্থদের মাঝে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সাহায্য বিতরণ করার কারণ এবং স্থায়ী ভবন ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট সময় জানানোর দাবী জানান।
মস্তফা কামাল বলেন, জালালাবাদ ভবন ক্রয়ের জন্য কালীপদ চৌধুরী সহ আমরা অনেকেই আর্থিক সাহায্য প্রতিশ্রæতি দিয়েছি। কিন্তু ভবন ক্রয়ের আগ্রগতি নেই, বরং ফিলাডেলফিয়ার বাড়ী বিক্রি কওে দেয়া হলো কেন তা জানাতে চাই।

আব্দুল হাসিব মামুন এসোসিয়েশনকে আরো সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে শক্তিশালী করার আহŸান জানান।  
মির্জা মামুন তার বক্তব্যে সদস্যদের না জানিয়ে ফিলাডেলফিয়ার বাড়ী বিক্রি আর স্থায়ী ভবন না করা এবং আয়-ব্যয় হিসেবের সমালোচনা করেন।  
আবু সাঈদ আহমেদ ও মিজানুর রহমান তাদের বক্তব্যে বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন প্রবাসের সকল সিলেটীদের সংগঠন। এই সংগঠনকে রাজনীতিমূক্ত রাখতে হবে। তারা  নিইয়র্কের মিডিয়ায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নামে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে’ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানানোর ঘটনাকে এসোসিয়েশনকে দলীয়করণ করার অভিযোগ ও তীব্র সমালোচনা করেন।
দরুদ মিয়া রনেল বলেন, সম্মান পেতে হলে, সম্মান দিতে হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে বসবাসকারী সকল বাংলাদেশীর প্রধানমন্ত্রী। একজন প্রধানমন্ত্রীকে দলমত-নির্বিশেষে সম্মান জানানো উচিৎ। জালালাবাদ এসোসিয়েশনে আমরা সবাই ভাই-ভাই।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, জালালাবাদ এসেসিয়েশন প্রবাসী সিলেটীদের প্রাণের সংগঠন। সংগঠনে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরী। অন্যথায় সংগঠন করার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ব্যহত হবে। তিনি এসোসিয়েশনের স্থায়ী ঠিকানা দাবী করেন।   
সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সকল জালালাবাদবাসীর সংগঠন। সংগঠন পরিচালনায় ভুল-ক্রটি হতেই পারে। আর সাধারণ সভায় সবার কথা বলার অধিকার রয়েছে, আমরাও ইসি’র পক্ষ থেকে সন্তোষ জবাব দেবো। তবে সবাইকে সংগঠনের নিয়ম-কানুন আর সভার শৃঙ্খলা মেলে চলা উচিৎ। সভাটি সফল করার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।  
সভাপতি বদরুল হোসেন খান বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন প্রবাসী সকল সিলেটীদের সংগঠন। সবাইকে নিয়েই আমাদের প্রিয় সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে অবশ্যই স্থায়ী জালালাবাদ ভবন হবে। তিনি এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে অত্যন্ত সফল সভা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতির জন্য সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
 

 

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ