বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাধারণ সভায় নতুন ভবণ ও ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা

February 2, 2019, 12:39 PM, Hits: 138

বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাধারণ সভায় নতুন ভবণ ও ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা

সালাহউদ্দিন আহমেদ, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :  যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীদের সামাজিক সংগঠন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সভায় নতুন ভবণ ক্রয় ও ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সভায় বক্তারা বর্তমান কমিটির সততার সাথেস দায়িত্ব পালন এবং তাদের কর্মকান্ডের প্রশংসা করে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন সবাই মিলে সাংগঠনিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে সংগঠনকে আরো কার্যকর করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিটির ব্রæকলনীনস্থ সোসাইটির নিজস্ব ভবনে গত ২৭ জানুয়ারী রোবার সন্ধ্যায় এই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি নাজমুল হোসেন মানিক এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহিদ মিন্টু।
সভায় অডিট কমিটি অনুমোদিত সোসাইটির ২০১৮ সালের বার্ষিক আয়-ব্যায়ের হিসেব পেশ করেন কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দীন আহমদ। এতে ২০১৮ সালের কোষাধ্যক্ষ তার লিখিত রিপোর্টে বলেন, বর্তমানে সংগঠনের তহবিলে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৫৬ ডলার ৮৮ সেন্ট জমা আছে। এরমধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩১ ডলার ৮ সেন্ট আর নগদ স্থিতি রয়েছে ৭ হাজার ৭২৫ ডলার ৮০ ডলার। গত বছরে মোট আয় হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৫ ডলার ৯৯ সেন্ট। আর ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ১৯৯ ডলার ১১ সেন্ট। আলোচনার পর অডিট রিপোর্ট সভায় গৃহীত হয়।

সোসাইটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে ৪০০ কবর ক্রয়, কার্যকরী কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সোসাইটির অফিস কক্ষে মাসিক ‘তাফসিরুল কোরআন মাহফিল’ (মাহফিলের ব্যয় সোসাইটির কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যয়), বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থায়নে সংগঠন কার্যালয়ে বাংলা স্কুল পরিচালনা, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোসাইটির সদস্য/সদস্যা সংখ্যা ৭ হাজার ৫১জন (আজীবন সদস্য ৪৫৪জন সহ) প্রভৃতি তুলে ধরা হয়। এছাড়াও প্রতিবেদনে অডিট রিপোর্ট ২০১৪ ও ২০১৫ সালের প্রতিবেদন মোতাবেক সোসাইটির সাবেক সভাপতি হাজী ওবায়দুল হকের কাছে পাওনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৭ ডলার আদায়ের জন্য কার্যকরী কমিটি ও ট্রাষ্টি বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোদ জানানো হয়।   
সভায় নোয়াখালী সোসাইটির বিদায়ী সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া ও সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সহ অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন এম এ সালাম, গোলাম কিবরিয়া মিলন, মাস্টার আবুল কালাম, মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল মালেক, আবুল কাশেম, মোশাররফ হোসেন সবুজ, হাসানুজ্জামান, বাদল, জামাল উদ্দীন, সাইফুল ইসলাম সুহেল, গোলাম কিবরিয়া, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ইউসুফ জসীম, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আলী, আরিফ হোসেন, হাজী আবুল কাশেম, মোশাররফ হোসেন, শামসুল আলম, আবু সুফিয়ান, আহসান উল্লাহ বাচ্চু, শাহ আলম, মিনহাজ উদ্দীন বাবর, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, লতিফুর রহমান লিটন, ডা. মুন্না, সিপিএ সারওয়ার বি সালাম, অধ্যাপক করিমুল হক, তাজু মিয়া, খোকন মোশাররফ, কাজী ফৌজিয়া প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের পর আলোচনাকালে অডিটররা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের হিসেবে এমন সততাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ এবং অন্যান্য সদস্যরা এর প্রশংসা করেন। সভায় বক্তারা বলেন, নোয়াখালী সোসাইটি এখন ভোট নির্ভর নয়, একটি কল্যাণ নির্ভর সংগঠনে পরিণত হয়েছে, নোয়াখালী সোসাইটি এখন কমিউনিটির অনুকরনীয় সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভায় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু তার বক্তব্যে সংগঠনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামী দিনে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে নতুন ভবন আর ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল হাসান মানিক বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি একটি জনকল্যাণমুলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এজন্য তিনি সকলকে সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসার আহŸান জানান।  সোসাইটির কর্মকর্তা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোসাইটির ৫ সদস্য বিশিষ্ট ২০১৮ সালের অডিট কমিটির সদস্যরা হলেন: আবুল কাশেম  (চেয়ারম্যন), মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, একেএম রশিদ আহমে, মোহাম্মদ সামসুল আলম ও মোহাম্মদ নুর আলম ছিদ্দিক মুন্না।

আরো উল্লেখ্য, নোয়াখালী সোসাইটির যেকোন নিয়মিত সদস্য ইউএসএ’র বাইরে মৃত্যুবরণ করলে সেই সদস্যকে মৃত্যু সুবিধা বাবদ এককালীন ২ হাজার ৫০০ ডলার প্রদান করা হয়।  এছাড়াও সোসাইটির গঠনতন্ত্র মোতাবেক কোন সদস্যের চাঁদা ২ বছর বকেয়া থাকলে তার সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে এবং এক বছরের চাঁদা বকেয়া থাকলে সেই সদস্য মৃত্যুকালীন কোন সুবিধা পাবেন না।


 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ