বিশিষ্ট সমাজসেবক এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী ১১ মার্চ

March 10, 2019, 12:16 PM, Hits: 309

বিশিষ্ট সমাজসেবক এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী ১১ মার্চ

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম,হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : বিশিষ্ট সমাজসেবক এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী ১১ মার্চ। দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সিলেট এবং যুক্তরাষ্ট্রে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেটে বিশেষ স্মরণ সভা, মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করবে এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী স্মৃতি সংসদ। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হবে মিলাদ-মাহফিল।
উল্লেখ্য, এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ২০১৫ সালের ১১ মার্চ সিলেটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ..রাজেউন)।
এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ছিলেন একজন নির্লোভ সমাজ সেবক। সমাজকে আলোকিত করতে সামাজিক কর্মকান্ডে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখে গেছেন তিনি। আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন ব্যক্তি ও সমাজসেবায়। ক্রীড়াঙ্গনেও ছিল তাঁর অতুলনীয় অবদান।
১৯৪৫ সালের ১৬ই জানুয়ারি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চরমোহাম্মদপুর  (চৌধুরীবাড়ি) গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মালীক চৌধুরী মদন মোহন কলেজের প্রতিষ্ঠলগ্ন থেকে সম্পৃক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাতা আছিয়া খাতুন চৌধুরী, ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে আজিজুল মালীক চৌধুরী সবার বড়। রেখে গেছেন স্ত্রী পান্না চৌধুরী, ২ পুত্র ও ১ কন্যা।
এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সিলেট জজ কোর্টের এপিপি এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালে জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালে জেলা বারের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তাছাড়াও আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৭৭ সালে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিলেট জেলা কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শক হিসেবে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের ক্রীড়াঙ্গণে এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর রয়েছে অনন্য অবদান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহ সভাপতি এবং দীর্ঘদিন কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সিলেট টেনিস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৮৩ সালের জুলাই থেকে ১৯৮৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সিলেট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর পূর্বে তিনি সিলেট পৌরসভার কর পুন:বিবেচনা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। আন্তর্জাতিক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এপেক্স বাংলদেশের একজন আজীবন সদস্য হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের এপেক্সিয়ানদের কাছে একজন চির সবুজ এপেক্সিয়ান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে এপেক্স ক্লাব অব সিলেটের মাধ্যমে তিনি তাঁর এপেক্স কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে ক্লাব প্রেসিডেন্ট, ১৯৮৩ সালে জেলা-০৪ বাংলাদেশ-এর গভর্ণর নির্বাচিত হন। এপেক্সিয়ান এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী এপেক্স বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্য সফর করেন। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ জানুয়ারি সিলেটে অনুষ্ঠিত এপেক্স বাংলাদেশ জাতীয় সম্মেলন তাঁকে উৎসর্গ করে নাম প্রদান করা হয় ‘মালীক এপেক্স’।
শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল অনুরাগ। তিনি ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি, কার্যকরী কমিটির সদস্য ও মৃত্যুকালে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর জন্মস্থান সিলেটের চরমোহাম্মদপুর নবারুন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা ছিল। তিনি বøু-বার্ড হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য, ওসমানী মেডিকেল উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যের মধ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক-গেøারিয়াস স্পোর্টিং ক্লাব, কথক সিলেট বেতার কেন্দ্র, প্রধান উপদেষ্টা-নিরাপদ সড়ক চাই, সিলেট জেলা শাখা, প্রধান উপদেষ্টা-সাকসেস এডুকেয়ার একাডেমী সিলেট, উপদেষ্টা-সিলেট প্রান্ত প্রভৃতি।
এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান পীরের সার্বিক তত্ত¡াবধানে স্মৃতির দিগন্তে নামে স্মৃতিস্মারক প্রকাশিত হয়।
তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানান, এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী আজ জীবিত নেই, কিন্তু রেখে গেছেন কর্মবহুল জীবনের নানা অধ্যায়। কর্ম দিয়ে সমাজকে আলোকিত করে গেছেন। আজিজুল মালীক চৌধুরীর অনন্য এক বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি ঘড়ির কাঁটা মেপে চলতেন। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে তিনি সময়মত উপস্থিত হতেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী ও বিনম্্র গুণের অধিকারী। ছোট বড় সকলের প্রতি ছিল তার অপরিসীম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ। নি:স্বর্থভাবে সমাজ ও মানব সেবায় প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসায় নিবেদিতপ্রাণ এই সমাজ কর্মীকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে সবাই।
এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রিমি চৌধুরী এবং  জামাতা বাংলাদেশী-আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট-বাক’র সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ