অ্যাশলে জডকে তিনবার ধর্ষণ!

April 15, 2019, 7:15 AM, Hits: 417

অ্যাশলে জডকে তিনবার ধর্ষণ!

হ-বাংলা নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘মিসিং’-এর রেবেকা উইন্সটন বা ‘কিস দ্য গার্লস’-এর ড. কেটকে নিশ্চয়ই মনে আছে? কিংবা ‘ফ্রিদা’ চলচ্চিত্রের টিনা মডোট্টিকে? এ বছর জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘আ ডগস ওয়ে হোম’ চলচ্চিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। তিনি অ্যাশলে জড, হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী। ১৯৬৮ সালে এক সংগীত পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে হলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

বরাবরই নারী অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার অ্যাশলে জড। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা নিয়ে জনসম্মুখে মুখ খোলার মতো সাহস রাখেন তিনি। এবার টিনা ব্রাউনের বার্ষিক নারীবিষয়ক ১০ম বৈশ্বিক সম্মেলনে বললেন, তিনবার ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এর ফলে একবার বাধ্য হয়ে তাঁকে গর্ভপাত ঘটাতে হয়েছিল। ই অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘সবাই জানে, আমি এসব বিষয়ে খুবই খোলামেলা। আমি তিনবার ধর্ষিত হয়েছি।’

আপনি বাচ্চাটাকে কেন পৃথিবীর আলো দেখতে দিতে চাননি? এই সম্মেলনে দর্শক সারিতে যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে ওঠে আসে প্রশ্নটি। অ্যাশলে জড বলেন, ‘ধর্ষক কেন্টাকির বাসিন্দা ছিল। আর আমি তখন টেনেসিতে থাকতাম। কেন্টাকি আর টেনেসির আইন অনুযায়ী আমাকে ওই ধর্ষকের সঙ্গে সন্তানের অভিভাবকত্ব ভাগ করতে হতো।’

২০১৫ সালে অ্যাশলে জড ‘ভ্যারাইটি’ ম্যাগাজিনকে জানান, তিনি একজন স্টুডিও মুঘলের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ২০১৭ সালে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তির নাম হার্ভে ওয়াইনস্টিন। তিনি হলিউডের বিখ্যাত প্রযোজক ও মিরাম্যাক্সের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা।’ ‘কিস দ্য গার্লস’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে তিনি অ্যাশলে জডকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ছাড়া হলিউডের জনপ্রিয় তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও গিনেথ প্যালট্রো, ইতালির অভিনেত্রী আসিয়া আর্জেন্তো, নরওয়ের অভিনেত্রী ও মডেল নাতাশিয়া মালথেও হার্ভে ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। কেউ কেউ বলেন, হার্ভে ওয়াইনস্টিনের দ্বারা তাঁরা ধর্ষণের শিকার হন। ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ১০ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্কার-এর দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো উঠে আসে।

এরপর ১৫ অক্টোবর ২০১৭। অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো হলিউডে পেশাজীবী নারীদের যৌন নিগ্রহের ব্যাপারে জেনে ক্ষুব্ধ-অপমানিত স্বরে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আপনিও যদি এমন যৌন নিগ্রহ আর নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন কখনো, তবে এই টুইটের উত্তরে স্রেফ লিখুন #মি টু—আমিও!’ পরদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে মিলানো দেখেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর টুইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুই লাখ নারী লিখেছেন, ‘আমিও’! পরদিন সংখ্যাটা হয়ে দাঁড়াল পাঁচ লাখ। কান্নায় ভেঙে পড়েন মিলানো! এ এক অভাবনীয় ঘটনা! এরপর বিশ্বের নারীরা একে একে যৌন হয়রানির বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন এবং ‘#মি টু’ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে ও নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে ২০১৮ সালে গোল্ডেন গ্লোব অনুষ্ঠানে কালো রঙের পোশাকে গিয়েছিলেন অ্যাশলে জড। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রিজ উইদারস্পুন, ইভা লঙ্গোরিয়া, সালমা হায়েকসহ আরও অনেকে।

রাজনীতিতেও অ্যাশলে জড বেশ সক্রিয়। ২০০৯ সালে তিনি বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ