যমুনার তীরে দুধের গ্রাম

April 23, 2019, 1:33 AM, Hits: 126

যমুনার তীরে দুধের গ্রাম

হ-বাংলা নিউজ : অঙ্কটা খুব সহজ। একটি গাভি দিনে ২০ লিটার দুধ দেয়। এর মধ্যে ১২ লিটার দুধের দামের সমপরিমাণ অর্থ গাভিটির পেছনে খরচ। লাভ ৮ লিটার, যার দাম প্রায় ৩০০ টাকা। এমন ৪টি গাভি পালন করতে পারলে সংসারের খরচ উঠে যায়। বছর শেষে ৪টি বাছুর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

হিসাবটি দিলেন রাজু আহমেদ, যিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সাতটি গরুর একটি খামার পরিচালনা করেন। এর মধ্যে তিনটি গাভি দুধ দেয়। প্রতি সপ্তাহে দুধ বিক্রি করে রাজু আহমেদের মোট আয় ১৬ হাজার টাকা। বিপরীতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা।

রাজু আহমেদের গ্রামের নাম জামিরতা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়রা জানান, গ্রামের এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। একটি সরু পাকা রাস্তা গ্রামটিকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। গ্রামটিকে বাংলাদেশের অন্য সব গাম থেকে আলাদা করেছে গরু পালন। জামিরতার প্রায় সব বাড়িতেই কমবেশি গরু পালন করা হয়। দুধ কিনে নেয় প্রাণসহ বিভিন্ন কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

জামিরতায় রাজুদের বাড়ির সামনেই প্রাণের দুধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল সেখানে দুধ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই দুধ নেওয়া হয় শাহজাদপুরে প্রাণের ডেইরি কমপ্লেক্সে। সেখানে কিছু দুধ প্রক্রিয়া করা হয়। বাকিটা চলে যায় নরসিংদীতে প্রাণের কারখানায়। সেখানে তৈরি হয় প্রাণের ইউএইচটি ও পাস্তুরিত তরল দুধ, গুঁড়া দুধ, ঘি, মাখন, পনির, লাচ্ছি, দই, মাঠা, লাবাং ও বিভিন্ন স্বাদযুক্ত বা ফ্লেভার্ড মিল্ক।

শাহজাদপুর ছাড়া পাবনার চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি এবং রংপুরে প্রাণের মোট পাঁচটি ডেইরি হাব বা কেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ১২ হাজার চুক্তিভিত্তিক খামারি প্রাণের জন্য দুধ উৎপাদন করে। প্রাণ জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে তারা হাব প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৫ সাল নাগাদ তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও ৫টি হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।

প্রাণের কর্মকর্তা ও খামারিরা জানান, ননির মাত্রাভেদে প্রতি লিটার দুধের দাম ধরা হয় ৩৬ থেকে ৪১ টাকা। আট ধরনের পরীক্ষার পর দুধগুলো সংগ্রহ করা হয়। খামার করার ক্ষেত্রে পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেয় প্রাণ। জাত উন্নয়নে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিমেন বা বীর্য এনে বাছাই করা গরুর প্রজনন করার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি খামার সম্প্রসারণের জন্য সোনালী, কর্মসংস্থান ও আইএফআইসি ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হয় প্রাণের পক্ষ থেকে।

প্রাণের ডেইরি সম্প্রসারণের প্রধান কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের গাভি পালন করতে পারলে খামারিরা লাভবান বেশি হন। খামারিদের গাভিগুলোকে এখন উন্নত জাতের কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু আমরা উন্নত জাত আমদানির অনুমতি পাচ্ছি না।’

শাহজাদপুরে দুধকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ দুধ পরিবহন করেন। কেউ গোবর কিনে সার তৈরি করেন। কেউ ঘুঁটে বিক্রি করেন। কেউ আবার ঘাস চাষ করে বিক্রি করেন।

স্থানীয় খামার মালিক সানোয়ার হোসেন বলেন, একসময় এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের বড় উৎস ছিল তাঁত। এখন গরু পালন আয়ের পথ দেখাচ্ছে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ