শ্রমিকের কষ্টের রঙ এক

May 1, 2019, 1:54 PM, Hits: 798

শ্রমিকের কষ্টের রঙ এক

শ্রমিকের কষ্টের রঙ এক 

জাহাঙ্গীর বাবু


মে দিবসে আজীবন দাবী, 

শুধু কাগজের প্রত্যায়ন পত্রে নয়

মেধা,প্রতিভা অনুযায়ী কাজ চাই,শ্রম চাই

শ্রমের বিনিময়ে মূল্য চাই,

মৌলিক অধিকার পূরণে ন্যায্য মুজুরী চাই।

বিদেশ,দেশে শ্রমিকের কষ্ট দেখেছি,দেখছি।

শ্রমিকের কষ্টের রঙ এক,অভিন্ন।

প্রবাস থেকে বলেছি,এবার স্বদেশ থেকে-

শ্রমিকের কথা বলছি,শ্রমের কথা বলছি।

শ্রমিকের দেশ নেই,বিদেশ নেই,

সীমান্ত নেই,গন্ডি নেই,শ্রমিক শোষিত সারা পৃথিবীতে।

কবিতা নয়,মে দিবসে অধিকারের দাবী নিয়ে এসেছি।

মে দিবসেও 

টুং টাং বাজে হাতুড়ির ঘন্টা

আজো আমার দেশের শ্রমিক

মে দিবস কি জানে না!

বাঁচতে হলে কাজ করতেই হবে

মে দিবসের এক দিন কর্ম বিরতি

কত মালিক মানেনা, 

কতো শ্রমিক জানতেও চায়না।

পেট কি আর মানে বিরতি,

খরচের ফর্দটার আজীবন উর্ধগতি!

শ্রমিকের কোন দেশ নেই

শ্রমিকের আছে প্রকারভেদ।

শ্রমিকের গায়ের রঙ,বর্ণ,গঠন,

ভিন্নতা শাসন,শোষণে। 

ঘাম,রক্ত একই ইহ জগৎ  শ্রমিকের

ভাষার প্রকাশ অন্য,ভিন্ন।

কোন শ্রমিক অলৌকিক মালিক,

কোন মালিক বংশানুক্রমিক।

নারী,পুরুষ লিঙ্গান্তর নেই,শ্রমিক শুধুই শ্রমিক।

মালিক শ্রেনীর পরিচয় শুধু মালিক।

রক্তচোষার ,শোষনে হের ফের কিছুটা,

শোষণনীতি উর্ধতন,আপোষে শুধুই স্বার্থটা।

উপরস্থ বনেদি সাহেব সবাই

মালিক শ্রেনীর।তোষননীতি,দূর্ণীতি,খুন,

শ্রমের মুল্য গায়েব, সূত্রটা কৃত্তিম নাকি প্রাকৃতিক?

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া,

জৈন্তা থেকে খাসিয়া উত্তর থেকে দক্ষিন

মেরু,লন্ডন আমেরিকা,উরু পেরু, সৌদি

আরব,চীন,জাপান,সিঙ্গাপুর,

বাংলা,ইংরেজী,আরবী,উর্দু,হিন্দী, 

ফার্সী সকল ভাষায়,সকল জাতে,

সকল ধর্মে মালিকের অত্যাচারের

ষ্টিম রোলার যেন একই কারখানার!

শোষিত শ্রমিক শাষিত হবে,

যোগ্য কাজ ন্যায্য মুজুরী থেকে! 

বঞ্চিত হবে,নিয়ম অদৃশ্য কোন শক্তির?

কোন শ্রমিক অতি লোভী হয়তো,

হয়ে যায় নীতিচ্যুত!অভাব,দারিদ্রতা

করে নীতি ভ্রষ্ট,হৃদয়ে চিতার আগুন

কষ্ট আর কষ্ট! 

কর্ম ঘন্টা,যোগ্যকাজ ন্যায্যমুজুরী 

কাগজে কলমেই মলাট বন্দী,

কম্পিউটারের ফোল্ডারে অলস নিদ্রায়,

রুলস,রেজুলেশন শ্রমিকের বেলায়,

ধনী মালিকের ধন দেশ বিদেশের তেজরীতে শোভা পায়।

ঋণ খেলাপী ধনীরা ক্ষমা পায়!

ক্ষমার অযোগ্য শ্রমিকের শ্রম,ঘাম,রক্ত!

পেটের ক্ষুদা,অনিচ্ছার ভুল, ত্রুটি,

বিচ্যুতি বিচারের কাঠ গড়ায়,

বেতন কর্তনের কাঁচির তিক্ষ্ণতায়!

দেশ বিদেশে দুই যুগ মুজুরী করে দেখেছি

শ্রমিকের ধর্ম শ্রম আর শ্রম!

মুজুরী নিন্ম থেকে নিন্মগামী।

শ্রমের অবমুল্যায়ণ স্বদেশে প্রথম! 

শিক্ষা আর হাতে কলমে অভিজ্ঞতা,

যোগ্যতার মাপকাঠি সবই তুচ্ছ,

কর্ম সুযোগ সেই পায় আছে যার সম্পর্ক।

টুং টাং বাজে হাতুড়ির ঘন্টা মে দিবস,

জানে না আজো আমার দেশের অনেক শ্রমিক!

তিন বেলা খাবার,লজ্জা নিবারনের বস্ত্র চাই,

মাথা গোজার ঠাঁই, শিক্ষা,

চিকিৎসা থেকে দূর আজো অনেক শ্রমিক!

মে দিবসে কি আসে যায়!

বাঁচতে হলে কাজ চাই,কাজ শেষে ঘাম শুকানোর আগেই মুজুরী চাই।

শ্রমিকের শত্রু শ্রমিক,বিভীষণ নিধন চাই! 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ