পাকিস্তানিদের জন্য বন্ধ হতে পারে মার্কিন ভিসা

May 4, 2019, 1:43 PM, Hits: 117

পাকিস্তানিদের জন্য বন্ধ হতে পারে মার্কিন ভিসা

হ-বাংলা নিউজ : আমেরিকা থেকে বহিষ্কার হওয়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার লোকজনকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান। এরপরই ইসলামবাদ থেকে আমেরিকার ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে সে দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পাকিস্তানিদের পর্যটনসহ অন্যান্য ভিসা ইস্যুতে কড়াকড়ি বা ভিসা না দেওয়ার কথাই ওয়াশিংটন থেকে একরকম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পাকিস্তানের কনস্যুলার অপারেশনকে আগেও আমেরিকায় তাদের দেশের বহিষ্কার করা লোকজনকে ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান নিজ খরচে এসব নাগরিককে ফিরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে ‘অনড়’ রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল পাকিস্তানের কনস্যুলারকে ফেডারেল রেজিস্ট্রারড নোটিফিকেশন দেওয়া হয়। চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত বিষয়ে আমেরিকা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এতে পাকিস্তানের নাগরিকদের নতুন করে ভিসা দেওয়ার পথ আটকে রাখতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

আমেরিকার আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দেশের সংখ্যা ১০টি। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হওয়া দেশ হচ্ছে পাকিস্তান। সব দেশকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার হওয়া ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ব্যক্তিদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে ওয়াশিংটন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য আমেরিকান ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের ভিসা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে আটটি দেশের নাগরিক আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নতুন দুই দেশ ঘানা ও পাকিস্তানকে এ বছরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০০১ সালে গায়ানা, ২০১৬ সালে গাম্বিয়া, কম্বোডিয়া, ইরিত্রিয়া, গিনি ও সিয়েরা লিওন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার এবং লাওসকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাক্টের ধারা ২৪৩ (ডি)-এর আওতায় বলা আছে, অ্যাটর্নি জেনারেলকে এই বিষয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত ও বসবাসের গ্রহণযোগ্যতা হারানো যেসব দেশের নাগরিক আমেরিকায় আছে, তাদের স্ব স্ব দেশ তাদের ফিরিয়ে নিতে বিলম্ব হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির কাছ থেকে নোটিশপ্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে কনস্যুলেট অফিস সেসব দেশে ভিসা ইস্যু বন্ধ করতে পারে।

পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমিয়ে দিতে নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ফেডারেল রিজার্ভেশন নোটিফিকেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মুখপাত্র জানান, আমেরিকার কনস্যুলার অপারেশনের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত আছে। বিষয়টি আমেরিকা এবং পাকিস্তানি সরকারের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। 

আমেরিকায় পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্কানি মনে করেন, এটি পাকিস্তানের জন্য খুবই কঠিন। এ পদক্ষেপ পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য কষ্ট বয়ে আনবে। বিশেষ করে যারা আমেরিকা ভ্রমণ করতে চায় বা এ দেশ ভ্রমণ যাদের বিশেষ প্রয়োজন, তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। এ দেশ থেকে বহিষ্কৃত বা নির্বাসিতদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে এ দেশের আইনি বাধ্যবাধকতার প্রতি পাকিস্তান সরকারের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আমেরিকার অনুরোধ পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের উপেক্ষা করাও ঠিক হবে না বলে মনে করে হাক্কানি।

আমেরিকায় পাকিস্তানের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকা থেকে বিতাড়িত নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানের এই অবস্থান বেশ পুরোনো। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের ধীর গতির বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি এখন আমেরিকাকে এমন নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর আদেশ বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করছে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ