তামিমের রেকর্ড ‘মেড ইন ইউরোপ’

May 10, 2019, 2:11 PM, Hits: 90

তামিমের রেকর্ড ‘মেড ইন ইউরোপ’

হ-বাংলা নিউজ : বিশ্বকাপ শেষে পরিবার নিয়ে ইউরোপে ঘোরা যায় কি না, পরিকল্পনা করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তামিম ইকবাল আগেই ঠিক করেছেন, বিশ্বকাপের আগে কদিনের জন্য পাওয়া ছুটি কাটাতে যাবেন দুবাইয়ে। তবে মাশরাফির উৎসাহ দেখে তাঁর মনের ভেতরেও একটা ভাবনা খেলে গেছে হয়তো। পরিচিত এক সাংবাদিক ইউরোপ ভ্রমণের জাদুর কাঠি শেনজেন ভিসা কী করে পেলেন, সেটা কৌতূহল ভরেই জেনে নিলেন দুজনে। তামিম ইকবালের আবার ইউরোপের ভিসা লাগে নাকি!

তামিম ইকবাল—মেড ইন বাংলাদেশ, সার্ভড ইন ইউরোপ। ইউরোপে তামিমের ব্যাটিং গড় অবিশ্বাস্য রকমের ভালো। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর ব্যাটিং গড় যেখানে ৩৪.৫৭, ইউরোপে সেটিই ৪৭.৫৭। এশিয়াতেও এত ভালো ব্যাটিং গড় নেই তাঁর। ইউরোপ বলতে এখানে চারটি দেশে খেলেছেন তামিম—ইংল্যান্ড, ওয়েলশ, নেদারল্যান্ডস আর আয়ারল্যান্ড। গড়টা ২৮ ইনিংসের ব্যাপ্তিতে বলে তামিমের ইউরোপিয়ান রেকর্ডটা চোখে পড়ার মতোই।

এর মধ্যে যদি শুধু ইংল্যান্ডও আলাদা করে নেওয়া হয়, তাতেও তামিমের জ্বলজ্বলে রেকর্ডের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে বৈ কমে না। ১৪ ইনিংসে সমান তিনটি করে সেঞ্চুরি-ফিফটি, রান ৬৬২, গড় ৪৭.২৮। ইউরোপে তিন সেঞ্চুরির প্রতিটিই করেছেন ইংলিশদের বিপক্ষে। তিনটিই তিন বিখ্যাত মাঠে—লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ড আর ওভালে। ২০১০ সালের সফরে টানা দুই সেঞ্চুরি যদি তাঁর টেস্ট-সামর্থ্যের প্রমাণ হয় তো গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮ করার পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৫ ছিল ওয়ানডের ব্যাটের জোরের নজির। বার্মিংহামেও ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন ৭০।

এবারের সিরিজটাও শুরু করেছেন ৮০ রানের এক ইনিংস দিয়ে। ইউরোপে নামের পাশে তিনটির বেশি সেঞ্চুরি তাঁর থাকতেই পারত। আসলে তা থাকতে পারত পুরো ক্যারিয়ারেই। এ নিয়ে ১৪ বারের মতো ৮০ থেকে ৯৯ রানের মধ্যে আউট হলেন। না হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি সংখ্যা ২১টার বেশি তো হতেই পারত।

এ নিয়ে তামিমের আফসোস হয়। নিজেই বোঝেন, বেশির ভাগ সময় নিজের দোষে সেঞ্চুরিটা মাঠে ফেলে এসেছেন। তবে ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না বলেই প্রতিজ্ঞা করেছেন। ভালো বলে ৯৯ রানে আউট হয়ে গেলেও দুঃখ নেই। তবে খারাপ বলে যেন সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আর আউট না হন।

ইউরোপে তামিমের ব্যাটিং রেকর্ড আলোচনায় আসছে এবারের বিশ্বকাপ এই মহাদেশে বলেই। ইংল্যান্ড আর ওয়েলশে হবে ম্যাচগুলো। ক্রিকেটে বলাই হয়, নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হলে সামারে ইংল্যান্ডে এসে খেলে যেতে হবে। এমনকি বিরাট কোহলিকেও এই কথা শুনতে হয়েছিল, ইংল্যান্ডে তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ১৩.৪০! গত সিরিজে ৫৯.৩০ গড়ে রান করে কোহলি অবশ্য তার জবাব দিয়েছেন। তামিমকে জবাব দেওয়ার মুখেই পড়তে হয়নি। প্রথমবার ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে এসেই হয়েছেন উইজডেনের বর্ষসেরা!

ইউরোপে নিজের ব্যাটিং রেকর্ড নিয়ে তামিম অবশ্য আলাদা কোনো কৃতিত্ব নিতে চাইলেন না। বরং এশিয়ার তুলনায় রেকর্ডটা ভালো হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করলেন, ‘এশিয়া বলতে তো আমরা বেশির ভাগ বাংলাদেশেই খেলি। বাংলাদেশে ব্যাটিং করা খুব একটা সহজ না। মিরপুর আমাদের হোম গ্রাউন্ড। সেখানে ২৫০ রান করলেও ওয়ানডেতে জেতা যায়। ওখানে রান বা স্কোরিং শট খেলা সহজ না, উইকেট যেহেতু মন্থর থাকে। এটা আমাদের অবশ্য সহায়ক হিসেবেই কাজ করে যখন দেশে খেলি। দেশের বাইরে সত্যি বলতে এসব নিয়ে ভাবি না।’

কিন্তু তাঁর যুক্তি দিয়েই তো তাঁকে খণ্ডন করা যায়। ধীর উইকেটে খেলে অভ্যস্ত বলেই তো সেই ব্যাটসম্যানদের আরও কঠিন লাগার কথা। তামিমের জবাব, শট খেলতে পারলে সব উইকেটই সোজা। না পারলে ব্যাটিং উইকেটও কঠিন! 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ