আটলান্টিক সিটির আলহেরা মসজিদে প্রতিদিন তিনশত রোজাদার ইফতার করেন

May 23, 2019, 10:00 AM, Hits: 495

আটলান্টিক সিটির  আলহেরা মসজিদে প্রতিদিন তিনশত রোজাদার ইফতার করেন

সুব্রত চৌধুরী, হ-বাংলা নিউজ, আটলান্টিক সিটি থেকে : আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশী আমেরিকানদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত  আলহেরা মসজিদে প্রতিদিন  প্রায় তিনশত মানুষ ইফতার করেন।  ইফতারে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে  কেউ বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক, কেউবা নিম্ন মধ্যবিত্ত বা গরীব।কেউবা শ্বেতাঙ্গ,কেউবা কৃষ্ণাঙ্গ,কেউবা বাদামী বর্ণের , কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই একসঙ্গে পাশাপাশি বসে ইফতার করেন। এখানে রোজার প্রথম দিন থেকেই  প্রতিদিন  প্রায় তিনশত মানুষের ইফতার এর আয়োজন করছেন আলহেরা মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

অন্যান্যবারের  মতো এবারও রমজানের প্রথম দিন থেকেই ছবিটা দেখা যাচ্ছে। রোজাদারদের প্রত্যেককে অতিথি জ্ঞান করে তাদের জন্য বিনা খরচে ইফতারের ব্যবস্থা করছে আলহেরা মসজিদ  কর্তৃপক্ষ।আলহেরা মসজিদের বিশাল মেঝে জুড়ে  রোজাদারদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন আছরের নামাজের পর থেকে শুরু হয়ে যায় ইফতার আয়োজনের কাজ।আলহেরা মসজিদের  স্বেচ্ছাসেবকরা   নিজ হাতে বিভিন্ন কাজ করছেন।ইফতারের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় মসজিদের খতিব ডঃ রুহুল আমিনের বয়ান,হাফেজ  সোলায়মানের সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত, আর  এভাবেই ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসে।   

আলহেরা মসজিদে পুরুষদের  পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও  ইফতারের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে । মহিলাদের নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রতিদিন  প্রায় একশত  মহিলা ইফতার করেন বলে জানান  আলহেরা মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ   চৌধুরী। এখানেও ভেদাভেদহীন, এখানেও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। সব মিলিয়ে অন্যরকম একটি আয়োজন । আলহেরা মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের কর্তা ব্যক্তিদের   সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,নিত্যদিনকার  এই আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিদিন কাজ করছেন মসজিদের চল্লিশ জন স্বেচ্ছাসেবক, তাদের সঙ্গে যোগ দেন  সাধারণ মুসল্লিরা। আর এভাবে কাজটিও ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন সবাই।

ইফতারের আগে কথা হয় আলহেরা মসজিদে নিয়মিত ইফতার করতে আসা কতিপয় মুসল্লির সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে তাঁরা  বলেন, মসজিদে এতো মানুষের সঙ্গে ইফতার করার আলাদা একটা শান্তি আছে। গরিব-ধনীর ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে পাশাপাশি বসা, খাওয়া। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? এই শিক্ষা ধরে রাখা গেলে প্রবাসে আমাদের  সামাজিক জীবন আরও সহজ হবে বলে মত দেন তাঁরা।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক মুসল্লি বলেন, আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে মসজিদেই ইফতার করি। আমার যদিও অন্য কোনও অসুবিধা নাই, শুধুমাএ প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদেরকে সাম্যের শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাদেরকে নিয়ে নিয়মিত এখানে ইফতার করা।   

আলহেরা মসজিদের এই মহতী উদ্যোগ ইতোমধ্যে আটলান্টিক সিটির বিভিন্ন কমিউনিটিতেও সাড়া ফেলেছে।আলহেরা মসজিদের  সাম্যের শিক্ষার  এই মহতী  প্রয়াস প্রজন্ম থেকে  প্রজন্মান্তরে  অব্যাহত থাকুক এটাই সুধীমহলের একান্ত কামনা। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ