ব্রুকলিনে আনন্দঘন ঈদ উৎসব

June 9, 2019, 9:19 AM, Hits: 366

ব্রুকলিনে আনন্দঘন ঈদ উৎসব

হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ব্রুকলিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ আনন্দ উৎসব। ৪ জুন ঈদুল ফিতরের দিন ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রুকলিন ইসলামিক সেন্টার।

৭২২ চার্চ এভিনিউর বিআইসি পার্কিং লটে ঈদ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় সকাল ১০টা। একটানা অনুষ্ঠান চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এতে শিশু কিশোরদের জন্য রাইডস ছাড়াও ছিল বিভিন্ন খেলা সামগ্রী আর হরেক রকমের খাবার। এর আগে সকাল ৯:৪৫ মিনিটে ব্রুকলিন ইসলামিক সেন্টার (বিআইসি), আত-তাওহীদ মসজিদের যৌথ আয়োজনে ঈদের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয় প্রসপেক্ট পার্ক প্যারেড গ্রাউন্ডের ৮ নম্বর মাঠে। এতে নামাজের ইমামতি করেন ইসলামিক স্কলার শিক্ষাবিদ আবুসামীহাহ সিরাজুল ইসলাম।

ঈদের নামাজ শেষে অভিভাবকদের সাথে শিশু-কিশোররা যোগ দেন ঈদ উৎসবে। যোহরের নামাজের পূর্বে পার্কিং লট কানায় কানায় ভরপুর হয়ে যায়। ঈদ উৎসবে মুসলমানের সাথে অন্যান্য ধর্ম এবং বিআইসির আশেপাশের প্রতিবেশীদের অনেকে যোগ দেন। উৎসবে শিশু কিশোর-কিশোরী কেউ কেউ রাইডসে বন্ধুদের সাথে খেলা করছে, কেউ ঈদ মোবারক লেখা সম্মিলিত বেলুন উড়াচ্ছে আবার কেউ কেউ পুরাতন নতুন বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে মনের হরেষে। কোন গান বাজনা ছাড়া ইসলামিক পরিবেশে চমৎকার-এ আয়োজনে অনেককে ভূয়সী প্রশংসা করেতে শোনা যায়। 

ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। মুসলমানদের বছরে দুটি ঈদ। একটি সিয়াম সাধনা অপরটি সম্পদের ত্যাগের মাধ্যমে। হাদিস শরীফে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন, তখন মদিনায় দুটো দিবস ছিল; যে দিবসে তারা (মদিনার লোকজন) খেলাধুলা করতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ দুই দিনের তাৎপর্য কী? মদিনাবাসীগণ বললেন, আমরা এ দুই দিনে (আনন্দ) খেলাধুলা করি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা:) বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা এ দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দান করেছেন। তার একটি হলো, ঈদুল আজহা ও অপরটি ঈদুল ফিতর।’ (আবু দাউদ)। সেই থেকে ঈদের সূচনা। তারপর থেকেই মুসলমানরা দুই ঈদ আদায় করে থাকেন।

‘ঈদ’ আরবি শব্দ। যার অর্থ হলো ফিরে আসা। ঈদ যেহেতু আনন্দের বার্তা নিয়ে মুসলমানের দ্বারে দ্বারে বার বার ফিরে আসে, সঙ্গত কারণেই এ আনন্দকে ঈদ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। তাই রোজাদার মুসলমান মাসব্যাপী রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনে ঈদ বা আনন্দ উদযাপন করে থাকে। 

‘ফিতর’ অর্থ ভেঙ্গে দেওয়া আরেক অর্থে বিজয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর ভয় মানুষকে তাঁর ভেতরের সব রকমের বদভ্যাস ও খেয়ালখুশিকে দমণ করার মাধ্যমে একরকমের বিজয় অর্জন করেন। সেই অর্থে এটি বিজয় হিসেবেও বলা হয়ে থাকে। 

পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মে যেসব প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়, সেগুলোর মধ্যে ঈদুল ফিতর হচ্ছে অন্যতম। অনেকের মতে, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)এর মদিনাতে হিজরতের পরই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। আরবদের ইহুদি ধ্যানধারণা ও জাহেলি প্রথার পরিবর্তে দুই ঈদ ছিল আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য ঘোষিত উপহার। ইসলামি আদর্শে উজ্জীবিত আরববাসী রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর নির্দেশে শুরু করল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উৎসব উদযাপন।

এর আগে পৌত্তলিক ভাবনায় অগ্নিপূজকদের নওরোজ এবং মূর্তিবাদীদের মিহিরজান নামে দু’টি উৎসবে মদিনাবাসী শরিক হতো। আরবরা এ মেলায় অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কাজে মেতে ওঠতো। একই সাথে মেলায় আদিম উচ্ছ¡লতায়ও মেতে উঠত তারা। সেগুলো ছিল উচ্চবিত্তের খেয়ালিপনার উৎসব। এর পরিবর্তে জন্ম নিলো শ্রেণিবৈষম্য-বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত ইবাদতের আমেজমাখা সুনির্মল আনন্দে ভরা ঈদআনন্দ। আমেজের দিক থেকে পবিত্র ও স্নিগ্ধ, আচরণের দিক থেকে প্রীতি ও মিলনের উৎসব ঈদুল ফিতর।

ঈদুল ফিতর দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হলো আল্লাহ তাআলা এ দিনে তার রোজাদার বান্দাদের নিয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা বার বার ধন্য করেন এবং তাঁর ইহসানের দৃষ্টি বার বার দান করেন। কেননা মুমিন বান্দা আল্লাহর নির্দেশে রমজানে পানাহার ত্যাগ করেছেন আবার রমজানের পর তাঁরই পানাহারের আদেশ পালন করে থাকেন। তাই দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা পানাহারে মুক্ত করে। 

সারা বিশ্বের মুসলমানদের সর্বজনীন আনন্দ-উৎসব ঈদুল ফিতর। বছরজুড়ে নান প্রতিকূলতা, দু:খ-বেদনা সব ভূলে ঈদের দিন মানুষ সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হন। ঈদগাহে কোলাকুলি সৌর্হাদ্য, সম্প্রীতি ও ভালবাসা বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করে। ঈদ এমন এক নির্মল আন্দনের আয়োজন, সেখানে মানুষ আত্মশুদ্ধির আনন্দে পরস্পরে মেলবন্ধন ঐক্যবদ্ধ হন এবং আনন্দ সমভাগাভাগি করেন।

মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের অতীত জীবনের সব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে পারার পবিত্র অনুভূতি ধারণ করেই পরিপূর্ণতা লাভ করে ঈদের খুশি। ঈদুল ফিতর বা রোজা ভাঙ্গার আনন্দ উৎসব এমন এক পরিচ্ছন্ন আনন্দ অনুভূতি জাগ্রত করে, যা মানবিক মূল্যবোধ সমুন্ন করে এবং আল্লাহর দিদার লাভের পথপরিক্রমায় চলতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করে।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ