‘শনিবার বিকেল’ দেখে থমকে যায় সিডনির দর্শক

June 10, 2019, 12:41 PM, Hits: 69

‘শনিবার বিকেল’ দেখে থমকে যায় সিডনির দর্শক

হ-বাংলা নিউজ : সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউস-সংলগ্ন ডেন্ডি অপেরা সিনেমা ওয়ান। হলভর্তি সিনেমাপ্রেমী দর্শক। তাঁদের বেশির ভাগ ইংরেজি ভাষাভাষী। পর্দায় চলছে বাংলাদেশের একটা চলচ্চিত্র। গোটা হলে পিনপতন নীরবতা। অপলক দৃষ্টি সবার পর্দার গল্পে। দর্শকের মুখের ভাব দেখে যে কেউ বলে দেবে, তাঁরা সিনেমা দেখছেন না, নিজেকে অনুভব করছেন দৃশ্যের চরিত্রগুলোর মধ্যে। সিনেমা শেষ হলো, তবে দর্শকদের কাউকেই নড়তে দেখা যায়নি। তাঁরা যেন এখনো সিনেমার দৃশ্যগুলোর মাঝেই ডুবে আছে। কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, এটা সিডনিতে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘শনিবার বিকেল’ দেখতে আসা দর্শকের চিত্র। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শুরু হয়েছে ‘সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৯’। এই উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিচালকদের নির্মিত ২৫০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ সোমবার প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশের নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত এবং তিশা, জাহিদ ও পরমব্রত অভিনীত ‘শনিবার বিকেল’। ছবিটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে আগামী বৃহস্পতিবার একই সিনেমা হলে, স্থানীয় সময় রাত আটটায়।

সিডনিতে ‘শনিবার বিকেল’ ছবির প্রথম প্রদর্শনীর দিন হাউসফুল ছিল ডেন্ডি অপেরা সিনেমা ওয়ান। দর্শক সারিতে উপস্থিত লোকজনের বেশির ভাগই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান। ছবিটি চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হওয়ার পরই দ্রুত সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ-জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মাণ করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সিনেমার প্রতিটি দৃশ্য শ্বাসরুদ্ধকর আবহের জন্ম দেয় দর্শকদের। পুরো ছবি চলাকালীন থমথমে পরিবেশ ছিল হলজুড়ে। জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন উপস্থিত দর্শকেরা। ছবির প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা ফারুকী ও অভিনেত্রী তিশা। প্রদর্শনী শেষে ছবিটি দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব রাখা হয় ফারুকী ও তিশার জন্য। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে যখন দর্শকদের প্রশ্ন করতে বলা হয় তখন শুরুতে থমকে থাকে দর্শক। তারপর অনেক প্রশ্ন আসে। প্রশ্ন-উত্তরে জমজমাট হয়ে ওঠে পরিবেশ। অনেক কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সিডনি চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত ও প্রদর্শিত ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। ছবিটি নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে দেশটির বিভিন্ন পত্রিকায়। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর সাপ্তাহিক আলোচিত সিনেমার তালিকায় চলে এসেছে ছবিটি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর জঙ্গিবাদের ঘটনা এতটাই সম্প্রচারিত হয় যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের জীবনে হঠাৎ ঘটে যাওয়া বহু ভয়াল হামলার কথা সবার নজরে আসে না। বাংলাদেশি পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এমন একটি ঘটনাকে খুব কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ করে দিয়েছেন তাঁর নতুন ছবি “শনিবার বিকেল”-এ। ছবিটির সবচেয়ে প্রভাবক হলো এর প্রতিটি দৃশ্য জীবন্ত মনে হবে। এর কারণ, ক্যামেরার একটা মাত্র শটেই গোটা ছবিটি ধারণ করা হয়েছে, যা ছবিটিকে কোনো বাস্তব দৃশ্যের ভিডিও ফুটেজের রূপ দিয়েছে। আর অভিনয়শিল্পীদের চমৎকার ও সাবলীল অভিনয় ছবিটির প্রাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রদর্শনী শেষে ফারুকী বলেন, ‘দর্শকদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কথা বলার আয়োজন ছিল। আয়োজনে অনেক প্রশ্ন এসেছে এবং উত্তরও দিয়েছি। তবে ছবিটি দেখার পর অনেকেই আর কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমি দর্শকদের নয়, “শনিবার বিকেল” ছবির চরিত্রগুলোকেই হেঁটে যেতে দেখছি। পরে অনেকে বার্তা পাঠিয়ে জানাচ্ছেন, তাঁরা ছবির মাঝে এতটাই হারিয়ে গেছেন যে তাঁরা অনেক প্রশ্ন করার ইচ্ছা নিয়ে এলেও সেগুলো আর করতে পারেননি।’

তিশা বলেন, ‘ছবিটি এক শটে করা। মানে একবার ক্যামেরা রোলিং হয়েছে তো আর থামা নেই। অভিনেতা হিসেবে আমাদের সবার কাছেই কাজটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে ভিনদেশের বাংলা না জানা মানুষের কাছেও যখন আমাদের বাংলা ছবিটি গ্রহণযোগ্যতা পায়, একটা সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটা অনেক বড় পাওয়া।’ 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ