লক্ষ্য পূরণ হলো, মন ভরল না জামাল ভূঁইয়াদের খেলায়

June 11, 2019, 10:24 AM, Hits: 75

 লক্ষ্য পূরণ হলো, মন ভরল না জামাল ভূঁইয়াদের খেলায়

হ-বাংলা নিউজ : ড্র করলেই হতো, কিন্তু ড্রয়ে কি আর মন ভরে! বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যে হাজার দশেক দর্শক ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ বলে গলা ফাটাল, তাদের প্রত্যাশা ছিল জয়ই। লাওসের মাটিতে জয় নিয়ে ফেরা গেছে, নিজের বাড়ির উঠানে জয় তো কাম্যই। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলের চিরন্তন সমস্যা—আমাদের খেলোয়াড়েরা গোল করতে পারেন না, সেটিই আবার দেখা গেল আজ। গোল মিসের মহড়া দিয়ে লাওসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। খেলা অমীমাংসিত থাকায় বাংলাদেশের অবশ্য বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল বাছাইপর্বে নাম লেখাতে কোনো সমস্যা হয়নি।

নাবিব নেওয়াজ জীবন তাঁর নাম। বাংলাদেশের ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়। জেমি ডে দলের গোল করার মূল দায়িত্বটা তাঁকেই দিয়েছেন। কিন্তু গোল করতে পারতে হবে তো! নাবিব যদি আজ পাওয়া প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতেন, তাহলে এক আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে গোল করার নতুন রেকর্ডই গড়তেন। বাংলাদেশ পেত বড় এক জয়।

ঘরোয়া ফুটবলে আবাহনীতে খেলা এই স্ট্রাইকার আজ চারটি গোলের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটিতে পৃথিবীর যেকোনো স্ট্রাইকারই ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে গোল করতেন। কিন্তু নাবিব পারেননি। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে বলে ঠিকমতো মাথাই লাগাতে পারলেন না। প্রথমার্ধে মামুনুলের থ্রু থেকে বল পেয়ে কেবল লাওসের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে গোলে প্লেস করে দিলেই চলত, কিন্তু বাংলাদেশের ‘নম্বর নাইন’ সেটি পোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

সুযোগ পেয়েছিলেন বদলি নামা মাহবুবুর রহমান সুফিল, ইব্রাহিমরাও। খেলার শেষ দিকে ৮৮ মিনিটে সোহেল রানার ক্রস থেকে নাবিব নেওয়াজের মতোই ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইব্রাহিমের হেড স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধিকে অবজ্ঞা করে কীভাবে যেন ঠিকই বাইরে দিয়ে গেছে।

খেলাটা মোটেও মন ভরাতে পারেনি দর্শকদের—এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যে দর্শকেরা একটা আকর্ষণীয় ফুটবল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন, সেই আশা পূরণ হয়নি। গোটা ম্যাচে বাংলাদেশ দলের কারও কাছ থেকে একটা মুভ দেখা যায়নি, যেটি দেখে আনন্দে হাততালি দিতে পারেন তাঁরা। অ্যাটাকিং থার্ডে পরিকল্পিত কোনো আক্রমণ চোখে পড়েনি। অভিজ্ঞ মামুনুল ইসলাম আজ অনেক দিন পর প্রথম একাদশে এসে তাঁর খেলাটাই খেলেছেন—বলে পা ছোঁয়ানো। তাঁর যে দায়িত্ব, মধ্যমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করা, সেটি কখনোই দেখা যায়নি।

মধ্য মাঠের নিষ্ক্রিয়তা ও ধীরগতির কারণে প্রথম লেগের গোলদাতা রবিউল কেবল এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে সময় কাটিয়েছেন। মাসুক মিয়া জনিকে গোটা ম্যাচেই নিষ্প্রভ মনে হয়েছে, জামাল ভূঁইয়াকে রক্ষণভাগের সামনে দেয়াল হয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বিষ আক্রমণগুলোর সুযোগে লাওস কিন্তু অনেকবারই বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নিয়েছে। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ছিল, সবচেয়ে বড় কথা, গোলপোস্টে দাঁড়িয়েছিলেন আশরাফুল রানার মতো একজন বিশ্বস্ত গোলরক্ষক।

সামনেই এশিয়ার বড় প্রতিপক্ষগুলোর বিপক্ষে লড়াই। কিন্তু আজকের এই ম্যাচ খুব আশা জাগাতে পারছে না। অনেকেই বলতে পারেন কাজের কাজটা তো ঠিকই করেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কিন্তু লাওসের এই দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দর্শক সমর্থন নিয়ে জিততে না পারাটা ফুটবলপ্রেমীদের মনে খচখচানি বাড়াবেই। গোল মিস হতেই পারে, কিন্তু গোটা ম্যাচে একটা হাততালি দেওয়ার মতো আক্রমণ হলো না। দেখা যায়নি একটা সুন্দর পাস। গোল মিসের মহড়া চলল, এটা তো ফুটবলের জন্য খুব ভালো বিজ্ঞাপন নয়। যানজট ঠেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হাজির হওয়া দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরির জন্যও এই ম্যাচ খুব একটা ভালো বিজ্ঞাপন নয়।

এশীয় ফুটবলের বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের খুব বেশি হয় না। সে সুযোগটা তৈরি হয়েছে, এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। ইংলিশ কোচ জেমি ডে আর বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সামনে খুব বড় পরীক্ষা। সে প্রস্তুতিটা শুরু হয়ে যাক এখনই। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ