মেন্টেনেন্স ডিপার্টমেন্ট কাজ করে কি?

June 25, 2019, 10:10 AM, Hits: 183

মেন্টেনেন্স ডিপার্টমেন্ট কাজ করে কি?

মেন্টেনেন্স ডিপার্টমেন্ট কাজ করে কি?

জাহাঙ্গীর বাবু

বৃষ্টির পানি কাদা জলে হয় রাস্তার কাজ!ঢালাই কত কম দেয়া যায়,রড কত কম দেয়া যায়,যত নিন্মমানের সামগ্রী ব্যাবহার করা যায় দেশীয়  ঠিকাদারের শকুনের চোখ সে দিকে। যত সস্তায় কর্মচারী, যত সস্তার মালামাল ব্যাবহার করা যায় তার নির্দেশনা থাকে উপর মহলের। কাজের পুর্বে পি সি মানি পাস করতে হবে নয়তো কাজ, কাজের মাঝেই ব্যাঘাত,উৎপাত, আশ্চর্য্য এক সিস্টেমে আছি।বিদেশে কিন্তু এই ছেছরামি নেই।কাজের কোয়ালিটিটা শত ভাগ। সেই সাথে রক্ষনাবেক্ষন তথা মেইন্টেনেন্স ও।এ দেশের বিদেশী কাজ গুলো ভালো হচ্ছে বলা যায়। যেমন মেট্রোরেলের সারফেস দেখে কিংবা স্ট্রাকচার,আয়োজন দেখে তাই মনে হয়!

ফেসবুকের কল্যানে কিংবা ডিজিটাল,স্যাটেলাইটের যুগে দেখতে পাই

শুধু পিলার দাঁড়িয়ে থাকে ব্রীজে,নয়তো ব্রীজ কোথাও নিঃস্ব একাকী নেই কোন রাস্তা দুই ধারে। কোটি টাকার রাস্তার পিচ এসফাল্ট ঝুরঝুরা পাথর,হাত দিয়ে তুলছে ফেসবুক লাইভ প্রিয় সচেতন জনসাধারণ।

বিদেশী সহায়তায় সরকার করে হাজার লক্ষ কোটি টাকার প্রজেক্ট।রক্ষনাবেক্ষন এর নির্ধারিত সময় থাকলেও হচ্ছে কি?

হাজার লক্ষ কোটি খরচ করে 

রাস্তা ঘাট ব্রীজ নির্মান করার পূর্বে বিদেশ থেকে রক্ষনা বেক্ষন কোম্পানী নিয়ে আসুন।

আর নতুন কিছু করার পূর্বে বৃটিশ  আমলের গুলো ঠিক করুন। সৌদি ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানীতে আমার পদবী ছিলো বিল্ডিং মেইন্টেনেন্স স্পেশালিষ্ট, আমার বন্ধুদের গার্ডেন স্পেশালিষ্ট,হাউজ কিপিং স্পেশালিষ্ট, ফুড স্পেশালিষ্ট ইত্যাদী,তার মানে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য আলাদা করেই তাদের পরিকল্পনা ছিলো বা আছে।

সৌদি এরাবিয়ান ওয়েল কোম্পানী আরামকোতে কাজ করেছি। তাদের সিডিউল মতো সময়ে মেন্টেনেন্স এর সময় হলে নতুন দেখা গেলেও তার মেন্টেনেন্স করেছি। 

আমাদের দেশে তৈরীর সময় যা দুনাম্বারী করার করে,তৈরীর পর রক্ষনা বেক্ষনের খবর আদৌ অাছে কি?

বিদেশে আমাদের মুল্যায়ন হয়,এ দেশে হয় ঠাট্টা,হাসি,মস্কারী, না হয় অভিজ্ঞতার মুল্যায়ন,না হয় এ দেশে উন্নয়নের রক্ষনা বেক্ষন! কাজের আগেই পরিকল্পনা লুটে খাওয়ার! গাল ভরা বুলি,সরকারের মাল লুটি। যে সরকার আসুক কম বেশি কাজতো করেই।

কাজের পর শত বৎসর পর্যন্ত রক্ষনা বেক্ষন করলেইতো টিকবে নির্মান। সে দিন দেখলাম নিউজে পিলারেএ গোড়া থেকেই বালু উত্তলন করছে এলাকার মেম্বার! কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্রীজ করে তার গোড়ার বালু নিয়ে যাচ্ছে!  কত বড় হারামী! 

বাবা রেল ওয়ে সাব এসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।রেলে ভেতরের অনেক খবর জানি। যাক, ছোট বেলায় আড়িখোলা রেল ষ্টেশনের প্লাট ফরমে দাঁড়ালেই দেখতাম হাতে টানছে ট্রলি কয়েক জন,সামনে দু এক জন সাহেব বসা।হাতে তার  লম্বা ডান্ডা তার আগায় হাতুড়ির মতো।তিনি কিছুদুর পর পর নাট ঠুকতেন,তার দলের লোকেরা দল বেঁধে লাইনের কাজ করতো। গাড়ির হুইসেল শোনা গেলে তড়িগড়ি তিন চার খন্ডে বিভক্ত করে ট্রলি সরিয়ে নিতো।জানিনা সেই, আই ডাব লিও,পি ডাব লিওদের পদবী আর কাজ এখন আছে কিনা।থাকলে কুলাউড়ার এতো বড় দূর্ঘটনা হতোনা।আজো সেই লাইনের রেলের জোড়ার ঠিলা নাট বল্টুর ভিডিও আপলোড হয়েছে ফেসবুকে।

ফ্লাই ওভারের শহর এখন ঢাকা,সেই ফ্লাইওভারের ড্রেনেজ বন্ধ এখনো পাওয়া যাবে,ব্রীজের রেলিং পাবেন ঢিলা,নেই বিদ্যুৎ, হয়তো চুরিও হয়ে গেছে। তাহলে কি করতে হবে?এত কথার অর্থ কি?  অর্থ নেই প্রশ্ন আছে বরাবর। 

মেইন্টেনেন্স এর ডিপার্টমেন্ট অবশ্যই আছে,বাজেট অবশ্যই আছে,লোক বল অবশ্যই আছে, এগুলো ছাড়া কোন নির্মান,কোন যন্ত্রপাতি ঠিক থাকেনা,থাকবে না। যদি থাকে তাহলে কাজ করে কি? যদি বলি মেন্টেনেন্স ডিপার্টমেন্ট কাজ করে কি?

পুনশ্চঃ আমার অতীত কর্মের একটি প্রত্যায়ন পত্র যুক্ত করলাম  যাতে আমার পদবী ছিলো বিল্ডিং মেন্টেনেন্স স্পেশালিষ্ট,আমার দেশে এই প্রত্যায়ন পত্রও মূল্যহীন।কেন? 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ