বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টুকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক জাতীয় খেলোয়ারদের অভিনন্দন

August 7, 2019, 1:17 PM, Hits: 96

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টুকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক জাতীয় খেলোয়ারদের অভিনন্দন

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :  এক সময়ের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কৃতি খেলোয়ার ও সংগঠক বাংলাদেশের সাবেক সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সহ তার কার্যনির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়ারবৃন্দ, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফারুক-মন্টু পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এ নির্বাচনে ফারুক-মন্টু এবং চেঙ্গিস-শাহআলম প্যানেল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অবতীর্ণ হয়। নির্বাচনে ১২০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১১৭ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দুইজন ভোটার পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব রয়েছেন। আরেকজন অন্য দেশে। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু পেয়েছেন ৯৬ ভোট। তার দুই প্রতিদ্ব›িদ্বর মোহাম্মদ শাহ আলম ১৯ ভোট এবং এসএম সাদাত হোসেন সোহেল পেয়েছেন ২ ভোট। 

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স এসোসিয়েশনের লিগাল কমিশন এর মেম্বার, সাফের জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য। সাবেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কৃতি খেলোয়ার অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ভলিবলে জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। অসংখ্য বার স্বর্ণ পদক বিজয়ী মন্টু ১৯৮৬ সালে পোল ভল্টে জাতীয় রেকর্ড গড়েন (১১ফুট ৯ইি ), ১৯৯৩ সালে বুয়েট মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় পোল ভল্ট ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন। সিলেটের কৃতি সন্তান আব্দুর রকিব মন্টু বিজেএমসির হয়ে ১৯৯২, ১৯৯৬ ও ২০০০ সালে বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ফুটবলে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে সিলেটের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন। কৃতি ফুটবলার মন্টু পরবর্তীতে দেশে-বিদেশে নানা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ও সাধারণ বীমা ক্লাবের পক্ষে খেলেন।

আব্দুর রকিব মন্টু সিলেটের ফে ুগঞ্জের মাইজগাঁও ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত কৃতি অ্যাথলেট আলহাজ্ব বশির আলীর ৩য় ছেলে। সিলেটে আব্দুর রকিব মন্টুদের পরিবার অ্যাথলেট পরিবার হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে এ পরিবারের সাত সদস্যের সবাই জাতীয় পর্যায়ের কৃতী অ্যাথলেট ছিলেন। সকলেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হয়ে সাফল্যের অনন্য নজির স্থাপন করেন।

আব্দুর রকিব মন্টুর বাবা তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তান জাতীয় অ্যাথলেট দলের অধিনায়ক মোঃ বশির আলী  ১৯৬৫ ও ৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক দলের নেতৃত্ব দেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হাবিলদার বশির আলী পাকিস্তান অলিম্পিকে পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি গোলক, চাকতি, বর্শা এবং হেমার থ্রোতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বর্শা নিক্ষেপে জাতীয় রেকর্ড করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। অ্যাথলেট আলহাজ্ব বশির আলী ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ ফে ুগঞ্জের নিজামপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন।

অ্যাথলেট আলহাজ্ব বশির আলীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে সবাই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ পদক ছিনিয়ে আনেন। বর্তমানে তার ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আব্দুর রউফ পাশা ও আব্দুর রকিব মন্টু ছাড়া সবাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।

আলহাজ্ব বশির আলীর বড় ছেলে আব্দুর রহিম বাদশা বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি হাইজাম্প, লংজাম্পে বিভিন্ন সময় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ফুটবল, ভলিবল, সাঁতারেও স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন তিনি। আব্দুর রহিম বাদশা বিজেএমসি, ল্যান্ডকাস্টমস এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে বিভিন্ন গেমসসে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ গেমসে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়কত্ব করেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি কর্তৃক সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন তিনি।

আলহাজ্ব বশির আলীর ২য় ছেলে বাংলাদেশ কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুর রউফ পাশাও জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেট ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকে বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে বর্শা নিক্ষেপ ও হাইজাম্পে স্বর্ণ বিজয়ী হন। এ ছাড়া ১৯৯০ সালে বর্শা নিক্ষেপ এবং ১৯৯৩ সালে হাই জাম্প ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন। আব্দুর রউফ পাশা বাংলাদেশ কাস্টমস সি দলের হয়ে নেপাল ও ভারতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে ক্রীড়া লেখক সমিতির বিচারে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার পান তিনি।

বশির আলীর বড় মেয়ে ডা: শাহানারা আলী গোলক, চাকতি নিক্ষেপ ও ১০০ মিটার দৌড়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। জাতীয় পর্যায়েও তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন।

২য় মেয়ে জাহানারা বেগম লক্ষী ১৯৮৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় জুনিয়র গ্রæপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী হন।

ছোট মেয়ে মনোয়ারা বেগম মনি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় গোলক, চাকতি ও বর্শা নিক্ষেপে স্বর্ণ পদক লাভ করেন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাচনে নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু তাকে আবারও অ্যাথলেটিক্সে সেবার সুযোগ করে দেয়ার জন্য কাউন্সিলর সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

তিনি অ্যাথলেটিক্সের ভবিষ্যত উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও রূপরেখা নিয়ে ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম জানান, দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্র্যায়ে সফলতা অব্যাহত রাখতে তৃণমূলে কাজ করবে তার পরিষদ। ট্রেনিং প্রোগ্রাম, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেনিং প্রোগ্রাম, চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, কোচ প্রশিক্ষণ, সর্বোপরি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বতন্ত্র অ্যাথলেটিক্স ভিলেজ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন তারা। বিদেশে খেলোয়াড় পাঠানোর নামে বন্ধ করবেন আদম ব্যবসা।

আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, খেলা-ধুলায় উন্নতির জন্য শুধু সরকার নয় বেসরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাথলেটিক্সকে সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাব ইনশাল্লাহ্।

এদিকে, বাংলাদেশ স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অব নর্থ আমেরিকা’র সভাপতি, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস, সাবেক জাতীয় খেলোয়ার মোশাররফ হোসেন খান, সাইদুর রহমান ডন, মোস্তফা হোসেন মুকুল, সাঈদ উর রব, আরিফুল হক, শাহজালাল মবিন, বিমল চন্দ্র তরফদার, ওমর ফারুক, কারার মিজান, ইলিয়াস হোসেন, রানা ফেরদৌস চৌধুরী, বক্সার সেলিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, সফিকুল ইসলাম জন, আকতার হোসেন ফজলু, আয়াজ খান, ছোট ইউসুফ, গোলাম মোস্তফা, আবদুল্লা সাইফ, আবদুর রউফ পাশা, মহিউদ্দিন দেওয়ান, নাজমুল ইসলাম, সৈয়দ এনায়েত আলী, শাহান উদ্দিন চৌধুরী, তৈয়বুর রহমান টনি, পিনাকি সেন, জাবেদ খসরু, লাকী চৌধুরী আখী, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনার কাওছারুজ্জামান কয়েছ, বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনু ও সাধারণ সম্পাদক আহবাব চৌধুরী খোকন সহ অন্যান্যরা অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ